প্রজন্মের জন্যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন

প্রকৌশলী পুলক কান্তি বডুয়া

সোমবার , ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
44

চট্টগ্রামকে বিশ্বের সামনে রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর সময় এসেছে, পুরনো সব কিছুই অভিজ্ঞতা, কোনটাই ফেলনা নয়, চাই নতুন সময়ের নতুন উদ্যোগ। চট্টগ্রামের আবাসনসহ সকল সংকট মেকাবেলায় ডায়নামিক নেতৃত্বের সামনে, নগরবাসীর চোখের ওপর পুরো নগরটিকে প্রথমেই করতে হবে এক চিলতে ভিজুয়ালাইজ, পাখির মতো উড়ে যাওয়া উচ্চতা থেকে পুরো নগর কে দেখতে হবে এক সাথে পাখির চোখে। পুরো নগর যখন কেউ এক সাথে দেখে তখন সে পরিকল্পনা করতে পারে, কোথায় কী ত্রুটি তা ধরতে পারে, তখন তিনি সত্যিকার নগর পরিকল্পকের মতোই সিদ্ধান্তে নিতে পারেন, মনিটরিং করতে পারেন, কোন স্থাপনা কোথায় নির্মিত হলো সামগ্রিক নগরে কী ইমপেক্ট পড়বে তা সহজেই বুঝতে পারবে, কারো দ্বারা মিসগাইড হবার সুযোগ একেবারেই থাকে না। মোদ্দা কথা তত্ত্ব নয়, জটিল বইয়ের ভলিউমে রচনা লিখে নগর সাজানো যাবে না, আবাসন পরিকল্পনাও হবে না, সরল এ সহজ বোধে ভাবে পুরো শহর আগে চোখের সামনে বসান, নগরবাসীর চোখের সামনেও তা তুলে ধরুন, সবাই তখন এক সাথে হয়ে উঠবেন নগর পরিকল্পক, নেবে সঠিক সিদ্ধান্ত ও সিলেকশন অব প্রায়োরিটি, পাশাপাশি নগরবাসীকেও গৃহ নির্মাণ আইনকে মানতে মানসিকভাবেই তৈরি করে ফেলা সহজ হবে। ক্ষুদ্র মাঠ পর্যায়ের তথ্য প্রদানকারীর সামান্য কপটতা, দুর্নীতি, অনেক ছোট বিষয় কিন্তু এই ছোট বিষয়টি সমস্ত সিস্টেম ও পরিকল্পনারও অকার্যকর করে দেয়। মাত্র তিন বছরেই পূর্ণাঙ্গ মাস্টার প্ল্যান করে পদ্ধতিগত ও পরিকল্পনা গত ত্রুটির কারণে সৃষ্ট আবাসন সংকট, সিদ্ধান্তে সংকট, জলজট সংকট, যোগাযোগ সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং খুবই সম্ভব। এটাই ডিজিটাল টেকনোলজির বাংলাদেশ ও ক্যারিশম্যাটিক ডিজিটাল বাংলাদেশ এর স্বপ্নবাজ তারুণ্যের অর্জন। শুধু দরকার সিডিএ কর্তৃক স্বউদ্যোগী জন-সংশ্লিষ্ট একটি নিঃস্বার্থ ডিজিটাল ভিশন ভিজুয়ালাইজড ম্যাপ প্রণয়ন প্রকল্প -এর মাধ্যমেই চট্টগ্রাম মহানগরকে পরিকল্পিত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের আওতায় আনা সম্ভব। স্ব-প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগী প্রকল্পের আওতায় যা বাস্তবায়ন করতে হবে, তা হলো স্যাটেলাইট ভিজুয়ালাইজেশন সিস্টেম ডিজিটাল টেকনোলজি, এরিয়াল ভিহীকলের মাধ্যমে কারিগরি ফটোগ্রামোমেট্রিক নগরের রিয়েল লাইভ ত্রি ডি টপোগ্রাফিক ডিজিটাল ম্যাপ তৈরি করা। আর সমস্ত নগর এর সকল কিছুই হাতের মুঠোয় বন্দী করে তা আলাউদ্দিনের মতো বসে বসে দেখা, এর মাধ্যমে ‘প্রত্যেকটি এলাকার জন্যে আলাদা আলাদা দিক নির্দেশনা ম্যাপের ওপর ইন্ডিকেট সহজেই করা সম্ভব, প্লান পাশ অনুমোদন দিতে মুহূর্তে মধ্যে সিদ্ধান্ত দেয়া সম্ভব করে, মাস্টার প্লেন বাস্তবায়ন কোন সমস্যাই আর থাকবে না, মাস্টার প্লেনের ভুল ও সঠিক সিদ্ধান্ত সহজেই জাস্টিফাই করা সম্ভব।
কোনো সংস্থা কোনো নতুন প্রকল্প গ্রহণ করলে ঐ ম্যাপের ওপর তার ডিজাইন ও তা বাস্তবায়ন কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। সিটি গভর্নমেন্ট বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা বহুলাংশে এই ডিজিটাল ম্যাপের অটো সিস্টেম টেকনোলজির মাধ্যম পুরো শহরের রাস্তা সংস্কার, সমপ্রসারণ, এক্যোর, ব্যক্তি পর্যায়ে নতুন আবাসন গড়ার ক্ষেত্রে সকল জটিলতা ও জনগণের সম্পত্তির সীমানা সংক্রান্ত সকল জটিলতা দূর করা সম্ভব। একটি আধুনিক শহর নির্মাণের, নগরবাসীর আবাসন শৃংখল ও সঠিক পরিকল্পনা ও শতভাগ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার এই ডিজিটাল পরিকল্পনা ম্যাপ তৈরি করা এখন সময়ের চাহিদা। পৃথিবী সকল বড় মহানগর ও শহরের পরিকল্পনা গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ, তাদের সমস্ত উন্নয়ন সিদ্ধান্ত এই ম্যাপের ওপরই করে। যা ডিজিটাল বাংলাদেশে চট্টগ্রাম থেকেই শুরু করা হোক। প্রজন্মের জন্যে রেখে যাওয়া স্বপ্ন।
লেখক : প্রকৌশলী, প্রাবন্ধিক, সংগঠক

x