প্রচার সময়ের সাথে বাড়ুক ভালো অনুষ্ঠানও

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
21

চট্টগ্রামে আলাদা একটি টেলিভিশন ছিল অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। ২১ বছর আগে যখন সে দাবি পূরণ হয় তখন থেকেই চট্টগ্রামের দর্শকরা আশায় বুক বাঁধতে থাকে নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ চ্যানেল পাওয়ার জন্য। কিন্তু শুরু থেকেই মানহীন অনুষ্ঠান প্রচারের ফলে চ্যানেলটি দর্শকের হৃদয় জয় করতে পারেনি। ফলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র নামে যে একটি চ্যানেল আছে, না দেখতে দেখতে একসময় মানুষ সেটাই ভুলে যায়। প্রচারের সময়কাল বাড়ার ফলে বেশ কিছু ভালো অনুষ্ঠানের দেখা মিললেও তার সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় চ্যানেলটি নিজেদের দর্শকমুখী করতে পারছে না। এ কেন্দ্রটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ চ্যানেলে রূপ দিতে সরকারের আন্তরিকতার খুব একটা গাটতি আছে বলে আমরা মনে করি না। পর্যায়ক্রমে এক ঘণ্টা থেকে ছয়ঘণ্টার সম্প্রচারে আসা চ্যানেলটির প্রচার সময় আরো বাড়বে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ শীঘ্রই বিটিভি চট্টগ্রামের প্রচার সময় বাড়ানোর ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছেন। এটি যতটা চট্টগ্রামবাসীর জন্য সুখবর, ঠিক ততটাই যেন আতঙ্কের। কারণ প্রচার সময় বৃদ্ধির সাথে সাথে অনুষ্ঠানের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। আগের বছরগুলোর সঞ্চিত অভিজ্ঞতা থেকে এ আশঙ্কা ধারণা করা অমূলক নয় যে, মানহীন অনুষ্ঠানের সংখ্যাও আরো বাড়বে। সে ক্ষেত্রে প্রচার সময় বৃদ্ধির সাথে যোগ্য লোকবল বাড়ানো, অভিজ্ঞ, সৃজনশীল প্রযোজক, পরিচালক, কলাকুশলীও প্রয়োজন। সে বিষয়টি না ভেবে শুধু প্রচার সময় বৃদ্ধিতে খুব একটা লাভ হবে বলে মনে হচ্ছে না।
আবার সব অনুষ্ঠান যে মানহীন, তা কিন্তু নয়। বেশ কিছু ভালো মানের, দেখার মতো অনুষ্ঠান নির্মিত হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব অনুষ্ঠান টিকে না। কয়েকদিন পর প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। যেমন দেখার মতো যেসব অনুষ্ঠান রয়েছে ছোটদের অনুষ্ঠান তার মধ্যে অন্যতম। বিটিভি চট্টগ্রামের অনুষ্ঠান প্রচারের শুরুতে প্রায় প্রতিদিন ছোটদের একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয়। উপস্থাপনা থেকে শুরু করে নাচ-গান-আবৃত্তি-অভিনয়, সবটাতেই থাকে শিশুদের সরব উপস্থিতি। এমন অনুষ্ঠান নির্মাণে প্রযোজকের অভিজ্ঞতা এবং আন্তরিকতা দুটোরই প্রয়োজন। ছোটদের অনুষ্ঠানগুলোতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বড়দের চেয়ে ছোটদের পরিবেশনা অনেক বেশি পরিণত মনে হয়। এ অনুষ্ঠানগুলো চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নিজস্ব অনুষ্ঠান, এ থেকে বোঝা যায়, সংশ্লিষ্টরা চাইলে, আন্তরিক হলেই ভালো মানের অনুষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব। আর ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ হলেই স্টুডিওভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠানের সংখ্যা যেমন কমবে তেমন ঢাকা থেকে ধার করা অনুষ্ঠানও প্রচার করতে হবে না। চট্টগ্রাম টেলিভিশন স্বাবলম্বি হয়ে উঠুক, পূর্ণতা পাক নিজস্ব অনুষ্ঠানে -এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
চলছে মহান স্বাধীনতার মাস। মার্চ মাস বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবান্বিত, মর্যাদাপূর্ণ মাস। এ মাসেই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। তাই বাঙালি হিসেবে প্রত্যেকের কাছেই এ মাসটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মার্চে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, শহীদদের স্মরণ, মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করা হয় প্রত্যেক ক্ষেত্রেই। মাসব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয় সারাদেশে। পত্রিকাগুলো ২৬ মার্চ পর্যন্ত উত্তাল মার্চ, অগ্নিঝরা মার্চ, মার্চের সেই দিনগুলি বা বিভিন্ন নামে ৭১ এর মার্চে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা ও দিনলিপির স্মৃতিচারণা করেন। এসব স্মৃতিচারণা এ প্রজন্মের শিশু কিশোর এবং তরুণদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধকালীন ভয়াবহ নৃশংসতা, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ অবদান, সাহসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। যেটুকু ব্যতিক্রম সেটা শুধু বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রতিদিন একাধিক অনুষ্ঠান প্রচার করছে চ্যানেলটি। কিন্তু সেটা ‘বারোমাসি’ অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতা আর গতানুগতিকতার গণ্ডি পেরুতে পারেনি।
মার্চ মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভিন্ন অবদান, মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, বধ্যভূমিসহ ইতিহাস নির্ভর অনুষ্ঠান এখনো তৈরি হয়নি বললেই চলে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যেসব অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে তার বেশিরভাগই আলোচনা নির্ভর। কয়েকটি কবিতা পাঠের অনুষ্ঠান। আছে গানের অনুষ্ঠানও। তবে তার বেশ কয়েকটি পুরোনো, পুনপ্রচার করা হচ্ছে মাত্র। তাই মহান স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আরো ভালো মানের অনুষ্ঠান আশা রাখি।

x