পূজা কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বেই খুন বিশু

পাহাড়তলীতে যুবকের লাশ উদ্ধার ঘটনা

সোহেল মারমা

শনিবার , ১৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
666

নবগঠিত পূজা কমিটির নির্বাচন ও নেতৃত্ব নিয়ে মনোমালিন্য ছিল শিমুল ধর বাবু (৩০) ও বিশু কুমার ধরের (২৮) মধ্যে। এছাড়া এলাকায় বিশুর জনপ্রিয়তা ছিল। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভ। তাই ওকে খুন করার জন্য দুদিন আগে লালদিঘি এলাকা থেকে একটি ছুরি কেনেন শিমুল। সেই ছুরি দিয়ে হত্যা করা হয় বিশুকে। গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর পাহাড়তলী সাগরিকা গরুর বাজার সংলগ্ন শিববাড়ি মোড় থেকে বিশুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ খুনের ঘটনায় নিহতের বাবা মিলন কুমার ধর বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বলে জানান ওসি সদীপ কুমার দাশ। খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিমুল ধরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি পাহাড়তলী থানার দক্ষিণ কাট্টলী বণিকপাড়ার মৃত গোপাল কৃঞ্চ ধরের ছেলে। পাহাড়তলী বাজারে মুক্তা জুয়েলার্স নামে তার একটি স্বর্ণের দোকান আছে। শিমুল গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে গতকাল বিকালে পাহাড়তলী থানা পুলিশ কার্যালয়ে জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) আমেনা বেগম। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে পাহাড়তলী থানাধীন বাইন্যাপাড়া শিবমন্দির বাই লেন লক্ষ্মী মহাজন বাড়ির পাশে রাস্তার উপর ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের অর্থ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ উপ-কমিটির সদস্য বিশু কুমার ধরকে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় খুলশী থানাধীন চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে শিমুল ধর প্রকাশ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে শিমুল খুনে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় তার কাছ থেকে ছুরি এবং রক্তমাখা কাপড় জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক অর্নব বড়ুয়া আজাদীকে বলেন, হত্যাকাণ্ডটি পূর্ব পরিকল্পিত ছিল। যে ছোরা দিয়ে বিশু ধরকে খুন করা হয়েছে সেটি শিমুল দুদিন আগে লালদিঘি মোড়ে একটি দোকান থেকে কেনে। ছোরাটি কেনার পর দোকানে রেখে দেয়। ঘটনার দিন বিশুর সাথে দেখা করতে যাওয়ার সময় শিমুল ছুরিটি পকেটের ভেতর নিয়ে যায়। গলা, বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে বিশুকে খুন করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজার নেতৃত্বের পাশাপাশি আরও কিছু কারণে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে শিমুল ও বিশুর মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল। পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রত্যাশী ছিলেন রাজীব কুমার ধর ও শিবু শীল। ওই নির্বাচনে বিশু রাজীবের হয়ে কাজ করেছিলেন। আর শিমুল কাজ করেন শিবুর হয়ে। পরবর্তীতে রাজীব সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। এটা ছাড়াও নির্বাচনে আরও কিছু ঘটনায় বিশুর ওপর ক্ষুদ্ধ ছিলেন শিমুল।
পুলিশ সূত্র বলেছে, নির্জন এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেখে ফেলেন স্থানীয় ১৪ বছরের এক কিশোরী ও তার এক বান্ধবী। তাদের দেওয়া ঘটনার বিবরণ অনুসারে রাতেই অভিযানে নামে পুলিশ।

এর আগে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে শিমুল পাহাড়তলী থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাজীব কুমার ধরকে ফোন করে জানান, বিশু ও তাকে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছিল। কোনোভাবে তিনি পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন। এ সময় বিশুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার কথা জানান শিমুল। পরে শিমুলের ওপর সন্দেহ হয় পুলিশের। এর মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ওই কিশোরী পুলিশকে জানায়, একজন যুবককে ছুরিকাঘাতে বিশুকে খুন করতে সে দেখেছে। তার বর্ণনার সঙ্গে শিমুলের চেহারা ও শরীরের গঠন মিলে যায়।
পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুলশী চক্ষু হাসপাতালের সামনে থেকে শিমুলকে গ্রেপ্তার করে বলে জানান উপ-পরিদর্শক অর্নব। এ সময় ওই কিশোরীকে এনে শিমুলকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর শিমুল দাবি করেন, মূলত বণিকপাড়া পূজা কমিটি নিয়েই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। বিশু সবসময় শিমুলকে এসব বিষয় নিয়ে বিরক্ত করত। কয়েকবার তাদের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে। আমাদের বাড়ি নিয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের সঙ্গে বিরোধ চলছে। সালিশ বৈঠকের জন্য যাচ্ছিলাম। বিশুদা আমাকে বলেন, তিনিও যাবেন। আমি তাকে আনার জন্য সাগরিকা শিববাড়ির মোড়ে যাই। তিনি টিউশনি থেকে বের হন। সেখানে আবারও আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। তখন হাতাহাতিও হয়। আমি পকেট থেকে ছোরা বের করে তাকে আঘাত করি। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যাই।

x