প্রবাহ

আহমদুল ইসলাম চৌধুরী

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ
28

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি
সাম্প্রতিককালে দেশে শিক্ষার জাগরণ শুরু হয়েছে বলা যেতে পারে। শহরের পাশাপাশি গ্রামে-গঞ্জেও শিক্ষার ক্ষেত্রে জাগরণ শুরু হয়ে গেছে। প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল সরকারি মঞ্জুরীকৃত মাদরাসাসমূহ ছাত্র-ছাত্রীদের স্থান দিতে হিমশিম খাচ্ছে। শহরে পূর্ণ সরকারি স্কুলগুলোতে অনেক বাছাইয়ের পর স্বল্পসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়। বাকি অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে কিছু ছাত্র-ছাত্রী সরকারি মঞ্জুরীকৃত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে। তারপরেও বহু ছাত্র-ছাত্রী থেকে যায়। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে হউক, অর্থের লোভে হউক শহরে বিভিন্ন দালানাদি ভাড়া নিয়ে নানান চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ চিত্র সারা দেশের বড় বড় শহরগুলোতে দৃশ্যমান বলা যাবে।
গ্রামে-গঞ্জে বিভিন্ন ঘরে দালানে এ রকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ইহার মূলে অতি স্বল্প সময়ে মাত্র ১০/১৫ বছরের ব্যবধানে দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে সচেতনতার জাগরণ। এখন মানুষ সচেতন। দৈনন্দিন কুলি মুজুররা নিজেরা লেখাপড়া না করলেও তাদের সন্তান-সন্ততিরা যাতে লেখাপড়া করে মানুষ হয় সে লক্ষ্যে সচেষ্ট।
এ জাগরণ দেশের জন্য নিঃসন্দেহে কল্যাণকর। কিন্তু সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করা, আর্থিক যথাযথ যোগান দেয়া মনে হয় অতি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসছে না। ফলে এদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা অবহেলিত বলা যাবে। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি মঞ্জুরীকৃত এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে। তার উপর নতুন নিয়োগ পাওয়া হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি এমপিওভুক্ত থেকে বঞ্চিত থেকে চরম অবহেলিত বলতে হয়।
এ প্রসঙ্গে পিছনের দিকে তাকাতে চাই। ব্রিটিশ আমলে নবাব-জমিদাররা স্বউদ্যোগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। সমগ্র উপমহাদেশের কথা বাদ দিয়ে বাংলার কথাই বলি। এ বাংলায় বড় বড় শহরগুলোতে সরকার কিছু কিছু স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেও তা সেকালেও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। গ্রামে-গঞ্জে সরকারি প্রতিষ্ঠান করা তখন প্রশ্নই ছিল না। যেহেতু ব্রিটিশ আমলে শিক্ষার ক্ষেত্রে মানুষের আগ্রহ ছিল কম। অবশ্য সে সময় শিক্ষিতদের একালের মত কর্মস্থানের সুযোগও কম ছিল।
ব্রিটিশ আমলে শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নবাব-জমিদাররা সমাজ সচেতন ব্যক্তিদের কেউ কেউ অবস্থার প্রয়োজনের তাগিদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসেন। ব্রিটিশ আমলে এ সমস্ত গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি, অনুমোদন তথা মঞ্জুরী দেয়া বাদে আর্থিক অনুদানের ভূমিকা ছিল গৌণ। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতাকে আর্থিক যোগান দিতে হত। যেমনটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে ঘর আসবাবপত্র-শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ইত্যাদিতে অর্থ যোগান দেয়া অপরিহার্য ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে সচেতন ব্যক্তিরা নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়াত। দূরত্বে দূরত্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় এবং যোগাযোগ প্রতিকূলতায় হয়ত হোস্টেলের ব্যবস্থা করতে হত, নয়ত আশেপাশের ঘরবাড়িতে লজিং/জায়গীর থাকত। অনুরূপভাবে শিক্ষকগণকেও বিদ্যালয় প্রতিবেশীরা তাদের ঘরে থাকার সুযোগ সুবিধা দিতে এগিয়ে আসত।
১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের উপমহাদেশ বিভাগের পরও একই নিয়ম চালু ছিল। সরকারের অনুমতি অনুমোদন দেয়ার পাশাপাশি শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তা এসে পরিদর্শনের পর মঞ্জুরী নবায়নের ব্যবস্থা করা হত। শিক্ষককের কল্যাণে সরকারি আর্থিক সহায়তা ছিল খুবই নগন্য। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সহযোগিদের সহযোগিতায় ভবন, আসবাবপত্র নির্মাণ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ব্যয বহন করা হত।
