প্রফেসর ডা. মমতাজ বেগম : অনন্য ব্যক্তিত্ব

এমিলি মজুমদার

বৃহস্পতিবার , ১১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
778

প্রফেসর ডা: মমতাজ বেগম। বর্তমানে মা ও শিশু হসপিটাল মেডিকেল কলেজে এ্যানাটমি বিভাগে কর্মরত। আমাদের মমতাজ আপা। সকালে হাঁটার সুবাদে আপার সাথে পরিচয়। ছিপছিপে, লম্বা, একহাড়া গড়নের আপা এখনো যখন শাড়ি পরেন, চশমা চোখে, মাথায় কাপড় দিয়ে হেঁটে আসেন, আলাদা ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তাঁর চলনে, কথায় , পোশাকে, ব্যবহারে। খুবই সাধারণ পরিপাটি জীবন যাপন করেন আপা। আপার সবকিছুতে পরিমিতিবোধ শিক্ষণীয়। আপাকে দেখতে দেখতেই আপাকে নিয়ে লিখার ইচ্ছে তৈরি হয়। প্রতিদিনই আপা থেকে কিছু না কিছু শিখছি। শিখছি সব রকম পরিস্থিতিতে নিজেকে কিভাবে ভালো রাখা যায়। এই বয়সেও আপা চঞ্চল, তবে চিন্তায় আপা সুস্থির। দৃঢ় মনোবলের অধিকারী। আপা ধার্মিক, কিন্তু গোড়া নয়। আপা সংস্কৃতিমনা, হাঁটতে হাঁটতে গুন গুন করে প্রায়ই গেয়ে ওঠেন গান। ফুল খুব ভালোবাসেন, তাই ফুল গাছে কেউ হাত দিলেই আপা খুব রেগে যান, হোক না সে অন্যের গাছ। আপা কর্মঠ, একটু সময় ও কাজ ছাড়া বসে থাকতে পারেন না। পেশাগত জীবনের বাইরেও আপা ভালোবাসেন এটা-ওটা রাঁধতে, সোয়েটার বুনতে, হাতের কাজ করতে, বাগান করতে, পেইন্টং নিয়েও নিজেকে ব্যস্ত রাখেন অনেক সময়। আপা কবিতা লিখেন মাঝে মাঝে, তা একান্তই নিজের জন্য। দান করেন, তবে তা লোক দেখানো ভিখারীদের নয়। এমন জায়গায় দান করেন, যেখানে দানের অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবেন তিনি নিজেই। সবসময়ই ভাবেন কল্যাণকর কি করা যায় আপা আমাদের নিত্যদিনের অনুপ্রেরণা।
ডা: মমতাজের জন্ম বরিশাল শহরে। মা – মরিয়ম বেগম, গৃহিণী। বাবা সিরাজুল হক ছিলেন প্রকৃত শিক্ষানুরাগী। মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে তিনি ছিলেন অত্যন্ত যত্নশীল। নিজের ছয় মেয়ে ছাড়াও আত্মীয় পরিজনদের পরিবারের মেয়েদের পড়াশুনার ব্যাপারেও তিনি যথেষ্ট চেষ্টা ও সহযোগিতা করতেন। আর এ কারণেই হয়তো বংশপরম্পরায় পরবর্তীতে উনার ছয় মেয়ের মধ্যে চারজনই শিক্ষকতায় জড়িয়ে পড়েছেন।
আপার স্কুল ছিল ‘পটুয়াখালী গার্লস হাই স্কুল’। কিন্তু এস এস সি দিতে হয়েছিল “পটুয়াখালী। লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী” থেকে। এটা ছিল একটা বয়েজ স্কুল । সে বয়েজ স্কুল থেকে আপা’ই একমাত্র মেয়ে, যে এস এস সি দিয়েছিলেন। সনটা ছিল ১৯৬৫। এর আগে কোন মেয়ে এ স্কুল থেকে এস এস সি দেয়নি, পরেও আজ অবধি আর কোন মেয়ের প্রয়োজন পড়েনি এ বয়েজ স্কুল থেকে পরীক্ষা দেয়ার। এর পেছনে অবশ্য একটা মজার কারণ রয়েছে –
আপা যখন ক্লাস নাইনে, তখন উনার গালর্স স্কুলে সায়েন্স ছিল না। কিন্তু আপার স্বপ্ন ছিল সায়েন্স নিয়ে পড়ে ডাক্তার হবার। আপার বাবারও ইচ্ছে ছিল তাই।
