প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরেও স্থায়ী রূপ পায়নি সঙ্গীত ভবন

নীল কমল ধ্রুব

বৃহস্পতিবার , ৩১ মে, ২০১৮ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
46

চট্টগ্রামে সঙ্গীতের বাতিঘর হিসেবে পরিচিত সঙ্গীত ভবন। ১৯৬৬ সালে প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত ও বনবীথি সেনগুপ্তার হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি শাস্ত্রীয়সহ সংগীতের নানান ক্ষেত্রে তৈরি করেছে অসংখ্য গুণী শিল্পী। প্রতিষ্ঠার ৫২ বছরে এসে নগরীর প্রবর্তক এলাকার ও.আর নিজাম রোডের জরাজীর্ণ টিনশেডের ভবনটি স্থায়ী রূপ পায়নি। কর্তৃপক্ষের আর্থিক অস্বচ্ছলতা এবং প্রভাবশালীদের অপতৎপরতায় সঙ্গীত ভবন তার অস্তিত্ব হারানোর আশংকায় এখন নীরবে কাঁদছে।

প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস মতে, ‘সঙ্গীত ভবন’ নামটি রেখেছিলেন সংস্কৃতিসেবী হীরক কানুনগো। ১৯৬৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মেহেদীবাগে ডা. মঞ্জুরুল ইসলামের নির্মাণাধীন ভবন ভাড়া নিয়ে শুরু হয় সঙ্গীত ভবনের যাত্রা। উদ্বোধনী দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে করা হলো আলোকসজ্জা। আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও। প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্তের ছাত্রী অবাঙালি মিসেস মরিয়ম সেতার বাজালেন। গাইলেন শিক্ষার্থী মঈনুল ও জোহরা। যোগ দিলেন তপন বৈদ্য, ওহিদুল্লাহ্‌, সাংবাদিক ওবাইদুল হক, শহীদ মাস্টার নূরুল আবছার সহ তৎকালীন আরো অনেক শিক্ষার্থী। প্রিয়দারঞ্জনের সহধর্মিণী বনবীথি ছিলেন সেন্ট পিটার্স (বর্তমানে সেন্ট স্কলাসটিকা) এর শিক্ষিকা। বেঙ্গল মিউজিক কনফারেন্সে স্বর্ণপদক বিজয়ী বনবীথি ভজনকীর্তনে পারদর্শী ছিলেন। সেই সুবাদে প্রিয়দারঞ্জন ওই প্রতিষ্ঠানের গান শেখানোর বিশেষ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। সঙ্গীত ভবন প্রতিষ্ঠায় ফাদার বুড্ডু এবং রীতা বুষে বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত।

মেহেদীবাগে এক বছর কার্যক্রম চালানোর পর ‘সঙ্গীত ভবন’ স্থানান্তরিত হয় শহীদ মির্জা লেইনে মোল্লা সাহেবের টিন শেডের বাড়িতে। তৎকালীন আর্ট কাউন্সিলের কর্মকর্তা মো. শফি সঙ্গীত ভবনের মাসিক অনুষ্ঠানে আসতেন। তাঁর স্ত্রী এবং মাস্টার সুকুমার রায় ও মো. এজহার স্ত্রীসহ শিখতেন গীটার বাজানো। মো. শফি এবং মাস্টার সুকুমারসহ মোল্লা বাড়ির প্রতিবেশী সঙ্গীতানুরাগী মিসেস পরান বানু, মিসেস আয়শা, মো. সিরাজ, মো. এজহার, মুক্তিযোদ্ধা বাদল বিভিন্ন জিনিসপত্র দিয়ে সঙ্গীত ভবনকে সহযোগিতা করেছেন। সেখানেও কার্যক্রম চলে এক বছর।

