পেকুয়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জলদস্যু নিহত

তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

চকরিয়া ও পেকুয়া প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
18

র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কক্সবাজারের পেকুয়ায় নিহত হয়েছে কুতুবদিয়ার জলদস্যু সম্রাট দিদার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড তারেকুল ইসলাম তারেক (৩০)। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ওয়ান শুটার গান, ২৩ রাউন্ড গুলি এবং ব্যবহৃত চার রাউন্ড গুলির খোসা। গতকাল বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে পেকুয়ার মগনামা এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে জলদস্যু বাহিনীর
এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। তবে বন্দুকযুদ্ধে র‌্যাবের কোন সদস্য আহত হয়েছে কী-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
র‌্যাব-৭ এর কঙবাজার ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মো. মেহেদী হাসান জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত তারেকুল ইসলাম তারেক কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং এলাকার আবদুস শুক্কুরের ছেলে ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ জলদস্যু দিদার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড।
র‌্যাব কর্মকর্তা আরো জানান, সমপ্রতি জলদস্যুরা সাগর থেকে মাঝি-মাল্লাসহ মাছ ধরার বোট ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে মালিকদের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করে আসছিল তারা। মুক্তিপণ আদায় করতে তারেকসহ একদল জলদস্যু পেকুয়ার মগনামায় আসে। খবর পেয়ে র‌্যাবের একটি টহল দল সেখানে অভিযানে যায়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জলদস্যুরা র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছোঁড়লে র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে সতীর্থরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থল থেকে এক জলদস্যুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
র‌্যাব জানায়, তারেক দীর্ঘদিন সাগরে বোট ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। দিদার মারা যাওয়ার পর তারেকই দিদার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করতো। তার বিরুদ্ধে কঙবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় দস্যুতা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে চারটি মামলা রয়েছে।
মেজর মেহেদী হাসান জানান, তারেকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কঙবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পেকুয়া থানার ওসি মো. জাকির হোসেন ভুইয়া দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘র‌্যাবের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এরমধ্যে একটি হত্যা ও অপরটি অস্ত্র আইনে।’

x