প্রতিদিন ইফতারে দুই হাজার মানুষ

খানকা-এ কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:০৯ পূর্বাহ্ণ
306

নগরীর ষোলশহরে খানকা-এ কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া (আলমগীর খানকাহ শরীফ)। প্রতিদিন দুই হাজারের অধিক রোজাদার শরীক হন এখানের ইফতারে। প্রতিদিন ইফতার ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকে আনজুমান ট্রাস্টের নিজস্ব সিকিউরিটি ফোর্স (এএসএফ) ও গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশের প্রায় শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। ইফতারের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পুরো খানকা জুড়ে সাজ সাজ রব। খানকার নীচতলা থেকে দ্বিতীয় তলা জুড়ে রোজাদাররা শরীক হয়েছেন ইফতারে। ইফতারে মিলেমিশে একাকার হয়ে বসে আছেন গরীব-ধনী, ছোট-বড় সবাই। প্রায় ২০ মিনিট আগেই রোজাদারদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইফতার বন্টন করছেন কিছু স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-যুবক। এর মধ্যে খানকা শরীফের একজন মাওলানা রোজাদারদের নিয়ে কিয়াম পরিচালনা করছেন। রমজানের প্রথম দিন থেকেই রোজাদারদের ইফতার আয়োজনের একই চিত্র নগরীর ষোলশহর আলমগীর খানকা-এ কাদেরীয়া সৈয়্যদিয়া তৈয়্যবিয়া (আলমগীর খানকা শরীফ)-এ।
ইফতার আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, আনজুমান ওরশ কমিটির তত্ত্বাবধানে আলমগীর খানকা শরীফে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আয়োজন চলছে ইফতারের। ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি, ফিরনী, সেমাই, চিড়া, চিকেন ফ্রাই, শরবত, মুড়ির পাশাপাশি শসা, খেজুর, কলা থাকছে প্রতিদিনের ইফতারে। সাথে যোগ হয় আশেপাশের এলাকার শুভান্যুধায়ীদের দেয়া নানান পদের ইফতারও।
আয়োজকরা জানান, বুধবার ৯ রমজান হলেও প্রতি আরবী মাসের ১১ তারিখ আলমগীর খানকা শরীফে খতমে গাউছিয়া ও খতমে গেয়ারভি শরীফ অনুষ্ঠিত হয়। যে কারণে রমজানের অন্যদিনের চেয়ে ১১ রমজান উপস্থিতি থাকে বেশি। প্রতিদিন দুই হাজার রোজাদারের জন্য ইফতারের আয়োজন করা হয়।
প্রতিদিন ইফতার ব্যবস্থাপনায় যোগ দেন এএসএফ সদস্য মো. আরিফ। তিনি অন্য স্বেচ্ছাসেবকদের ইফতার বিতরণ তদারকি করছেন। কথা হলে মো. আরিফ বলেন, এখানে আমরা ৫০ জনের মতো এএসএফ সদস্য রয়েছি। পালা করে মহানগর ও জেলা থেকে আসা গাউছিয়া কমিটির সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আসেন রোজাদারদের সেবা করার জন্য।
খানকা শরীফের ইফতারে যোগ দেয়া কামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর ধরে আলমগীর খানকা শরীফে ইফতারের আয়োজন চলে আসছে। হযরত তাহের শাহ (মজিআ) চট্টগ্রামে আসলে আলমগীর খানকা শরীফে অবস্থান করেন। যে কারণে আলমগীর খানকা শরীফে মুরীদানরা আসেন। রমজানে আলমগীর খানকা শরীফের ইফতার আয়োজন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সুন্নী জনতার মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। ইফতার নিয়ে জুলুসের পরিবেশ তৈরি হয়।’
আলমগীর খানকা শরীফের ইফতার ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দেয়া গাউছিয়া কমিটি বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেক হোসেন পাপ্পু প্রতিবেদককে বলেন, ‘আলমগীর খানকা শরীফের ইফতারে ধনী-গরীব-মিসকিন সকলের মিলনকেন্দ্রে পরিণত হয়। আনজুমানের শুভান্যুধায়ীদের সহযোগিতায় পুরো রমজান জুড়ে ইফতার আয়োজন চলে। রমজান শুরুর আগে থেকেই আনজুমানের ভক্ত অনুসারিরা এখানে ইফতার সামগ্রী দিয়ে যান। অনেকে তৈরি করা ইফতারও পাঠিয়ে দেন আলমগীর খানকা শরীফে।’

x