এরপর ১৯৬৮ সালে সঙ্গীত ভবনের স্থান হয় প্রবর্তক পাহাড়ের পাদদেশে। মেহেদীবাগে থাকাকালীন সময়ে প্রবর্তক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা বীরেন্দ্র লাল চৌধুরীর অনুরোধে ওস্তাদ প্রিয়দারঞ্জন এখানে এসে বর্তমান ঘরটিতে নব উদ্যমে শুরু করেন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম। প্রবর্তক সংঘের তৎকালীন সম্পাদক মীরা সিংহ ছিলেন প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্তের ছাত্রী। এই কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। সঙ্গীত ভবন প্রবর্তকে স্থানান্তরিত হবার পর প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন ঝুমকী নামের এক সঙ্গীতানুরাগী। এরপর প্রবর্তক সংঘের শিক্ষিকা অনিমা, গীতা, ভক্তিলতা সহ অনেকে এলেন গান শিখতে। এভাবে একের পর এক ‘সঙ্গীত ভবন’ সৃষ্টি করলো অসংখ্য গুণী শিল্পী।

সঙ্গীত ভবনের জন্মের সাথে দেশের উত্থাল সময়গুলো একাত্ম হয়ে আছে। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনের যে উত্তাপ তৈরী হয়েছিল, তা এসে পড়েছিল সঙ্গীত ভবনেও। মেডিকেল কলেজের অনেক শিক্ষার্থী এখানে আসতেন জাতীয় সংগীত শেখার জন্য। এসময় উপাধ্যক্ষ ছিলেন ওস্তাদ বিলায়েত আলী খাঁ। ১৯৭০ সালের ১৬ আগস্ট মেডিকেলের ছাত্ররা মিলে সঙ্গীত ভবনের সামনের মাঠে পতাকা টাঙিয়ে রবীন্দ্রনজরুল সংগীতের সাথে পরিবেশন করেছিল ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও বিশেষ অবদান রেখেছে ‘সঙ্গীত ভবন’। কুমিল্লার সোনামুড়া সীমান্তে আশ্রয় নেয়া প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত সবাইকে নিয়ে শুরু করেন মুক্তির গানের অনুশীলন। উদ্দেশ্য, মুক্তিবাহিনীর মনোবল চাঙ্গা করা। কুমিল্লায় যুদ্ধ শুরু হলে স্থান ত্যাগ করে তাঁরা চলে এলেন মেলাঘরে। সেখানকার অধিবাসী ডা. সুধীর রঞ্জনের আগ্রহে সঙ্গীত ভবনের ব্যানারে বাংলাদেশী অধিবাসীরা মিলে আবারো শুরু করে জাগরণী গানের মহড়া। বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে গানগুলো গাওয়া হতো। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সেখানে জনমত গড়ে ওঠে এবং তারা বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন।

স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে প্রবর্তকের ‘সঙ্গীত ভবন’ হতশ্রী হয়ে পড়ে। ১৯৭২ সালে জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে একজন ছাত্র এসে প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্তকে দিয়ে যান সঙ্গীত ভবনের কিছু বাদ্যযন্ত্র, যেগুলো তিনি আগলে রেখেছিলেন। এরপর আরেক ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান দিয়ে গেলেন চালডাল। হাবিবুর রহমান নামের আরেক মুক্তিযোদ্ধা দিয়ে গেলেন আসবাবপত্র আর কম্বল। স্বাধীন দেশে ৫ জানুয়ারি শুরু হয় সঙ্গীত ভবনের কার্যক্রম। পুরোনো ছাত্রী বেবী এসে নিয়মিত তালিম নিতেন। তাঁর বাবা ছিলেন বিত্তশালী। তিনিও দিলেন আর্থিক সহায়তা। পাশাপাশি এগিয়ে আসেন প্রিয়দারঞ্জনের বন্ধু অনিল মিত্র ও তাঁর স্ত্রী। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডা. মতিউল্লাহ আজমী শিখতেন সেতার, ডা. মোজাহের ও শিপ্রা দেওয়ানজী শিখতেন গীটার, আবু নাইম শিখতেন এস্রাজ, রণজিৎ বরণ চৌধুরী শিখতেন বাঁশি, ডা. বিরজিস ও সাধনা চৌধুরী শিখতেন গান। ছাত্ররা মিলে গঠন করলেন ছাত্র সংসদ, যার সভাপতি নির্বাচিত হন প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত এবং সম্পাদক হন শওকত হোসেন চৌধুরী (ডিউক)। কোষাধ্যক্ষ করা হলো বনবীথি সেনগুপ্তাকে।

