(পুরুষ যে-ই হোক না কেন)

রোকসানা বন্যা

মঙ্গলবার , ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
341

বাংলাদেশে ধর্ষণ বেড়েছে। বেড়েছে ধর্ষণের পর হত্যা। দেশের বিভিন্নস্থানে হত্যা আর নির্যাতনের সংখ্যাও বেড়েছে অনেক। ধর্ষণের হাত থেকে এক বছরের শিশুও রেহায় পাচ্ছে না। বছরে তিন শতাধিক শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এতো ধর্ষণের কারণ কি? অনেকেই বলে নারীর পোশাক। নারীরা বেপরোয়াভাবে বেপর্দায় চলাফেরার কারণে ধর্ষণের শিকার। নাকি ছোট পোশাক? ধর্ষণ একধরনের যৌন আক্রমণ। অনুমতি না নিয়ে যৌনসঙ্গম বা অন্য কোন ধরনের যৌন হয়রানিই ধর্ষণ। অনেকেই বলে নারীরা রেখেঢেকে চলে না বলেই ধর্ষণ বেড়েছে। পুরুষের চোখ তো! এতো খোলামেলাভাবে চলাফেরা করলে কীভাবে সংবরণ করবে। বুঝলাম নারীর অশালীনতাই দায়ী ধর্ষণের জন্য। কিন্তু এই শিশুরা? তাদের কী দেখে ধর্ষকের যৌনতৃষ্ণা বাড়ে? বোরকা পরে, নেকাবে ঢেকে রাখা নারীও তো রেহায় পাচ্ছে না তাদের কাছ থেকে। যাদের মনমানসিকতা, শালীন দৃষ্টিভঙ্গি, সম্মানবোধের অভাব তারাই এমন ঘৃণিত কাজে লিপ্ত থাকতে পারে। আর দেশে অবাধ পর্নোগ্রাফির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইউটিউব, অনেক বিজ্ঞাপন যা দেখে জানতে পারছে কী খেলে শরীরকে উত্তেজিত করতে হয়, কী খেতে হবে যৌনমিলনে। ইন্টারনেটের পর্নো সাইটগুলো এসবের জন্যই দায়ী। তাছাড়া বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, রাজনৈতিক ছত্রছায়ার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। কিছু শ্রেণির লোক, যারা পরিবার বাড়িতে রেখে কাজের জন্য বিভিন্নস্থানে যেতে হচ্ছে বা থাকতে হয়।কাজের মাধ্যমে তাদের পেটের ক্ষুধা হয়তো মিটছে কিন্তু শারীরিক ক্ষুধা তো থেকেই যাচ্ছে। তারা মন ভালো রাখার জন্য নানারকমের ইন্টারনেট চার্চ করে থাকে। তখন মরিয়া হয়ে ওঠে। যার ফলে তাদের বিকৃতরূপ দেখা দেয়। একটা সময়ে পতিতালয় ছিলো। অন্ন সংস্থানের জন্য টাকার বিনিময়ে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অন্যকে যৌনতৃপ্তি দেয়া মানুষগুলোকে পতিতা বা যৌনকর্মী বলি। যে নামেই ডাকিনা কেন এটা তাদের পেশা। নির্ধারিত জায়গায় তাদের বাস ছিল। একটা সময়ে বৈধ পতিতালয় ছিল বাংলাদেশেও। দৌলতদিয়া, কান্দুপট্টি, টানবাজার, সন্ধ্যাবাজার, গাঙ্গিনাপাড় পতিতালয়, এবং চট্টগ্রামের সদরঘাটেও ছিল একটা। এটার কিন্তু একটা ভালো দিকও ছিলো। যাদের ইচ্ছে হতো তারা সেখানেই যেতো। যত্রতত্র বা সারা শহরময় যৌনকর্মীরা ঘুরে বেড়াতো না। আমার মতে নির্দিষ্ট জায়গায় আবার পতিতালয় গড়ে তোলা যেতে পারে। তাতে হয়তো এই লম্পট কামার্ত পুরুষ থেকে কিছুটা রেহাই পেতে পারে এই শিশু বা নারীরা। কন্যাদের বলছি, পুরুষ যে-ই হোক না কেন, সে যদি তোমার শরীরে হাত রাখে, তাহলে তুমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করো যত শক্তি আছে তোমার। তাহলে হয়তো কিছুটা রক্ষা পেতে পারো।

x