পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না নতুন দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র

সমস্যা সমাধানে লাগবে আরো ২-৩ মাস

ইকবাল হোসেন

শুক্রবার , ১২ জুলাই, ২০১৯ at ৭:২২ পূর্বাহ্ণ
184

সঞ্চালন জটিলতার কারণে পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না চট্টগ্রামের নতুন দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরমধ্যে ১০৫ বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেড ও ৩০০ মেগাওয়াট আনোয়ারা ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবিএল) বলছে, শিকলবাহা-মদুনাঘাট ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন তৈরি শেষ হলেই সমস্যাটির সমাধান মিলবে। এজন্য ২-৩ মাস অপেক্ষা করতে হবে।
জানা যায়, বর্তমান ২২৫ মেগাওয়াট শিকলবাহা রিসাইকেল পাওয়ার প্লান্ট ও ইসিপিভিএল ১০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাঝামাঝিতে নির্মিত হয়েছে ১০৫ মেগাওয়াট বারাকা শিকলবাহা পাওয়ার লিমিটেড। ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গত ১৯ মে থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।
অন্যদিকে আনোয়ারার পারকিতে ৩০০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড আনোয়ারা পাওয়ার লি. বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ। এতে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করেছে প্রায় ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ২২ মে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র দুইটি চালুর পর থেকে সঞ্চালন জটিলতায় পড়েছে কর্ণফুলী পাড়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। সর্বশেষ ১০ জুলাই কর্ণফুলী পাড়ের ২২৫ মেগাওয়াট শিকলবাহা রিসাইকেল পাওয়ার প্লান্টে ১৫৭ মেগাওয়াট, ১৫০ মেগাওয়াট শিকলবাহা পিকিং পাওয়ার প্লান্টে ১৪০ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াট জুলধা-ওয়ান কেন্দ্রে ৮৮ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াট জুলধা-থ্রি পাওয়ার প্লান্টে ১০০ মেগাওয়াট, ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভিএল পাওয়ার প্লান্টে ১২ মেগাওয়াট, ১০৫ মেগাওয়াট বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ১৭ মেগাওয়াট এবং ৩০০ মেগাওয়াট আনোয়ারা ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্টে ১৯২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এইদিন এই সাত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৭০৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে।
৩০০ মেগাওয়াট ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্টের প্রকল্প পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মো. কামরুদ্দীন আহমেদ দৈনিক আজাদীকে জানান, ‘পিজিসিবি’র সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফরমারগুলো ওভারলোড হওয়ার কারণে ইউনাইটেড পাওয়ারে সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।’
একইকথা বলছেন কর্ণফুলী পাড়ের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সমন্বয়ক ও শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী ভূবন বিজয় দত্ত। তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইন না থাকায় পুরো বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।’
পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ১০ জুলাই ইউনাইটেড পাওয়ার ১৯২ মেগাওয়াট, বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ১৭ মেগাওয়াট, ৯ জুলাই ইউনাইটেড পাওয়ার ২১২ মেগাওয়াট, বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ৩৫ মেগাওয়াট, ৮ জুলাই ইউনাইটেড পাওয়ার ২১২ মেগাওয়াট, বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ৩৫ মেগাওয়াট, ৭ জুলাই ইউনাইটেড পাওয়ার ১৯০ মেগাওয়াট, বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।
পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, শিকলবাহা গ্রিড স্টেশন দিয়ে সর্বোচ্চ ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা সম্ভব হয়। কর্ণফুলী নদীর পাড় ঘেঁষে আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়ায় নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ শিকলবাহা গ্রিড স্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন অনুযায়ী সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা না থাকার কারণে সমন্বয় করে উৎপাদন করতে হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে। যে কারণে নতুন দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছে না।
এব্যাপারে পিজিসিবিএল চট্টগ্রামের ২৩০/১৩২ শিকলবাহা উপকেন্দ্রের সহকারি প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার সাহা দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘মদুনাঘাট-শিকলবাহায় একটি ২৩০ কেভির নতুন সঞ্চালন লাইন নির্মিত হচ্ছে। এই লাইনটি নির্মিত হলেই কর্ণফুলী পাড়ের সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা সম্ভব হবে। নতুন এই লাইনটির নির্মাণ শেষ হতে আরো ২-৩ মাস লাগতে পারে।’

x