তখন প্রতিবছর দুদিনব্যাপী কনফারেন্স ও মাসিক অনুষ্ঠানের রেওয়াজ ছিল। কনফারেন্সের ২য় দিন ক্লাসিক্যাল অনুষ্ঠান হতো। ঢাকা, কলকাতা থেকে শিল্পীরা আসতেন। ফণীভূষণ ও রবি নাগের মতো গুণীজনরা সঙ্গীত ভবনের সাথে যুক্ত হন। এসময় প্রণয়ন করা হয় পরীক্ষা পদ্ধতি। প্রবর্তক বিদ্যাপীঠের সেই সময়কার প্রধান শিক্ষক নরেশ রায় তাঁর প্রতিষ্ঠানেই পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা করে দেন। এভাবে একটানা ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ‘সঙ্গীত ভবন’ নিয়ে কাজ করতে করতেই অসুস্থ হন প্রিয়দারঞ্জন। এসময় প্রতিষ্ঠানের হাল ধরেন তাঁর স্ত্রী বনবীথি। তখন তিনি প্রবর্তক বিদ্যাপীঠে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৮৬ সালের ৯ জানুয়ারি প্রয়াণ ঘটে ‘সঙ্গীত ভবন’ প্রতিষ্ঠাতার।

সে সময় সঙ্গীত ভবনের সম্পাদক ছিলেন নিবাস শর্মা এবং সহকারী সম্পাদক ছিলেন নূর নবী মিরন। প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্ত’র মৃত্যুর পর সভাপতি ছিলেন দেলোয়ার হোসেন এবং সম্পাদকের দায়িত্ব নেন কবিতা বড়ুয়া। দেলোয়ার হোসেনের পর দায়িত্ব নেন প্রকৌশলী রেজাউল করিম এবং সহসভাপতি হন মিসেস নাসিম হক। সঙ্গীত ভবনের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই রেডিও’র নাজমুল আলম এবং তাঁর পরিবার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি শিখতেন এস্রাজ বাজানো এবং তাঁর সন্তানরা শিখতো গান। সঙ্গীত ভবনের সভাপতি পদটি রেডিও’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য সংরক্ষিত ছিল।

বনবীথি সেনগুপ্তা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাল ধরেন তাঁর কন্যা পূরবী সেনগুপ্তা। এরপর দায়িত্ব নেন পুত্র দীপক রঞ্জন সেনগুপ্ত ও প্রদীপ সেনগুপ্ত (নূপুর)। পূরবীর গায়কী ঢং ছিল অসাধারণ। দীপক ভালো তবলা বাজাতেন আর প্রদীপও ছিলেন কণ্ঠশিল্পী। এই পরিবারের সন্তান সন্ধ্যা দাশগুপ্তা ছিলেন নৃত্যশিল্পী। সবার ছোট বিভাষ সেনগুপ্ত (জিগমী) এর তত্ত্বাবধানে কক্সবাজারের রামুতে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রামু সংগীত ভবন। আর জন্মলগ্ন থেকে ‘সঙ্গীত ভবন’ এর সুখদুঃখের সাথী সদ্য শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে যাওয়া কাবেরী সেনগুপ্তা এখন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।

