প্রকৃত রস পাওয়া দুষ্কর, চিতল আর ভাপা পিঠার উপাদান এখন কৃত্রিম খেজুর গুড়ে

মীর আসলাম : রাউজান

সোমবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৮:০৬ পূর্বাহ্ণ
69

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতু বৈচিত্রের এদেশের মানুষের একটি প্রিয় ঋতু শীত। কুয়াশার চাদরে ঢাকা গ্রামের মেঠোপথ, শরীর আর মাথা মোড়ানো জবুথবু শরীরে ঘরের বাইরে কৃষক কিষাণীদের কম্পমান শরীরে পথ চলা। রূপসী বাংলার মানুষের এই ঋতুতে প্রায় প্রতিটি ঘরে চলে পিঠা উৎসব। শীতের এই পিঠা এ দেশের মানুষের একটি ঐতিহ্যবাহী শীতকালীন মুখরোচক খাবার। পৌষের হিমেল হাওয়া ছাড়া যেমন শীতকে কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি পিঠা ছাড়াও বাঙালির ঐতিহ্য ভাবা যায় না। আদিকাল থেকে গ্রামবাংলার মানুষ ঘরে তৈরি ভিন্ন ভিন্ন পিঠা পুলিতে তৃপ্ত হতো এই শীতের মৌসুমে। এসব পিঠার প্রকৃত স্বাদ তৃপ্তি মেটানোর অন্যতম উপাদান হিসাবে রাখা হতো খেজুর রস। রসের সাথে দুধ আর নারকেল দিয়ে তৈরি পিঠার স্বাদ যে কতই তৃপ্তি দায়ক তা কোনোভাবেই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। চিতল পিঠা, ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, নকশি পিঠার আসল স্বাদ নিতে খেজুর রসেরতো তুলনা হয়না। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বাংলার সেই চিরাচরিত রূপ এখন আর গ্রাম বাংলায় নেই। পিঠাপুলির প্রকৃত স্বাদ থেকে এখন বঞ্চিত গ্রাম বাংলার লাখো মানুষ।
বলা হয়ে থাকে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রাম এখন আর গ্রাম নেই। গ্রাম হয়ে যাচ্ছে গাছপালাহীন মরুময়। পাহাড় হচ্ছে ন্যাড়া, গ্রামীণ অনেক জনপদ থেকে এখন বিলুপ্ত হয়েছে পরিচিত অনেক গাছপালা। রাস্তাঘাট আর পুকুর দিঘির পাড়ে দেখা মিলেনা সারি সারি তাল খেজুর গাছ। অভিযোগ আছে গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ তাল ও খেজুর গাছ কেটে জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে ইট ভাটাসমূহে। এখনো যেসব জনপদে তাল খেজুর গাছ টিকে আছে সেগুলো থেকেও রস উৎপাদন করার মত অভিজ্ঞ গাছি নেই। গ্রামীণ মানুষের মতে আগের দিনে পথেঘাটে প্রচুর তাল ও খেজুর গাছ ছিল। গ্রামের মুরুব্বিদের অনেকেই গ্রামীণ জনপদের তাল- খেজুর গাছ থেকে রস নিত। এখন খেজুর গাছও নেই, গাছিও নেই। বিক্ষিপ্তভাবে অল্প কিছু গাছ দেখা গেলেও সেসব গাছ এখন জীর্ণশীর্ণ। কিছু ভাল গাছ দেখা গেলেও রস নেয়ার মত এখন মানুষও নেই। এই অবস্থার মধ্যে গ্রামীণ মানুষ খেজুর রসের জন্য হাহাকার করলেও রস পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। আর পেলেও দাম থাকে চড়া ও রসে থাকে ভেজাল। এমন অবস্থার মাঝে খেঁজুরের রসে তৃপ্তি মিটাতে হয় রসের বিকল্প হিসাবে তৈরি করা খেঁজুরের গুড়। যেসব গুড় তৈরি নিয়ে আছে নানা ধরণের ভেজালের অভিযোগ। সবমিলিয়ে এখন গ্রামীণ মানুষ আর পাচ্ছে না শীতের পিঠাপুলির প্রকৃত স্বাদ।

x