পেটাটাইটিস : সর্তক হওয়ার এখনই সময়

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস আজ

শনিবার , ২৮ জুলাই, ২০১৮ at ৭:২৬ পূর্বাহ্ণ
53

জন্ডিস ও হেপাটাইসিস : জন্ডিস আমাদের সকলের কাছে খুবই পরিচিত শব্দ এবং এ ব্যাপারে আমরা কম বেশী সবাই বিশেষজ্ঞ। কারো খাওয়ার অরুচি হলে বা শরীর দুর্বল বোধ হলে আশেপাশের সব মানুষ বলে তোমার জন্ডিস হয়েছে। তখনই সবাই দৌঁড়ায় কবিরাজের কাছে জন্ডিস নামানোর জন্য। জন্ডিস আসলে কোন রোগ না। এটি রোগের লক্ষণ মাত্র। চোখের সাদা অংশ হলুদ হওয়াকে আমরা জন্ডিস বলে থাকি। রক্তে বিলিরুবিন নামক একধরনের পিগমেন্টের পরিমাণ বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লিভার আক্রান্ত হয়। তাই জন্ডিসকে কখনো অবহেলা করা উচিৎ না।

জন্ডিস কেন হয় : লিভারের রোগ জন্ডিসের প্রধান কারণ। লিভার নানা কারণে রোগাক্রান্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস এ বি সি ডি ও ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে আমরা বলি ভাইরাল হেপাটাইটিস। বাংলাদেশে জন্ডিসের প্রধান কারণ হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো, এর মধ্যে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস সব চেয়ে মারাত্মক। এ দুটি ভাইরাসের ক্ষেত্রে লিভার সিরোসিস লিভার ফেলিউর ও লিভার ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি ১২ জনের মধ্যে ১ জন এ ভাইরাস বহন করে থাকে কিন্তু আমরা অনেকে জানি না এই ভাইরাসগুলো বহন করছি কিনা।

এছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপান, অটোইমিউন লিভার ডিজিজ এবং বংশগত কারণসহ বিরল লিভার রোগেও জন্ডিস হতে পারে। ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায়ও জন্ডিস হতে পারে, যেমন যক্ষা বা টিভি রোগের ঔষুধ এছাড়া থ্যালাসেমিয়া, পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হয়ে জন্ডিস হতে পারে।

জন্ডিসের লক্ষণসমূহ : জন্ডিস হলে প্রসাব ও চোখ হলুদ হয় তবে হেপাটাইটিস রোগে জন্ডিসের পাশাপাশি অরুচি, বমিবমি ভাব, জ্বর, মৃদু বা তীব্র পেট ব্যথা হতে পারে। এইসব উপসর্গ দেখা দিলে অতিসত্বর লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

জন্ডিসের চিকিৎসা : ভাইরাস হেপাটাইটিস এর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত বিশ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি সাধারণত ৩/৪ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। শুধুমাত্র হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের ক্ষেত্রে লিভারে দীর্ঘ মেয়াদি প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে যা পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ তৈরি করতে পারে।

লিভার সিরোসিস এর চিকিৎসা : লিভার সিরোসিস একটি জটিল রোগ। এই ক্ষেত্রে একজন লিভার বিশেষজ্ঞের অধীনে চিকিৎসা নিতে হবে, হেপাটাইটিস বি ও সি এর ক্ষেত্রে এন্টিভাইরাল থেরাপি নিতে হবে। লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে লিভার ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট একমাত্র চিকিৎসা। লিভার ট্র্যান্সপ্ল্যান্ট অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা। বেশির ভাগ রোগীরই এ চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য থাকে না।

স্টেমসেল থেরাপি’ আশার নতুন দিগন্ত : বর্তমানে পৃথিবীর উন্নত দেশে স্টেমসেল থেরাপির মাধ্যমে লিভার সিরোসিস ও লিভার ফেলিউর এর চিকিৎসা কার্যকর ভাবে চালু আছে। বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এই চিকিৎসা চালু হয়েছে। বেসরকারিভাবে চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে শিওরসল মেডিকেলে এই চিকিৎসা সেবা শুরু করেছে। এটি তেমন ব্যয় বহুল নয় এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত এবং হাসপাতালেও রোগীদের ভর্তি থাকতে হয় না।

শেষ কথা : জন্ডিস অনেক সময় মৃত্যুর কারণ হতে পারে তাই সচেতন হোন এবং আপনার রক্তে হেপাটাইটিস বি বা সি ভাইরাস আছে কিনা জেনে নিন, পরামর্শ নিন লিভার বিশেষজ্ঞের। আপনার লিভার সুস্থ রাখুন।

লেখক : মেডিসিন ও লিভার বিশেষজ্ঞ, কনসালট্যান্ট, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও শিওরসেল মেডিকেল চট্টগ্রাম

x