স্কুল চেষ্টা চালাছিল সায়েন্স শুরু করার। স্কুলে সায়েন্স না থাকলেও আপা নিয়মিত বাড়িতে সব সায়েন্সের বই পড়ছিলেন। বছর শেষ হলো, আপা নাইন থেকে টেনে উঠলেন। কয়েকমাস পরও যখন স্কুল সায়েন্স শুরু করতে পারলো না, আপা স্কুল যাওয়া বন্ধ করে কান্নাকাটি শুরু করেন। কান্নাকাটিতে টিকতে না পেরে আপার বাবা আর স্কুলের হেডমাস্টার চেষ্টাচরিত্র করে, বোর্ড থেকে স্পেশাল পারমিশন নিয়ে পটুয়াখালি লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারী বয়েজ স্কুলে আপাকে ভর্তি করিয়ে দেন। আপা’ই একমাত্র মেয়ে ছিল বয়েজ স্কুলটাতে। শিক্ষকের সাথে ক্লাসে যেতেন, আবার শিক্ষকের সাথে বের হয় আসতেন। একটা টেম্পোরারী হাফ পার্টিশন দেয়া হয়েছিল ক্লাসে আপাকে আলাদা বসাবার জন্য । ভর্তি হবার পর প্রিটেস্টে সেকেন্ড পজিশন পেলেও, টেস্ট পরীক্ষায় প্রথম স্থানটি থেকে ছেলেদের হটিয়ে নিজে দখল করেছিলেন। পরে এস এস সি তে সাবডিভিশনে উনিই একমাত্র মেয়ে ফার্স্ট ডিভিশন পেয়েছিলেন । তখন আশপাশের অনেক এলাকা থেকে অনেকেই শুনেছি আপাকে একনজর দেখতে এসেছিলেন।
১৯৬৭ সনে এইচ এস সি পাস করেন বর্তমান বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, ঢাকা… তৎকালীন গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ থেকে। এই সময়টাতে আপার হঠাৎ ঝোঁক চেপে বসেছিল ফাইন আর্টস নিয়ে পড়ার । মোটামুটি জেদ ধরে বসেছিলেন যে ফাইন আর্টসেই পড়বেন। বাবার বকুনিতে সন্বিত ফিরে আসে, যখন বাবা বলেন ফাইনআর্টস পড়লে তিনি পড়ার খরচ দেবেন না। ওই যে মাথা থেকে ফাইন আর্টস এর ভূত দূর হয়েছে, তা আর ফিরে আসেনি। তবে সুযোগ পেলে এখনো স্কেচ নিয়ে বসে যান মনের ক্ষুধা মেটাবার জন্য।
ডা: মমতাজ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি বি এস শেষ করেন ১৯৭৩ সনে । পরে তিনি শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন । নিজ ছেলেদের যাতে সময় দিতে পারে , তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত ছিল আপার। ১৯৭৫ ্ত২০০৭ থেকে চিটাগাং মেডিকেল কলেজে শিক্ষকতা করেন এনাটমি বিভাগে। ১৯৮২ -৮৩ সিডনি ইউনিভার্সিটি কাটিয়েছেন এনাটমি ডিপার্টমেন্টে উচ্চতর প্রশিক্ষণে, হু স্পন্সার্ড ডেপুটেশন এ। ফিরে এসে আবার চট্টগ্রাম মেডিকেল জয়েন করেন। বর্তমানে ২০০৬ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত মা ও শিশু হসপিটালে’র এনাটমি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন । বর্তমানেও তিনি মা ও শিশু হসপিটালে অধ্যাপনা করছেন।
আপার এই দীর্ঘতম শিক্ষকতা জীবনে, বোধকরি হাজার হাজার মেডিকেল স্টুডেন্ট আপার কাছে পাঠ গ্রহণ করে উপকৃত হয়েছে। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে মাথা উঁচু করে সেসব স্টুডেন্ট। প্রায় সময় কথায় কথায় স্মৃতিচারণে উঠে আসে সেসব দিনের কথা। আপার জীবনে অনেক বড় পাওয়া এটা। এ ছাড়াও আপা অনেক জায়গায় মোটিভেশনাল লেকচার দিয়ে থাকেন। আপা বিশ্বাস করেন মোটিভেশনের মাধ্যমে জীবনবোধ উন্নত করা যায় । সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বর্তমান অস্থিরতার যুগে ছেলেমেয়েরা ডিপ্রেসনে ভুগে বেশি। এই ক্ষেত্রে মোটিভেশন একান্ত প্রয়োজন। এই কারণেই কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে ১৮-১৯ বছর ধরে মোটিভেশনাল স্পীকার হিসেবে কাজ করছেন আপা। সমাজের জন্য মঙ্গলকর এ কাজগুলো আপাকে মানসিক প্রশান্তি দেয় ।
