প্রবাসী আয় বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে

সোমবার , ১০ জুন, ২০১৯ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
42

বাংলাদেশ এবার প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে রেকর্ড করেছে। গণ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, গত মে মাসে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক যে পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন, বাংলাদেশের ৪৮ বছরের ইতিহাসে এক মাসে এতো পরিমাণ আয় আগে কখনো আসেনি। মে মাসে প্রবাসীরা ১৭৫ কোটি ৫৭ লাখ ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন। প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য সাড়ে ৮৪ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১৪ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা। যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণ করে থাকেন। বাংলাদেশে বেশি পরিমাণ প্রবাসী আয় আসে সৌদি আরব, কুয়েত, আরব-আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য থেকে। বৈদেশিক রেমিটেন্স থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে, যা দেশের আমদানির প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক। শুধু আমদানি নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে প্রবাসী আয়।
অর্থনীতিবিদের মতে, সেইসব দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মান অধিকতর শ্রেয় এবং মাথাপিছু আয়ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে, যার ফলে মূল্য স্ফীতি খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে। আর দরিদ্র শ্রেণিও তাদের অবস্থানের উন্নতি খুব ধীরে হলেও ঘটতে পারে। মূলত এই সবই দেশের ক্ষমতাসীন সরকারের কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে ঘিরে আবর্তিত হয়। কল্যাণমূলক কার্যক্রম মূলত কৃষি, শিল্পে, শিক্ষায়, চিকিৎসায়, পুনর্বাসন খাতসমূহে অধিক হারে সরকারি ব্যয় করার প্রবণতাকে বুঝিয়ে থাকে। কিন্তু এসবের বাইরে যে খাতটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে সেটি হলো রেমিটেন্স বা প্রবাসী আয়। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় উল্লেখযোগ্য হারে।
পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়,প্রবাসী আয় আসায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে তিন হাজার ১৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ডাচ-বাংলা, অগ্রণী ও সোনালী ব্যাংক। ঈদের কারণে প্রবাসীরা তাঁদের আত্মীয় স্বজনের কাছে অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি পরিমাণ বেশি হারে টাকা পাঠিয়েছেন। এই আয় যত বেশি আসবে, তত মঙ্গল দেশের। দেশের আমদানি চাহিদা মেটাতে এ আয় ভালো ভূমিকা রাখবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন।
বাংলাদেশের যে সব নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী নাগরিক হিসেবে রয়েছেন, তাদের সম্ভাবনাকে অবশ্যই পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। প্রবাসী বাঙালিরা বাস্তবিক পক্ষে দেশের স্বার্থে প্রবক্তা হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুবই কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন। প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকরা তাঁদের অর্জিত অর্থ স্বদেশে প্রেরণ করে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সবসময় সচেষ্ট। এছাড়া তাঁদের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশে বিনিয়োগও করতে পারেন। এটি বাংলাদেশে বিনিয়োগের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ উৎস হতে পারে। এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি। দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন এমন বাংলাদেশিদের মধ্যে সম্ভবত বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাই সর্বোত্তম। তাঁরা দৃষ্টিভঙ্গিতে যেমন আধুনিক ও উদার, তেমনি নানা অভিজ্ঞতায়ও অভিজ্ঞ। তাঁরা চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে জানেন, নানা পরিবর্তনের সঙ্গে একাত্ম হতে পারেন। তাই বাংলাদেশি প্রবাসীদের সাথে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিবিড় সম্পর্ক থাকা উচিত। তাদের স্বদেশে বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ ও বিনিয়োগ করার জন্য সবসময় উৎসাহ জোগানো উচিত। প্রবাসী বাঙালি উদ্যোক্তা, যাঁরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী, বিশেষ করে, যাঁরা জোন ভিত্তিক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি এবং সূক্ষ্ম প্রকৌশলমূলক শিল্পে পুঁজি বিনিয়োগ করতে চান, তাঁদের বাড়তি আর্থিক উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ তাদের সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে আয়কর সুবিধা প্রদান করাও জরুরি। প্রবাসী আয় যাতে আরো বৃদ্ধি পায়, তার জন্য উদ্যোগী হতে হবে। এবারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের চেষ্টার ফলে প্রবাসীরা এতো পরিমাণ টাকা দেশে পাঠিয়েছেন। আগামীতে ব্যাংকগুলোর ইতিবাচক তৎপরতা বাড়াতে হবে। এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পাশাপাশি ডলারের সংকটও কমবে নিঃসন্দেহে।

x