তখন ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা যেমনি কম ছিল তেমনি বেতনসহ নানান ফি দেয়ার প্রবণতা তেমন ছিল না। সমগ্র বাংলায় ব্রিটিশ আমল থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে নানান প্রতিকূলতায় যাঁরা অবদান রেখেছেন তাঁরা স্মরণযোগ্য। ব্রিটিশ আমলের শেষের দিকে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দ থেকে সরকার শিক্ষকগণের কল্যাণে অল্পস্বল্প টাকা দেয়া শুরু করে। তা অবশ্য চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। শিক্ষক-কর্মচারীগণ এভাবে আর্থিক অবহেলিত থেকে দেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখে আসছিলেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ ডিসেম্বরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা পাকিস্তান আমলের মত ছিল। ঐ সময়ে তথা ১৯৭০ এর দশকে দ্রুত ধনী হওয়ার সুযোগটা কম ছিল। তারপরেও ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের কেউ কেউ নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে চালিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু ১৯৮০ দশকের শুরুতে সামরিক এরশাদ সরকার ক্ষমতায় এসে দেশে বহুমুখী উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়। এরশাদকে স্বৈরচার খারাপ বললেও তাঁর আমলটা যে দেশের জন্য তুলনামূলক অনেক ভাল ছিল তা অস্বীকার করা যাবে না। এরশাদ সরকারের আমলে দেশের নিম্ন মধ্যবিত্ত অসংখ্য ব্যবসায়ী শিল্পপতি দ্রুততার সাথে ধনী বা অতি ধনীতে পরিণত হয়। অনেকে শত শত বা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে যায়। এদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসে। এদের মাধ্যমে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা লাভ করায় তাদের দ্বারা যে শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এবং রাখছেন তা অস্বীকার করা যাবে না। ঐ সময় তথা ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর হতে শিক্ষক-কর্মচারীগণের স্বতন্ত্র নামে সরকারী বেতন প্রথা চালু হয় যাকে সংক্ষেপে এমপিও বলা হয়। নতুন পুরাতন সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়ে যায়। শুধু তাই নয় এরপর পরেও নতুন স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করলে সাথে সাথে এমপিওভুক্ত হওয়া সাধারণ ব্যাপার ছিল। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে সরকারের পতন হওয়ার পরেও কিছুদিন এমপিও ভুক্তি সহজতর ছিল। এ সময় প্রায় দশক বা তার কিছু বেশি সময় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ দিলে সরকার সাথে সাথে এমপিওভুক্ত করে নিত। কিন্তু ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে সরকার জনবল কাঠামো প্রথা চালু করে। অর্থাৎ বেসরকারি শিক্ষার ক্ষেত্রে উদার মনোভাব প্রথা সংকুচিত হওয়া শুরু হয়। প্রাইমারি স্কুল সরকারিকরণ সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়ায়। হাই স্কুল ও কলেজে কোটা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। অতিরিক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সেকশন আইন থাকলেও তা অনুমোদন করে নেয়া যেমন কষ্ঠাসাধ্য তেমনি অনুমোদনকৃত সেকশনের জন্য নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করাও সুদুর পরাহত হয়ে পড়ে। সরকার আর্থিক সমস্যা দেখিয়ে ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে আর্থিক ক্ষেত্রে যে নিয়ন্ত্রণ শুরু করে তা আজও বহাল রয়েছে।
দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে জাগরণের কারণে কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এত বেশি ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হচ্ছে যে তাদের ক্লাসে টুল-টেবিল, নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে বেতন প্রদান ছাত্র-ছাত্রীর বেতন থেকে নেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। বর্তমানে সারাদেশে এমপিও ভুক্ত শিক্ষকের পাশপাশি সম্পূর্ণ বেতন দিয়ে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ দিতে হচ্ছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে টাকা নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারী নিয়ম লংঘিত হবে স্বাভাবিক। সরকার প্রয়োজনীয় শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্ত করবে না, ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকাও নিতে পারবে না তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ৪০/৬০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে লেখাপড়া করা মানসম্পন্ন হবে না। বর্তমানে ৯০ জন ছাত্র-ছাত্রীর উপরে হলে আরেকটি সেকশন খোলা যাবে। তাও আবার একটি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত সেকশনের কয়টি ক্লাস এবং সাথে সাথে কয়জন শিক্ষক এমপিওভুক্ত থাকতে পারবে নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্ধারণ করার পরেও নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে নতুন আবেদনকৃত শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্ত না করে সরকার দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রেখেছে আর্থিক প্রতিকূলতার দোহাই দিয়ে। বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাগরণ চলছে। রিক্সাচালক, ঠেলাগাড়ি চালক, দিনমজুর গরীব দুঃখী চাকুরিজীবীরা শিক্ষা লাভ করতে না পারলেও তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা লাভ করাতে সচেষ্ঠ হচ্ছে।