প্রচণ্ড দাবদাহের কবলে ইতালি

আখি সীমা কাউসার, রোম (ইতালি) থেকে

রবিবার , ৩০ জুন, ২০১৯ at ১০:৪১ অপরাহ্ণ
190
প্রচণ্ড দাবদাহ ও তীব্র গরমের কারণে ইতালিতে দুই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত বৃহস্পতিবার দেশটির মিলানের লে মার্চ এবং সেন্ট্রাল রেলস্টেশনের কাছে তাদের মরদেহ পাওয়া যায়।
ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরমের কারণেই হিট স্ট্রোক করে মারা গেছেন তারা।
এদিকে ইতালির সাতটি শহরের তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায় থেকে ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় দেশটির প্রশাসন শহরগুলোতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
ইতালির বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে গত ৪০ বছরেও এ ধরনের গরম তারা দেখেনি।
আজ থেকে ১৭/১৮ বছর আগেও ইতালীয়রা তাদের ঘরে পারতপক্ষে একটি ফ্যান রাখত না, এয়ারকন্ডিশনতো দূরের কথা। প্রচণ্ড গরমের কারণে জার্মানি, ফ্রান্সের বেশ কয়েকটি শহরেও জারি করা হয়েছে এই রেড অ্যালার্ট।
বিভিন্ন টুরিস্ট স্পটে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত টুরিস্টরাও বিপাকে পড়েছে। যেখানে ট্যুরিস্টরা সামান্য পোশাক পরে সাগর পাড়ে বালুর উপরে সূর্য স্নান করে তাদের সাদা শরীর তামাটে করার জন্য সেখানে এই প্রচণ্ড আগুন গরমে হাঁসফাঁস করছে  তারা।
তারা জানান, সাগর পাড়ে যেখানে গাছের ছায়া আছে সেখানে দলবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছি কখন সূর্য চলে গিয়ে একটু গরম কমবে।
সবাই  হতাশা ব্যক্ত করছে যে এবারে তারা সাগর পাড়ে সূর্য স্নানসহ আনন্দ উপভোগ করছে না তীব্র গরমের জন্য। যারা পরিবার নিয়ে আসছে তারা দিনের বেলায় হোটেল থেকে বের হয় না। যখন সূর্যের তাপ একটু কমে তখন তারা পরিবার নিয়ে বের হয়।
ইতালির ফ্লোরেন্স, তোরিনো, নাপোলি ভেনিসসহ সব শহরেরই একই অবস্থা। অন্য বছরগুলোতে রোমের বাইরের শহরগুলোতে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার শহরগুলোতে একটু গরম কম থাকত কিন্তু এখন সব জায়গাতেই সমান গরম। বিশেষ করে রোমে গরম ইতালির অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি পড়েছে।
এখন রোমের গরমের তীব্রতা এতোই বেশি যে রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা। পর্যটন এলাকাগুলোতে রোমের মেয়র পর্যটকদের পানি সরবরাহ করছেন বলে খবরে বলা হয়েছে।
রোমসহ ইতালির প্রায় শহরেই ২৪ ঘণ্টা বিভিন্ন স্পটে ফোনতানার পানি অনবরত পড়তে থাকে যা পর্যটক এবং পথচারীদের জন্য বিনামূল্যে উন্মুক্ত থাকে। দেশটির বেশ কিছু জায়গায় ইতোমধ্যে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। এর আগেও ২০০৩ সালে দেশটিতে ভয়াবহ দাবদাহ দেখা দিয়েছিল। ওইসময় প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে দেশজুড়ে অনেক মানুষ মারা যায়।
ইতালি এবং ফ্রান্স ছাড়াও পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানির মতো দেশগুলোতে এবার তীব্র গরম পড়েছে। দেশগুলোর তাপমাত্রার রেকর্ড থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন মাসের তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
সেখানকার আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এর আগেও ২০০৩ সালে ফ্রান্সের নাগরিকদেরও ভয়াবহ দাবদাহের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তখন দেশটির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৪ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
x