পেট্রি ডিসে নিনদারথালের মস্তিষ্ক

শুক্রবার , ২৯ জুন, ২০১৮ at ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
59

প্রাগৈতিহাসিক গুহামানব নিনদারথালরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে ৪০ হাজার বছর আগে। তবে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রাকে ধন্যবাদ জানাতেই হবে। কারণ, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণাগারের পেট্রি ডিসে (ল্যাবে ব্যবহৃত চ্যাপটা আকৃতির স্বচ্ছ থালা) বিকশিত হচ্ছে নিনদারথালের ক্ষুদ্রাকৃতির মস্তিষ্ক।

নিনদারথালের মস্তিষ্ক নিয়ে গবেষণা চালানোর উদ্দেশ্য, এদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। নিনদারথাল হচ্ছে অনেকটা মানুষের মতোই দেখতে কিছুটা ভিন্নভাবে বিবর্তিত একটি প্রজাতি। তিন থেকে এক লাখ বছর আগে এরা বিবর্তিত হয়। ইউরেশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ধান মেলে নিনদারথালদের ফসিল। তবে একসময় এরা বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং হোমোসেপিয়ানরা (মানুষ) পৃথিবীর বেশিরভাগ অঞ্চল জুড়ে বসবাস শুরু করে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ডিরেক্টর এবং এই গবেষণা প্রজেক্টের প্রধান অ্যালিসন মোট্রি বলেন, নিনদারথাল আর মানুষ একইসঙ্গে এই পৃথিবীতে বসবাস করত। এখন আমাদের কাছে এদের জেনেটিক নমুনা আছে, যা বিকশিত করা সম্ভব। খবর বাংলানিউজের। মোট্রি বলেন, নিনদারথাল ও মানুষের মস্তিষ্কের পার্থক্যই বলে দেয় টিকে থাকার লড়াইয়ে ওদের হেরে যাওয়ার কারণ এবং আমাদের বিজয়ী হওয়ার গল্প। বাস্তবধর্মী নিউরাল নেটওয়ার্কের কারণে মানুষ প্রযুক্তিগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। অপর দিকে নিনদারথালদের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে গবেষণাগারে ছোট আকৃতির মানব অঙ্গ বিকশিত করতে পেরেছেন। এ অঙ্গগুলোকে বলা হয় ‘অর্গানোয়েড’। নিনদারথালের মস্তিষ্ক বিকশিত করার জন্য তারা ব্যবহার করেছেন এক প্রকার জিনএডিটিং যন্ত্র, যার নাম সিআরআইএসপিআর। এর মাধ্যমে একটি অপরিণত স্টিম সেল (কোষ) থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ কোষ জন্ম নিতে পারে।

গবেষকরা জানান, এই পদ্ধতিতে একটা অঙ্গ বিকশিত হতে সময় লাগে প্রায় ছয় থেকে আট মাস। নিনদারথালের মস্তিষ্কটি পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার পর এর আকৃতি হবে দশমিক দুই ইঞ্চি। এই মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ সম্ভব নয়। তাই এর আকৃতি আর বাড়বে না। বিকিরণ পদ্ধতিতে তা পুষ্টি লাভ করবে। মোট্রি বলেন, ভবিষ্যতে হয়ত আমরা ল্যাবে বড় আকৃতির অঙ্গ বিকশিত করতে পারব। বর্তমানে কৃত্রিম বায়োপ্রিন্টেড শিরা ও ধমনী স্থাপনের গবেষণা চলছে।

x