সঙ্গীত ভবন’ এর উদ্যোগে চারটি অডিও সিডি প্রকাশিত হয়েছে। একুশের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রকাশ করা হয় ‘বাংলাদেশের ডাকনাম’, ছোটদের জন্য গান ‘এক্কাদোক্কা খেলা’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশতবার্ষিকীতে প্রকাশ করা হয় ‘বাংলাদেশের রবীন্দ্রনাথ’। এখানে এসেছেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, তৎকালীন ভারতীয় হাই কমিশনার দেব মুখার্জী ও তাঁর স্ত্রী পূরবী মুখার্জী, সহকারী হাইকমিশনার জয়দীপ সরকার ও তাঁর স্ত্রী মিনাকো, বীনা সিক্রি, অশোক দাশ, গুন্দেচা ব্রাদার্স, ওয়াসিফুদ্দিন ডাগর, দীপক চৌধুরী, মুকেশ অনুপ্রিয়া, তন্ময় বোস, রশিদ খাঁ, ওয়ালেওয়ালকার, পণ্ডিত বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, কল্পনা ভট্টাচার্য, কুমার প্রসাদ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

প্রতিষ্ঠানটির তবলা শিক্ষক সোমেনজিৎ চক্রবর্তী জানান, অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ‘সঙ্গীত ভবন’ তার স্বকীয়তা বজায় রেখেছে। সভাপতি পদে আছেন এ কে এম শাহজাহান পাটোয়ারী। বর্তমানে প্রায় একশ জন শিক্ষার্থী শুদ্ধ সংগীতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। চারটি কক্ষে নিয়মিত চলছে প্রশিক্ষণ। তানিয়া আফরোজ, নওশিন কবির, কাজী মো. ওয়াজি ইফতেখার, সাদিয়া কবির, শেখ আরমানুল ইসলাম আদর, বিটু চৌধুরী সহ ১৫ জন গুণী শিক্ষক আন্তরিকতার সাথে সংগীত শিখাচ্ছেন। অফিস তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছেন রাশেদা খানম শিরীন। সঙ্গীত ভবনের এই চর্চা অব্যাহত রাখতে পারলে সমৃদ্ধ হবে আমাদের সঙ্গীতাঙ্গন। দু’বছর আগে এখানকার ছাত্র তওসীফ নূর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছে। প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা প্রিয়দারঞ্জন সেনগুপ্তের ছাত্র তপন চৌধুরী, নকীব, ক্যাপ্টেন (অব.) আজিজুল ইসলাম সহ অনেক শিক্ষার্থী আজ প্রতিষ্ঠিত শিল্পী। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। চট্টগ্রামের সংগীতাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছে ‘সংগীত ভবন’।

ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ভবনকে পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে রূপান্তরিত করতে সরকারিবেসরকারি সংস্থাকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক নূর নবী মিরন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংগঠন বাইরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করেছি। দেশবিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে গত ১১ জানুয়ারি থেকে ৪ দিনব্যাপী ‘সঙ্গীত ভবন’ এর ৫১ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাপদ্ধতিতে নতুন সংযোজন করা হয়েছে এসএলএস (স্পিচ লেভেল সিঙ্গিং) পদ্ধতির কণ্ঠশীলন। এই পদ্ধতির প্রবক্তা সেথ্‌ রিগস্‌। সনাতনী প্রথা ভেঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীদের শুদ্ধ সংগীত উপহার দিতে কাজ করছি।

সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ কাবেরী সেনগুপ্তা হতাশার সুরে বললেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের প্রবর্তক পাহাড়কে হেরিটেজ হিসেবে চিহ্নিত করলেও তা সংরক্ষণে কোনো উদ্যোগ নেই। প্রায় আট গণ্ডা জমিতে স্থাপিত ‘সঙ্গীত ভবন’ এখন তার অস্তিত্ব হারানোর আশংকায় ভুগছে। অশুভ শক্তির দাপটে গত দেড় বছর ধরে পরিচিতি ফলকটিও স্থাপন করা যাচ্ছে না। জীর্ণ ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পড়া পানিতে নষ্ট হয়ে যায় বাদ্যযন্ত্রসহ আসবাবপত্র। যে সংগীত আমাদের স্বাধীনতা এনে দেওয়ার জন্য উজ্জীবিত করেছিল, যে প্রতিষ্ঠান জন্ম দিয়েছে অনেক গুণী শিল্পীর, সেই প্রতিষ্ঠান রক্ষায় যদি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসতো; তাহলে প্রাণ ফিরে পেতো ‘সঙ্গীত ভবন’।

x