প্রথম তালিকায় ঠাঁই হয়নি ৮ হাজার ৫৫৩ শিক্ষার্থীর

একাদশে ভর্তি ।। আবেদন করতে হবে পুনরায়

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ
27

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কলেজগুলোতে আবেদন করেও প্রথম মেধা তালিকায় ঠাঁই হয়নি ৮ হাজার ৫৫৩ শিক্ষার্থীর। গত ৯ জুন রাতে একাদশে ভর্তির প্রথম মেধা তালিকা প্রকাশ করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি। তালিকায় চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য মোট ৯৯ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়। এর মধ্যে বিজ্ঞানে ২০ হাজার ৭১ জন, ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৬ হাজার ৯৫০ জন এবং মানবিকে সর্বোচ্চ ৪২ হাজার ৬৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী। সে হিসেবে আবেদনকারীদের মধ্যে ৮ হাজার ৫৫৩ শিক্ষার্থী প্রথম তালিকায় ভর্তির জন্য কোনো কলেজ পায়নি। প্রথম তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া এসব শিক্ষার্থীকে আগামী ১৯ ও ২০ জুন (দুই দিনের মধ্যে) পুনরায় আবেদন করতে হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, এসব শিক্ষার্থীকে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (ষষষ.সধডফট্র্রটঢবধ্র্রধমভ.থমশ.ঠঢ)-এ গিয়ে পুরনো আবেদনে কলেজ পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে হবে। অর্থাৎ আগের পছন্দ করা কলেজগুলো পরিবর্তন করে নতুন করে পছন্দক্রম দিতে হবে। তবে এসব শিক্ষার্থীকে আর আবেদন ফি দিতে হবে না বলেও জানান তিনি।

তবে প্রথম মেধা তালিকায় মনোনীত হয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন না করা শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে জানিয়ে এই কলেজ পরিদর্শক বলেন, এসব শিক্ষার্থীকেও পুনরায় আবেদন করতে হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটির প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী১ম মেধা তালিকায় (৯ জুন রাতে প্রকাশিত) মনোনীতদের ১৮ জুনের মধ্যে তাদের ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। আর এই নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে টেলিটক বা মোবাইল ব্যাংকিং রকেট ও শিওর ক্যাশের মাধ্যমে। যাতে বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১৮৫ টাকা জমা দিতে হবে। ১১ জুন বেলা ১২টার পর থেকে এই ফি গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের (১৮ জুন) মধ্যে বোর্ড ফি প্রদান করে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। তাই মনোনীত হওয়ার পর (তালিকায় স্থান পাওয়ার পর) শিক্ষার্থী কর্তৃক ভর্তি নিশ্চায়নের বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক। তিনি আজাদীকে বলেন, একজন শিক্ষার্থী একটি কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হওয়ার পরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ডের ফি বাবদ ১৮৫ টাকা প্রদান করে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে ব্যর্থ হলে তার মনোনয়ন বাতিল বলে গণ্য হবে। পাশাপাশি তার আবেদনটিও বাতিল হয়ে যাবে। তাই মনোনীত হওয়ার পর ভর্তি নিশ্চায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। এটি কেবল ১ম মেধা তালিকায় স্থান পাওয়াদের ক্ষেত্রেই নয়, সবকয়টি মেধা তালিকায় স্থান পাওয়াদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। অর্থাৎ কলেজে ভর্তির জন্য তালিকায় স্থান পেলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বোর্ড ফি বাবদ ১৮৫ টাকা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে অবশ্যই জমা করতে হবে।

এদিকে, প্রথম দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে দ্বিতীয় দফায় আবেদনের সুযোগ থাকছে ১৯ থেকে ২০ জুন। প্রথম মেধা তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া এবং মনোনীত হয়েও নিশ্চায়ন করতে না পারা শিক্ষার্থীরা এ সময়ে আবেদন করতে পারবে। আবেদন গ্রহণ শেষে ১ম দফায় মাইগ্রেশনের ফল ও দ্বিতীয় দফায় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২১ জুন। মাইগ্রেশন হবে স্বয়ংক্রিয়। মাইগ্রেশনের জন্য আলাদা করে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়নি এবার।

দ্বিতীয় তালিকায় ভর্তির জন্য মনোনীতদের ২২ জুন থেকে ২৩ জুন নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচিত শিক্ষার্থী এই সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে মনোনয়ন ও আবেদন বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। ২য় দফায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে ৩য় দফায় আবেদনের সুযোগ থাকছে ২৪ জুন। আবেদন গ্রহণ শেষে ২য় দফায় মাইগ্রেশনের ফল ও ৩য় দফায় মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ জুন। ৩য় তালিকায় মনোনীতদের নিশ্চায়ন করতে হবে ২৬ জুনের মধ্যে। নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া শেষে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ২৭ জুন। ৩০ জুন পর্যন্ত এই ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আর ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই।

আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি সূত্রে জানা যায়একাদশ শ্রেণি ভর্তিতে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীন কলেজগুলোতে সাড়ে ৫ লাখেরও বেশি (৫ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫৫টি) আবেদন জমা পড়ে এবার। অনলাইনে (ওয়েবসাইট ও এসএমএস’র মাধ্যমে) মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৮ জন শিক্ষার্থী এসব আবেদন করেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২৭ হাজার ১১১ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৭৮৯ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪৪ হাজার ৮৩৩ জন শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের অধীন কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য আবেদন করে। প্রথম মেধা তালিকায় কলেজ না পেলেও সামগ্রিকভাবে আসন সংকট হবে না দাবি করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক বলেন, বোর্ড অনুমোদিত চট্টগ্রামে ২৬০টি কলেজ রয়েছে। এসব কলেজে আসন সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার। আর এবার এসএসসি পাশ করেছে মোট ১ লাখ ২ হাজার ৩৭ জন। চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে আবেদন করেছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৩৮ জন। মাদ্রাসা ও কারিগরির পাশাপাশি অন্যান্য বোর্ড থেকেও অনেক শিক্ষার্থী চট্টগ্রামের কলেজগুলোতে আবেদন করেছে। ফলে মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে সবমিলিয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা আমাদের মোট আসন সংখ্যার তুলনায় কম। যার কারণে সামগ্রিক ভাবে চট্টগ্রামে আসন সংকট হবে না। সব শিক্ষার্থীই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। যারা প্রথম তালিকায় মনোনয়ন পায়নি, তাদের পরবর্তী তালিকায় মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক।

উল্লেখ্য, এবার সর্বোচ্চ ১০টি কলেজে আবেদনের সুযোগ ছিল ভর্তিচ্ছুদের। আবেদনকৃত কলেজগুলির মধ্য থেকে যোগ্যতা ও পছন্দক্রম সাপেক্ষে একটি মাত্র কলেজে এবার ভর্তির জন্য মনোনীত করা হচ্ছে একজন শিক্ষার্থীকে।

x