পেঁপে চাষে স্বাবলম্বী

সীতাকুণ্ডে লাভবান দেড় হাজার কৃষক

লিটন কুমার চৌধুরী, সীতাকুণ্ড

শুক্রবার , ১০ আগস্ট, ২০১৮ at ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
11

সীতাকুণ্ডে পেঁপে চাষে দিন দিন কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। পেঁপে চাষ করে প্রায় দেড় হাজার কৃষক লাভবান হয়েছে। এখানে সারাবছরই পেঁপে চাষ হচ্ছে। যা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। ফলন ও লাভ দুটোই ভালো থাকায় অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন কৃষকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার প্রায় সর্বত্রই কমবেশি পেঁপে চাষ করছেন কৃষকরা। তবে সবচেয়ে বেশি পেঁপে চাষ হয় কুমিরা ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায়। দেখা গেছে, সোনাইছড়ি পাহাড় এখন পেঁপে বাগানে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জমি ও সরকারি পাহাড় লিজ নিয়ে এখানে বেশ কয়েকটি পেঁপে বাগান গড়ে তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এলাকাবাসী জানান, সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়ার ফুলতলা পাহাড়ে ইতিমধ্যে পেঁপে চাষের জন্য সুপরিচিতি। পার্শ্ববর্তী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পাহাড়েও উল্লেখযোগ্য পেঁপে চাষ হয়ে থাকে। ফলে এখান থেকে পেঁপে কিনতে প্রতিদিন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা ভিড় করে। ফুলতলার পেঁপে চাষী মো. নাসির উদ্দিন জানান, তিনি নিজে ৫০শতক জমিতে পেঁপে চাষ করেছেন। ভাল ফলনও হয়েছে। গত দুইসপ্তাহে কয়েকদফা পেঁপে বিক্রি করেছি। তিনি জানান, শুধু কুমিরা এলাকাতেই পেঁপে চাষ করে অনেক কৃষক নিজেদের ভাগ্য বদল করেছেন।

কৃষক আমজাদ হোসেন জানান, চাষাবাদে সার, কীটনাশক, শ্রমিক মুজুরি, চারা ক্রয়সহ বিভিন্নভাবে তার খরচ যা হয়েছে তার দ্বিগুন লাভবান হয়েছি। তিনি জানান, শীত ও বর্ষা সবসময় তারা পেঁপে চাষ করেন। পাহাড়ি এলাকায় পেঁপে চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বর্ষাতেও গাছের গোড়ায় পানি না জমায় তেমন ক্ষতি হয় না।

কৃষকরা জানান, চলতি বর্ষাতেও উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হলেও পেঁপে বাগানগুলোর ক্ষতির কোন আশংকা নেই। ফলে অনেকটা নিশ্চিন্তে চাষাবাদ করছেন তারা।

গাছেও ফলন খুব ভালো। প্রতি কেজি পেঁপে পাইকারী দরে ১৫/২০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। তবে সরকারিভাবে পেঁপে চাষীদের তেমন কোন সহায়তা প্রদান করা হয় না। যদি সহজ শর্তে কৃষি ঋণসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হতো তাহলে কৃষকরা আরো অনেক বেশি আগ্রহী হতো বলে তাদের অভিমত।

পেঁপে চাষে স্থানীয় চাষীরা সচ্ছল হচ্ছে জানিয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ সালেহীন বলেন, সীতাকুণ্ডে ২৫০হেক্টর জমিতে দেড় হাজার জন কৃষক পেঁপে চাষ করেন। সোনাইছড়ি থেকে ছোটকুমিরার সুলতানা মন্দির পর্যন্ত এলাকার পাহাড়ে প্রচুর পরিমাণে পেঁপে চাষ হয়ে থাকে।

স্থানীয় চাহিদা পূরণ এসব পেঁপে দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি হচ্ছে যার কারণে চাষীরা প্রায় সকলেই লাভবান হচ্ছে এবং চাষে আগ্রহের সাথে এগিয়ে আসছে।

x