প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ ও জনশক্তি প্রসঙ্গে

শনিবার , ৩ নভেম্বর, ২০১৮ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ
23

রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। সেই রেমিট্যান্স যখন হ্রাস পায় তখন উদ্বিগ্ন না হয়ে পারা যায় না। রেমিট্যান্স ধসের কারণে সরকারি মহলও বিচলিত। অর্থমন্ত্রী স্বয়ং বলেছেন, অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্সের প্রবাহ কমে যাওয়া প্রধান। তিনি এর কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন, আমাদের রেমিট্যান্সের বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তেলের দাম বাড়েনি। ফলে তাদের বাজেট ঘাটতি হয়েছে। এ কারণে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের আয় কমে গেছে। অস্বীকার করার উপায় নেই যে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। বাজেট ঘাটতিও হয়েছে। এর প্রভাব বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও কর্মরত বিদেশিদের আয়ে পড়া অসম্ভব বা অস্বাভাবিক নয়। সৌদি আরব, আরব-আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইন এই ছ’টি দেশ থেকে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের ৫৮ দশমিক আট শতাংশ আসে। জানা গেছে এসব দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে অনেক কম। কারণ যা-ই হোক এবং তা যত বাস্তব ও যৌক্তিক হোক না কেন। রেমিট্যান্স প্রবাহে ধারাবাহিক হ্রাস দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অশনি সংকেত। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশির বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। তারপরও রেমিট্যান্স প্রবাহে কাম্য গতিশীলতা আসেনি। কেন আসেনি বা আসছে না সেটা আরো গভীর ভাবে খতিয়ে দেখার দাবি রাখে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অর্থনীতি এতটা অবনত অবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, তারা তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্লথ করেছে কিংবা বন্ধ করে দিয়েছে। বরং তারা অন্যান্য দেশ থেকে ঠিকই জনশক্তি আমদানি করছে। বাংলাদেশ সেখানে নেই কেন? তা যথাযথ বিবেচনার অবকাশ রাখে। রেমিট্যান্স বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে আমরা মনে করি। এর পথ হলো অধিক সংখ্যায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাড়ানো। দেশে দক্ষ অদক্ষ, জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা আছে। কম বা অধ্যক্ষ জনশক্তির চাহিদাও কোনো কোনো দেশে রয়েছে। বিভিন্ন দেশের চাহিদা নিরুপন করে জনশক্তি রফতানির উদ্যোগ নেওয়া হলে বিদেশে কর্মসংস্থানই শুধু বাড়বে না, একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহও বাড়বে। উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিকাশের স্বার্থে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেই হবে।
– এম.এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x