পূরণ হয়নি চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা, কমবে আয়

রবিবার , ১৮ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
57

কোরবানির ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্টের কারণে সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় রপ্তানি আয় কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাম না পাওয়ায় চামড়া রাস্তায় ফেলে, নদীতে ভাসিয়ে ও মাটির নিচে চাপা দিতে দেখা গেছে। খবর বাংলানিউজের।
পোস্তার ব্যবসায়ীরা (আড়তদার) কোরবানি উপলক্ষে ৩৫ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় রপ্তানি আয়েও প্রভাব পড়বে। ব্যাপক দরপতনের পর পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় ও নষ্ট হওয়ায় তা পূরণ করতে পারেননি আড়তদাররা। নষ্ট চামড়াগুলো যথাসময়ে লবণ দিয়ে রাখলে আড়তদাররা তা নিতে পারতেন, যা পরে কাঁচামাল হিসেবে ট্যানারিগুলোতে আসতো। সেখানে প্রক্রিয়াজাতের পর রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চামড়া নষ্ট হওয়ার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চামড়া সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে কাঁচা চামড়া কেনা শেষ। এখন ট্যানারি মালিকের অপেক্ষায়। তবে এবছর ঈদের পর পোস্তার চিরচেনা রূপ দেখা যায়নি। সাধারণত কোরবানির ঈদের দিন দুপুর থেকে পোস্তায় কাঁচা চামড়া প্রবেশ করে। কিন্তু এ বছর ছিল তার উল্টো চিত্র। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খুব কম সংখ্যক চামড়া পোস্তায় নিয়ে এসেছেন। যাও নিয়ে এসেছেন তা দাম না পেয়ে কেউ ফেলে দিয়েছেন। আবার কেউ আড়তদারদের বলেছেন টাকা পড়ে দিন এখন চামড়া রাখুন। অনেকেই গাড়িবোঝাই চামড়া পোস্তায় না এনে রাস্তাতেই ফেলে দিয়েছেন। এ কারণে এবার আড়তদাররা লক্ষ্য অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি। এবছর ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এসব চামড়ার উপযুক্ত মূল্য পেলে কাঁচামাল হিসেবে আড়তে, পরে ট্যানারিতে চলে আসতো। এরপর প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রপ্তানি হতো। অর্জিত হতো বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু তা না হওয়ায় এবার এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি হাজি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এবার কোরবানি উপলক্ষে ৩৫ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু তা পূরণ করতে পারিনি। কারণ বিভিন্ন কারণে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় কিনতে পারিনি। যেহেতু চামড়া সংগ্রহ কম হয়েছে তাই রপ্তানিও কম হবে, আয়ও কমে যাবে।
তিনি বলেন, সরকার রপ্তানির যে ঘোষণা দিয়েছে তা আরো আগে দিলে একপিস চামড়া কোথাও নষ্ট হতো না। দাম না পেয়ে হতাশা থেকে চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ এটি জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া রপ্তানির সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দাবি করেছে। কোনোভাবেই তাদের দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কাঁচা চামড়ার ন্যায্যদাম নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই তা রপ্তানির সুযোগ দিতে হবে বলে জানান তিনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। পাশাপাশি এখাতে ব্যাংকের দেওয়া ৭শ’ কোটি টাকার ঋণ কিভাবে ব্যবহার হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া কাঁচা চামড়া রপ্তানির সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চান পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ত মালিকরা। অন্যদিকে ট্যানারি শিল্পের উদ্যোক্তারা সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সারাদেশে এ বছর প্রায় সোয়া কোটি গবাদি পশু কোরবানি হয়েছে। মৎস্য, পশু ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয় কোরবানির ঈদে। এ বছর কমপক্ষে ১ কোটি ১৮ লাখ পশুর চামড়া কেনা-বেচা হওয়ার কথা।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে আয় ৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা (১০৯.৩০ কোটি মার্কিন ডলার) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাঁচামাল সংকটের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

x