প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে মুনিরীয়া তবলীগ ছাড়ছেন বহু আলেম

বিবৃতি দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ঘৃণা প্রকাশ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ
1388

মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির সাইনবোর্ডের আড়ালে থাকা জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের, পুলিশের ধরপাকড় ও তরিকতের নামে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে গড়ে উঠা তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখে তবলীগ কমিটি ছাড়তে শুরু করেছে অনেক আলেম ওলামা।
অপরদিকে মুনিরীয়া তবলীগের হয়ে এতদিন যারা ভিন্নমত পোষণকারীদের উপর হামলা মামলা করে জুলুম নির্যাতন চালিয়ে আসছিল তারা এখন এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। কেউ কেউ মামলার আসামি হয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে ইতিমধ্যে হাজতবাস করছে। জানা যায়, রাউজানে মুনিরীয়া বিরোধী প্রতিবাদ প্রতিরোধের মুখে মুনিরীয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন চার প্রভাবশালী আলেম। যারা প্রায় সভা সমাবেশে উপস্থিত নিজেদের বক্তব্যে যুব তবলীগের প্রতিষ্ঠাতা মুনির উল্লাহর প্রচারণায় ব্যস্ত সময় কাটাতেন। এই সময়ে মুনিরীয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আসা এসব আলেম ওলামা দাবি করছেন মুনিরীয়া যুব তবলীগ তরিকতের নামে ভিন্নমতকে দাবিয়ে রাখার কৌশল জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সামিল। তাদের দাবি চাপের মুখে ইচ্ছের বিরুদ্ধে মুনিরীয়া যুব তবলীগের পক্ষে এতদিন বক্তব্য রাখতে হয়েছিল। আলোচিত সমালোচিত মুনিরীয়া তবলীগ বর্জন করে আসা এসব আলেম ওলামাদের এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। তারা সাদা কাগজে স্বহস্তে বিবৃতি লিখে মুনিরীয়া যুব তবলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ঘৃণা প্রকাশ করে প্রচার করছেন। এসব বিবৃতি এখন ফেসবুক পেইজে ভেসে উঠছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে যাদের বক্তব্য বিবৃতি এই পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে তাদের মধ্যে আছেন মুনিরীয়া তবলীগ ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ইব্রাহিম হানফি, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ারুল আলম সিদ্দিকী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল হক মুনিরী, এশায়েত সম্পাদক সৈয়দ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রশীদি প্রমুখ।
প্রকাশিত বিবৃতি প্রসঙ্গে মাওলানা আবদুল্লাহ রশীদির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাপের মুখে তার মত অনেককেই তবলীগ কমিটিতে কাজ করতে হয়েছে। বিভিন্ন সময় সত্য কথা বলতে গিয়ে অনেককেই মুনিরীয়ার কট্টর সমর্থকদের হাতে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সময় সত্য প্রকাশ করে ফেসবুকে লেখার কারণে তাকে কাগতিয়া মাদরাসায় ডেকে নিয়ে নাজেহাল করা হয়েছে। ভিন্নমত পোষনকারীদের মানষিক নির্যাতন করতে বেশি তৎপর ছিলেন মুনিরীয়ার কট্টর সমর্থক কাজী ইসমাইল (নিকাহ রেজিস্ট্রার)।
উল্লেখ্য, আবদুল্লাহ রশীদি নিজে যুব তবলীগের প্রতিষ্ঠাতাসহ উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। খবর নিয়ে জানা যায়, কাজী ইসমাইল কাগতিয়া মাদরাসার সাথে কোনো ভাবে সংশ্লিষ্ট নয়। তবু তিনি মাদরাসায় সার্বক্ষণিক অবস্থান করে তবলীগের কাজে সক্রিয় আছেন। এ ব্যাপারে আমাদের রাউজান প্রতিনিধি কাজী ইসমাইলের সাথে মুঠোফোনে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, তরিকতের কাজে তিনি মাঝে মধ্যে মাদরাসায় যান। তার দাবি যুব তবলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি মিথ্যা।
মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটির জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া রাউজান পৌরসভার দ্বিতীয় প্যানেল মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রাউজানের অনেক আলেম ওলামা কাগতিয়ার বড় হুজুর মাওলানা সৈয়দ তফজ্জল আহমদ মুনিরীর মুরিদ বা ভক্ত। এসব প্রবীণ আলেম ওলামাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক তথাকথিত পীর পরিচয়ধারী মুনির উল্লাহ তার প্রচারণায় এসব আলেম ওলামাদের ব্যবহার করেছে। এতদিন জিম্মি থাকা আলেম ওলামারা মুক্ত পরিবেশ পেয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা রাউজান উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক হাজী আহসান হাবিব চৌধুরী বলেন, রাউজান থেকে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটনোর পরিকল্পনাকারী মুনির উল্লাহ। তার পালিত জঙ্গিদের হাতে এই পর্যন্ত অনেক মানুষ হামলা মামলার শিকার হয়েছে। মুনিরীয়ার জঙ্গিদের হাত থেকে রেহায় পায়নি ভিন্নমত পোষণকারী কিশোর নঈম উদ্দিনও। তাদের হাতে কয়েক বছর আগে নির্যাতনের শিকার হয়ে এই কিশোর বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ১৩ এপ্রিল শাহাদৎ বরণ করে। তার মৃত্যুবাষির্কীর দিনে রাউজানের মানুষের একমাত্র দাবি জঙ্গিবাদের উৎস মুনিরীয়া যুব তবলীগের সকল কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করাসহ প্রতিষ্ঠাতা মুনির উল্লাহকে গ্রেফতার করার।
খবর নিয়ে জানা যায়, মুনিরীয়া যুব তবলীগের উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে রাউজানসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় এই পর্যন্ত বহু মামলা ও জিডি রুজু করা আছে। দায়ের করা একাধিক মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠাতা মুনির উল্লাহকেও।

x