প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকেও সমীহের চোখে দেখছেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ at ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
33

বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের অংশগ্রহণে আজ থেকে মিরপুর শেরবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে হচ্ছে তিন জাতির ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। লম্বা সময় পর আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। আর সে ফেরার ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। আইসিসির ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে টাইগাররা যেখানে ৭ নাম্বারে জিম্বাবুয়ে সেখানে ১০ নাম্বারে। সাম্প্রতিক ফর্ম, অভিজ্ঞতা সব কিছুতেই এগিয়ে স্বাগতিকরা। পাশাপাশি গেল তিন বছর দেশের মাটিতে ক্রিকেটের যে কোনো ফরম্যাটেই টাইগাররা অপ্রতিরোধ্য। শুধু দেশেই কেন? দেশের বাইরেও জয়ের অভ্যাস মাশরাফি, সাকিবরা ইতোমধ্যেই করে ফেলেছেন। এই বিবেচনায় গ্রায়েম ক্রেমারের নেতৃত্বে জিম্বাবুয়ে বেশ পিছিয়ে। তবে সেই খুশিতে আকাশে উড়ছেন না লালসবুজের দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। বরং পা মাটিতেই রাখছেন। আর এই ক্ষেত্রে তাকে আরও সতর্ক করে দিচ্ছে গত বছরের জুনজুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে তাদের মাটিতেই জিম্বাবুয়ের ৩২ এ ওয়ানডে সিরিজ জয়ের বিষয়টি।

স্বাগতিক হয়ে ঘরের মাঠের উইকেট শতভাগ কাজে লাগিয়ে তারাই জিতবে আর বাকি দলগুলো তাকিয়ে থাকবে সে ব্যাপারেও মাশরাফি মোটেও একমত নন। তিনি বলেন প্রতিপক্ষ যেই হোক সেটা সহজ হবে না। বিশেষ করে যদি জিম্বাবুয়ের দিকে তাকান তাহলে তারাও ভালো দল। সম্প্রতি তারা শ্রীলঙ্কাকে তাদের মাটিতে হারিয়ে এসেছে। উইকেট যতটুকু দেখেছি ভালো মনে হচ্ছে। আর প্রত্যাশা অবশ্যই সবার যা আমাদেরও তা। আমরা অবশ্যই জিততে চাই এবং ভালোভাবে জিততে চাই। তারপর ধারাবাহিকভাবে টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শ্রীলঙ্কাও ভালো দল । গতকাল মিরপুরে শেরবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। মাশরাফি এ সময় কথা বলেন টস নিয়েও। বাংলাদেশের অব্যাহত কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় দিবা রাত্রির এই টুর্নামেন্টে টস প্রভাব বিস্তার করতে পারে। কিন্তু তিনি সেটা সেভাবে ভাবছেন না। বরং তার কাছে বড় হয়ে উঠেছে দলের গেম প্ল্যান ও তার সঠিক বাস্তবায়ন । মাশরাফি বলেন, আসলে আমরাও সন্দেহে আছি। ব্যাটিং করলে ভালো হবে নাকি বোলিং করলে ভালো হবে। এটা কুয়াশার ওপর নির্ভর করছে। ভারী কুয়াশা পড়লে বা শিশির বেশি না পড়লে বোলিংটা ভালো হয়। তবে সবকিছু নির্ভর করছে নির্দিষ্ট দিনে আবহাওয়া কেমন আচরন করছে তার উপর। মাশরাফি বলেন আমার মনে হয় এটা নিয়ে না ভেবে আমরা শুরুতে ব্যাটিং কিংবা বোলিং যেটাই পাই সেটাকে কাজে লাগাতে হবে। মাশরাফি কবলেন আমাদের সামনে প্রতিপক্ষকে আর আবহাওয়া কেমন আগে ব্যাট করব না বল করবে সেব নিয়ে মোটেও ভাবতে চাননা টাইগার দলপতি। তারকাছে সব প্রতিপক্ষই সমান। তিনি বলেন আমাদেরকে জিততে হবে। আর জেতার জন্য মাঠে নামব। আর জিততে হলে মাঠে কি করতে হবে সেটা আমরা সবাই জানি। আমাদেরকে নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। আমরাও তাকিয়ে আছি নিজেদের সেরাটা দিয়ে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে। কারণ জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করতে পারা মানে মানসিক দিক থেকে অনেকখানি এগিয়ে থাকা। তবে আমরা মাঠে সেরা পারফর্ম করতে চাই।

টাইগার অধিনায়ক মনে করেন না, দল কোনো রকম চাপে আছে। বরং তার দাবি, ’আমাদের ড্রেসিং রুম এখন অনেক বেশি নির্ভার। আমার মনে হয়, এখন যে প্রেসার আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি চাপ নিয়ে আমাদের ড্রেসিং রুমের বেশির ভাগ খেলোয়াড় আগে খেলেছে। মাশরাফি বলেন আসল স্বস্তির জায়গা হলো নিজের মন। মানসিক চাপ থাকে সব সময়। তার মধ্যেও ভালো খেলার ইচ্ছেটা থাকতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিজের মত করে ভাবতে হবে। নিজের সামর্থ্যের প্রয়োগটা কীভাবে ঘটানো যায়। মাশরাফির মূল কথা হলো, জায়গামত সামর্থ্যের প্রয়োগই শেষ কথা। দক্ষিণ আফ্রিকায় সামর্থ্যের প্রয়োগ ঘটানো সম্ভব হয়নি। তাই পারফরম্যান্স হয়েছে খারাপ। ফলও চলে গেছে বিপক্ষে। তাই মাশরাফি জোর দিচ্ছেন, সামর্থ্যের বাস্তবায়ন ঘটানোর ওপর। মাশরাফি বলেন খুব বেশি নির্ভার থাকাও দলের জন্য তেমন উপকারী নয়। বরং একটু চাপ এবং কিছু কারণে ভিতরে একটা স্নায়ুর চাপ থাকারও দরকার আছে। তাহলে সেরা পারফরম্যান্স বেরিয়ে আসে। তিনি বলেন আমি এটা চাই না, সবাই অনেক বেশি নির্ভার থাকুক। বেশি নির্ভার থাকলে মাঠে নেমে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। আমি আশা করব, আমাদের আসল জায়গাটা যাতে ঠিক থাকে। তারপর অন্য কিছু।

x