প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম

ফারাজ করিম চৌধুরী

শনিবার , ১৯ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
64

আলোর মাঝেও আমাদের অন্ধকারের পথে নিয়ে যাচ্ছে ভয়াবহ ব্যাধি মাদক। এই মাদক নিয়ে আমার বাস্তবিক কিছু ভাবনা আজ আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আমাদের দেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য আমরা প্রায় সময়ই শুনে থাকি। যেমন- ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিন, তা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ধরনের হুঁশিয়ারিগুলো কতটুকু কার্যকর হয়? এই প্রশ্ন আপনাদের কাছে আজ রাখলাম।
মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম জনগণের জন্য নতুন কিছু নয়। মাদকের বিরুদ্ধে হাজারো আল্টিমেটাম দিলেও কোনো লাভ হবে না। যদি এই সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে যাওয়া না যায়। শুধুমাত্র টেলিভিশনের পর্দায় মাদকের বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন, সচেতনামূলক অনুষ্ঠান এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে কোনোদিন এ যুদ্ধে জেতা সম্ভব হবে না। আমাদের বুঝতে হবে, যারা মাদকাসক্ত তারা বিজ্ঞাপন কিংবা অনুষ্ঠান দেখে এ অন্ধকার পথ থেকে ফিরে আসবে না। আর যারা মাদকের অন্ধকার পথে যাচ্ছে, তারাও আপনার সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান দেখে সে পথ পরিহার করে ফিরে আসবে না! পুলিশের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে অথবা যারা একসময় মাদকাসক্ত ছিল এমন ব্যক্তিদের বিভিন্ন স্কুলে-কলেজে পাঠিয়ে বক্তব্য দেওয়া ততটা কার্যকর পদক্ষেপ নয়, যা গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত।
মাদকের বিস্তৃতি রোধে আমরা নতুন কিছু পদক্ষেপ হাতে নিতে পারি। আমার নিজের ভাবনা থেকে তুলে ধরার প্রয়াস পাচ্ছি।
ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার জন্য মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করুন।
মানুষকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিন। তাদের সেসব কাজে দক্ষ করে গড়ে তুলুন, যাতে তারা অন্তত চাকরির বিবেচনায় থাকে।
অভাব থেকে দূরে নিয়ে আসুন। অর্থনৈতিক অবস্থা মোটামুটি একটা ভালো পর্যায়ে থাকলে মানুষ ব্যর্থতাকে সফলতায় পরিণত করতে আকৃষ্ট হবে।
সামাজিক বৈষম্য দূর করুন। যোগ্য ব্যক্তিদের উপযুক্ত সম্মান দিন। তার ধর্ম, বর্ণ, বয়স যাই হোক না কেন তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করার মানসিকতা
মাদকাসক্তদের তালিকা তৈরি করে তাদের চিকিৎসা করানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। কারাদণ্ড, ক্রসফায়ার করে কোনোদিন এই যুদ্ধে জেতা সম্ভব নয়।
কারাবন্দি, ভবঘুরে, অথবা মানসিকগ্রস্ত যারা কিনা মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন লোকের তালিকা তৈরি করে তাদের পাশে দাঁড়ান।
সন্তানরা যেন তাদের প্রতিটি কর্মকাণ্ড অভিভাবকের সঙ্গে শেয়ার করে সেজন্যে সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন।
সন্তানের বন্ধু নির্বাচনে তাকে সহযোগিতা করুন। ভালোদের গ্রহণ ও খারাপদের এড়িয়ে চলার প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিন।
খেলাধুলা হতে পারে আপনার সন্তানের শারীরিক ও মানসিক গঠনের পাশাপাশি মাদক থেকে দূরে থাকার মূল হাতিয়ার। তারা যাতে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারে সেজন্য তাদের উৎসাহ দিন।
প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আমাদের দেশে কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর কিছুদিন আলোচনা থাকে, হৈ-চৈ শুরু হয়। কিন্তু ঘটনা যেন আর না ঘটে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আসুন, নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে নিজেদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আবেদন, তারা যেনো এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নেন।
সূত্র : বাংলানিউজ

x