একালে বাস্তবতার প্রতিফলন হিসেবে গরীব দুঃখী কৃষক মজুরের সন্তান শিক্ষালাভ করে সরকারি, আধা সরকারি বা বেসরকারি বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে আসীনরত। তাঁরা আজ বড় বড় শিল্প ব্যবসায়ীর মেয়ে বা বড় বড় সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদেরকে বিয়ে করে এক জগত থেকে আরেক জগতে চলে এসেছে। অপরদিকে গরীব দুঃখী কুলি মজুরের মেয়েরা উচ্চপদে আসীন হয়ে বড় বড় জ্ঞানী গুনীদরকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করছে। ইহা একমাত্র শিক্ষার ফসল। সুন্দর পরিচ্ছন্ন সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হলে আমরাও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া হওয়া কোন ব্যাপার না। আমাদের একমাত্র প্রতিবন্ধকতা অসুস্থ রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হচ্ছে । এর খারাপ প্রতিফলন দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা খরচ করছে। গরীব দেশ হলেও বিলাসিতায় গা ভাসিয়ে দেয়া মনে হয় সরকারগুলো একমত। কিন্তু সরকারি মঞ্জুরীকৃত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি সরকার বৈষম্যের আচরণ করছেন বলা যায়। অন্যান্য খাতে ব্যয় সংকোচন করে এখাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা দরকার।
একদিকে সরকার-শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করবেনা অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে ছাত্রছাত্রীদের থেকে নিয়মের অতিরিক্ত টাকা নেয়া যাবেনা তা মনে হয় দ্বিমুখী মানসিকতা। এ প্রসঙ্গে বলতে হয়, সম্প্রতি ঢাকায় দেশের বিখ্যাত তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়ে। ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে নেয়া অতিরিক্ত টাকা কিভাবে খরচ হল বিবেচ্য বিষয়। আমার কাছে টাকা নেয়ার চেয়ে খরচটাই মুখ্য। ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে যদি শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতে গ্রহণযোগ্য জরুরি প্রয়োজনে ব্যয় করা হয় তাহলে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে গ্রহণযোগ্য। আর যদি অতিরিক্ত টাকা অপব্যয় বা অগ্রহণযোগ্য খরচ করা হয় তাহলে তার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। অপরদিকে, সাধারণত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে সেকশন না খুলে যদি সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত কোটা নির্ধারণ করে শক্ত অবস্থানে থেকে যায় তাহলে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ বিশাল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী কোথায় গিয়ে ঠাঁই নিবে।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য, চট্টগ্রামের বাঁশখালী বৈলছড়ি নজমুন্নেছা হাই স্কুলে ক’বছর আগে পরিচালনা কমিটির সভায় এরূপ এক উদ্যোগ নেয়া হয় যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত কোটা নির্ধারণ করে যাচাই-বাছাই করে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা। এরূপ করলে গ্রামের এ হাই স্কুল শহরের নামকরা সরকারি হাই স্কুলের মত সুনামের অধিকারী হবে। কিন্তু ভর্তিতে অযোগ্য হওয়া গ্রামাঞ্চলের শত শত শিক্ষার্থী কোথায় গিয়ে ঠাঁই নিবে। ফলে এ উদ্যোগ ভেস্তে যায়।
সম্প্রতি সরকার আবেদন জমা থাকা অনেক শিক্ষক-কর্মচারীকে এমপিও ভুক্ত করছে। কিন্তু বিগত ১০/১৫ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েও অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত রয়েছে। অপরদিকে, অনেক স্কুল-কলেজে অর্ধেক বা তার কিছু বেশি শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও ভুক্ত। অবশিষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম বেতন পেয়ে কর্মরত রয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমানবিক।
সরকারের উচিত হবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উদার হওয়া। যেহেতু ৩০ হাজারের কাছাকাছি বেসরকারী স্কুল,কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অতএব, শিক্ষক-কর্মচারী এমপিও ভুক্তি করা, এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারি স্কুল-কলেজ শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ সুবিধার কাছাকাছি নিয়ে আসা অপরিহার্য। সাথে সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে সম্প্রসারণে আরও দালান, আসবাবপত্র নির্মাণে অর্থ প্রদান করা আবশ্যক। সাথে সাথে সরকারি খবরদারি,নজরদারি বাড়াক যাতে শিক্ষার মান বেড়ে যায় এবং সুন্দর স্বচ্ছতায় পরিচালিত হয়।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি দাওয়া নিয়ে বাংলাদেশে একাধিক সমিতি রয়েছে। এ সমিতি শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি দাওয়া পূরণের নিমিত্তে আন্দোলন করুক, জেলা প্রশাসনে বা ঢাকায় গিয়ে দেন দরবার করুক, অবস্থান ধর্মঘট করুক সরকার যাতে এ ন্যায্য দাবি মানতে বাধ্য হয়। এ দাবির জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডেকে কোমলমতি শিক্ষার্র্থীদের বড় ধরনের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকতে তাদেরই শিক্ষাগুরু শিক্ষক সমাজের প্রতি ভেবে দেখার আহ্বান রাখছি।

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক ও কলাম লেখক

x