প্রত্যাশিত জয় দিয়ে সেমিতে বাংলাদেশের মেয়েরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
22

সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে একটি ম্যাচ জিতলেই বাংলাদেশের সেমিফাইনাল নিশ্চিত ছিল। আর সে ম্যাচের প্রতিপক্ষ যেহেতু চেনা জানা ভুটান, তাতে জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। শেষ পর্যনত্ম সে প্রত্যাশিত জয় দিয়েই সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আগে কখনোই বাংলাদেশের কাছে পাত্তা না পাওয়া ভুটানের মেয়েরা গতকাল কিন্তু প্রথমার্ধে ঠেকিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশকে। তবে হার এড়াতে পারেনি ভুটান। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মিলল কাঙ্খিত গোল। শেষ দিকে দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন সাবিনা খাতুন। আর তাতেই ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে উঠে গেল বাংলাদেশ। নেপালের বিরাটনগরের শহীদ রঙ্গসালা স্টেডিয়ামে গতকাল ভুটানকে ২-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সাফে এ নিয়ে ভুটানের বিপক্ষে তৃতীয় এবং সব মিলিয়ে অষ্টম জয় পেল বাংলাদেশ। এদিকে টানা দুই হারে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেলো ভুটান। নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছিল তারা।
বাংলাদেশের জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে নেপালেরও শেষ চারে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেল । আগামীকাল শনিবার ‘এ’ গ্রুপের সেরা হওয়ার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং নেপালের মেয়েরা। খেলার শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকা বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে তেমন কোনো পরীক্ষা নিতে পারেনি। বল দখলে রাখলেও গোল করার মত তেমন কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেনি। যদিও খেলার ষষ্ঠ মিনিটে মারিয়া মান্ডা শট নিয়েছিলেন। কিন্তু চলে যায় সরাসরি ভুটানের গোলরক্ষকের গস্নাভসে। ১১ মিনিটে আরো একটি সুযোগ নষ্ট করেন সিরাত জাহান স্বপ্না। আঁখি খাতুনের লম্বা করে বাড়ানো বল গোলমুখে পেয়ে যান স্বপ্না। কিন্তু আগুয়ান গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে লক্ষ্যভেদ করতে গিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে মারেন তিনি। ৩০ মিনিটে সাবিনা খাতুনের দূরপালস্নার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে না গেলে এগিয়ে যেতে পারতো বাংলাদেশ। ছয় মিনিট পর গোলরক্ষক বরাবর শট নিয়ে আরো একবার হতাশা বাড়ান এই ফরোয়ার্ড। ৪১ মিনিটে শামসুন্নাহারের বাড়ানো বলে মিশরাত জাহান মৌসুমীর শট জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল হয়নি। ফলে হতাশা যেন আরো বাড়ে বাংলাদেশ শিবিরে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশের মেয়েরা। আর তাতেই গোলের দেখা পেয়ে যায় গত আসরের রানার্সআপ বাংলাদেশ। মনিকা চাকমার কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় হেড করার পর জটলার মধ্য পেয়ে যান মৌসুমী। আর সেখান থেকে টোকা দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মৌসুমী। গোল খেয়ে তেথে উঠা ভুটান সমতা ফেরানোর একটি সুযোগ পেয়েছিল পরক্ষণেই। কিন্তু সতীর্থের কর্নারে ইডোন দর্জির শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে সমতা ফেরানো হয়নি ভুটানের। অপরদিকে খেলার ৮২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়নি সঙ্গিতা মনগেরের দৃঢ়তায়। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠা শামসুন্নাহারের ক্রস থেকে পাওয়া বল তহুরা খাতুন বাড়ান স্বপ্নাকে। গত সাফে পাঁচ গোল করা এই ফরোয়ার্ডের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফেরান ভুটান গোলরক্ষক। তবে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে সময় বেশি নেয়নি বাংলাদেশ। তিন মিনিট পর সাবিনার একক প্রচেষ্টার গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেয় বাংলাদেশ। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন গত সাফে ছয় গোল করা এই ফরোয়ার্ড। অতিরিক্ত সময়ে শিউলি আজিমের বাড়ানো বলে তহুরার নেওয়া শট সাইডবার ঘেঁষে বেরিয়ে গেলে আরো একবার গোল বঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ২০১০ সালের প্রথম আসরে নিজেদের মাঠে ভুটানকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে সাফে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১২ সালে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল দল। আর সে ধারাবাহিকতা বজায় থাকল এবারের আসরেও। এখন নেপালকে হারয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার অপেড়্গা বাংলাদেশের মেয়েদের।

x