বিয়ে হয় ১৯৭৪ ২৭’শে ডিসেম্বর ফরিদপুর নিবাসী মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ার কাজী শহীদুল ইসলামের সাথে । শ্বশুর ছিলেন ডাক্তার, ১৯৩২ সনে কোলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এম বি করেছিলেন । পাশ করে সেবার জন্যই তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। আট বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে শহীদ ছিলেন অষ্টম। শহীদ বুয়েটের ১৯৭০ ব্যাচ । বুয়েটে থাকাকালীন ছাত্ররাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন। যুদ্ধের সময় খবর আসে ওই এলাকার পাকিস্তানী বাহিনীর লিস্টে তাঁর নাম রয়েছে। একথা কানে আসার সাথে সাথে পরিবারের সবাই তাঁকে ভারতে পাঠিয়ে দেন ।আপার শ্বশুর মশায় আবার অত্যন্ত সংস্কৃতিপ্রেমী ছিলেন। প্রতিটা ছেলেমেয়ে গান জানতো। যে কোন অনুষ্ঠান উপলক্ষে সামিয়ানা টাঙিয়ে বাড়িতে গানের আসর বসতো। সবাইকে সেখানে বাধ্যতামূলেক অংশগ্রহণ করতে হতো । শাশুড়ীর গান দিয়ে শুরু হতো আসর। সুন্দর গাইতে পারতেন তিনি। তাছাড়া অবসরে তাঁর খুব লিখার অভ্যাস ছিল । চারদিকে দেখা নিজের মনের কথাগুলো তিনি কাগজে লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। মাঝে মাঝে ‘বেগমে’ পত্রিকাতে লিখা পাঠাতেন । পরবর্তীতে ছেলেমেয়েরা মায়ের লিখাগুলো একত্রিত করে দুটো বই বের করে।
শহীদও খুব ভালো গান গাইতে পারতেন। আমরা জানি যুদ্ধের সময় সাংবাদিক শিল্পী সাহিত্যিক সাংস্কৃতিক কর্মীরাও বসে থাকেনি। শ্রী দীপেন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘বাংলাদেশ সহায়ক সমিতি’ নামে একটা প্রতিষ্ঠান গড়া হয়েছিল, যার পরিচালক ছিলেন অধ্যাপক ওয়াহিদুল হক এবং সভাপতি ড. সানজিদা খাতুন। এঁদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় প্রায় শতাধিক শিল্পীকে একত্র করা গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১১৭ জনে। যাদের মধ্যে কণ্ঠশিল্পী, চিত্রশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রী, কবি সাহিত্যিক, সুরকার, গীতিকার সহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন নিবেদিত সদস্য রাতদিন পরিশ্রম করে সমিতির কাজ করে যেতে লাগল।
এঁদের মধ্য থেকে বাছাই করে গড়া হল ‘বাংলাদেশ মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’ নামে একটি গানের দল। শহীদুল ইসলাম এই দলের হয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, মোস্তফা মনোয়ার, শাহীন মাহমুদ , ডালিয়া নওশীন , কিরণ চন্দ্র রায়, হাসান ইমাম, লায়লা হাসানের মতো গুণীশিল্পীদের সাথে । সেখানেই সকাল সন্ধ্যা রিহার্সাল করে ছেলেমেয়েরা জাগরণের গান কণ্ঠে ধারণ করে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ত। দেশ স্বাধীনের পর “মুক্তির গান” ছবিটাতেও তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। শহীদুল সাহেব পেশায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার হওয়াতে, সৃষ্টিতে ছিল তাঁর আনন্দ। তিনি নতুন নতুন স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসতেন। স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য রাতদিন পরিশ্রম করতেন। তাঁর হাতে গড়া কনফিডেন্স সিমেন্ট অন্যতম। এ ছাড়াও কনফিডেন্স সল্ট, প্রিমিয়ার এল পি গ্যাস উল্লেখযোগ্য। স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেয়াতেই ছিল তাঁর তৃপ্তি । সম্পদ বা যশ কোনটার প্রতি তাঁর আসক্তি ছিল না তাঁর। সংস্কৃতপ্রেমী ছিলেন দুজনেই। চার ছেলের নাম শুনলেই কিছুটা অনুমান করা যাবে তা -কিংশুক, কৌশিক, সৌভিক, সৌনক। চার ছেলেকে, চার রত্ন হিসেবে গড়ে তুলেছেন আপা।
কিংশুক : এইচ এস সি ‘তে কুমিল্লা বোর্ডে সপ্তম স্ট্যান্ড করেছিল। পরে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল কনসাল্টেন্ট হিসেবে কর্মরত। কৌশিক : চার্টার্ড একাউন্টেন্সি করেছে লন্ডন থেকে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত। সৌভিক : মাস্টার্স -ইন-ফিন্যান্স , ডালাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে. বর্তমানে কানাডাতে কর্মরত। সৌনক : বুয়েট থেকে বের হয়ে পি এইচ ডি করছে আমেরিকার এক ইউনিভার্সিটিতে ।
প্রতিটা ছেলেই মেধাবী ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি, ধর্মীয় অনুশাসনের মাঝে রেখেও সমানতালে সংস্কৃতি চর্চাও চালিয়ে গেছেন প্রতিটা সন্তানের। ২০১১সালের ২৪ শে আগস্ট মাত্র ৬২ বছরে লিভার সিরোসিসে মারা যান শহীদ।
আপা জানেন বিপদে কিভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে বিপদের মোকাবিলা করতে হয়। কিছুদিন আগে পড়ে গিয়ে আপার পায়ের পাতায় ফ্র্যাকচার হয়েছিল। আপাকে কোন সময় ডিপ্রেস্‌ড দেখিনি। যখনই কথা হতো, বা ভিডিও কলে দেখতাম, সেই একই হাসি মুখ। কোন অনুযোগ বা বিরক্তি দেখিনি চোখেমুখে। সবকিছুকে “পার্ট অফ লাইফ” হিসেবে গ্রহণ করার এক অসাধারণ ক্ষমতা আছে আপার মধ্যে। এর আগেও একবার ফ্রোজেন শোল্ডার হয়ে আপা খুব কষ্ট পেয়েছিলেন । রাত জেগে ব্যথায় বসে থাকতেন আপা, শুতে পারতেন না। কিন্তু আপা সেই রাত জাগাটাকেও সুন্দরভাবে কাজে লাগিয়েছেন, এক এক করে করেছিলেন অনেক স্কেচ পোর্ট্রেট। এখনো ছুটিতে যখন ছেলেদের কাছে দেশের বাইরে যান, সময় কাটাবার জন্য সাথে সাথেই হয়তো সোয়েটার বুনানো শুরু করেন। আজ এটা, কাল ওটা সুন্দর সুন্দর সব খাবার তৈরি করেন, বিভিন্ন পিঠা পায়েস বানানোতেও আপার জুড়ি নেই। এখনো অসীম ধৈর্য আপার। ডাক আসলেই ছুটে যান সেবামূলক কাজে । খুঁজে ফেরেন কাকে কিভাবে প্রকৃত সাহায্য করা যায়। ওপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করি, আপার বাকী জীবনটা যেনো এভাবেই কেটে যায়। আপার সু-স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করছি ।
লেখক : প্রাবন্ধিক, গল্পকার

x