প্রত্যেক রোহিঙ্গা পাবে কোরবানির মাংস, বাদ যাবে না স্থানীয়রাও

রফিকুল ইসলাম, উখিয়া

রবিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
101

উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের এ বছরও কোরবানি পশুর মাংস বিতরণ করা হবে। উখিয়া টেকনাফের ৩২টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ২ লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণের লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো কাজ করছে বলে জানা গেছে। একই সাথে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যেও কোরবানির মাংস বিতরণ করা হবে। জানা গেছে, রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের মতো পশু পাওয়া গেছে। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন
কমিশন অফিস ইতোমধ্যে তালিকা প্রণয়ণের কাজ চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়দের মাঝেও বিতরণ করা হবে কোরবানির মাংস। ঈদের নামাজের জন্য প্রতিটি ক্যাম্পে থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। রোহিঙ্গাদের মাঝে বিতরণের জন্য যতগুলো পশু পাওয়া যাবে তার ৩০ ভাগ স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। প্রতিটি পরিবারই কোরবানির মাংস পাবে বলে জানান তিনি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) সামশুদ্দোজা বলেন, আমরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জন্য এখন পর্যন্ত আড়াই হাজারের মতো পশু পেয়েছি। সেখান থেকে ক্যাম্পগুলোর পরিবার অনুযায়ী হিসেব করে জবাইয়ের জন্য পশু পাঠানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্যাম্প ইনচার্জদের তত্ত্বাবধানে এ মাংস বণ্টন করা হবে। কোরবানির দুই দিন পরও মাংস বিতরণ কার্যক্রম চলবে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৭। পরিবার রয়েছে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার। সূত্র মতে, তুরস্ক ভিত্তিক এনজিও ডায়নেট ফাউন্ডেশন ৫০ হাজার কেজি মাংস বিতরণ করবে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মাঝে। কোরবানির মাংস বিতরণে প্রশাসনিক উদ্যোগের বাইরেও অনেকে এরকম বিচ্ছিন্নভাবে মাংস বিতরণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল শনিবার চট্টগ্রামের একটি বিতর্কিত সংস্থা উখিয়ার কয়েকটি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মাঝে বেশ কিছু গরু বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে অনেকে বিভিন্ন অননুমোদিত সংস্থার নাম ভাঙিয়ে গরুর মাংস বিতরণের নামে বিভিন্ন দেশি বিদেশি সংস্থা ও ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া ইউএনও নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান, এ ধরনের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পগুলোতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। শনিবার এ ধরনের কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থাকে জেলা প্রশাসক অফিসে যোগাযোগ করে অনুমতিপত্র নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা স্থানীয় ও রোহিঙ্গাদের মাঝে গবাদিপশু বা মাংস বিতরণ করতে পারবে না বলে জানান তিনি।

x