(প্রগতি মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়)

মীরা মেহেরুন

বুধবার , ৩১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
85

সমাজে একটা প্রগতিশীল শ্রেণী আছে যারা প্রগতিচ শব্দের অর্থ না বুঝে নিজেকে নির্লজ্জ প্রগতিশীল হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে। অপরপক্ষে প্রতিক্রিয়াশীল একটি গ্রুপ আছে যারা যুক্তিসিদ্ধ যে কোনো মতবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যুক্তিবাদীদের নাস্তিক- মুরতাদ-কাফের ইত্যাদি ঘোষণা দিতে দ্বিধা করে না। এই দু্থটি শ্রেণী আমাদের সমাজে বেশ শক্ত অবস্থানে আছে। অধিকাংশের মতে, প্রগতিশীলতা মানে- নারীরা হালফ্যাশনের পোশাক সজ্জিত হয়ে, রকমারি হেয়ারকাট- কালার করে, টাইট জিন্স পরে, হাই হিল পরে বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে প্রকাশ্যে হেঁটে গিয়ে ফাইভস্টারে খেতে বসা, প্রতিদিন বয়ফ্রেন্ড বদল করা, খাওয়া-দাওয়া স্ফূর্তি করো টাইপ কিছু । আর পুরুষদের ক্ষেত্রে যা ভাবা হয়, তা হলো- নারীর পক্ষে দু্থ চারটে কথা বলে ভজিয়ে- ভাজিয়ে নারী বদল করা। এদের কারণেই কিছু মানুষ ুপ্রগতিশীলচ শব্দকে গালি হিসেবে ব্যবহার করে। না। মোটেও তা নয়। আমাদের সমাজে পরিমিতি আর সামাজিক- পারিবারিক মূল্যবোধ বলে কিছু বিষয় আছে। প্রগতি মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয়। প্রগতিশীলতার সংজ্ঞা খুঁজতে গিয়ে আমি যা পেয়েছি তা একটু শেয়ার করতে চাই। প্রকৃত প্রগতিশীল সেই ব্যক্তি যিনি শিক্ষিত, মনে-প্রাণে সংস্কারমুক্ত, যুক্তিসিদ্ধ, নির্মোহ, মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন, পরিপাটি, পরিচ্ছন্ন মার্জিত পোশাকে সজ্জিত ব্যক্তিত্ব। যিনি একটি সুন্দর- সুশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে চান, যার স্বপ্নের সমাজ হবে জ্ঞানভিত্তিক- জাতীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতি চর্চাভিত্তিক (কারণ সংস্কৃতি মানুষকে পাপ ও অপরাধ প্রবণতা থেকে দূরে রাখে), সকল ধর্ম ও বর্ণ- শ্রেণিবৈষম্যবাদ মুক্ত সামাজিক- আর্থিক- বুদ্ধিবৃত্তিক- মানবিক উন্নয়নভিত্তিক এক আধুনিক রাষ্ট্রীয় সমাজকাঠামো। এবার বলুন, আপনি কি প্রগতিশীল!

x