পুনর্মিলনীর ছলে বন্ধু খুঁজে ফেরা!

এসএসসি-৯৫-এইচএসসি-৯৭

সফিক চৌধুরী

শনিবার , ২৮ জুলাই, ২০১৮ at ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
292

আমরা আমাদের চলতি পথে অনেকের সঙ্গেই বিভিন্ন সম্পর্কে জড়াই, কিন্তু সব সম্পর্কই সব সময় জীবনের পূর্ণতা দেয় না! বলা যায়, সব সম্পর্কই দিনের শেষে সম্পর্কিত হয়ে উঠেনা। কারণ, এই সম্পর্ক গুলোর বেশিরভাগই গড়ে উঠে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে! কিন্তু, এর মাঝেও কিছু সম্পর্ক তখনই বন্ধুত্বে গড়ায়, যখন তাতে যুক্ত হয় পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মমত্ববোধ। আর তাই, বন্ধুত্বের নির্দিষ্ট কোন বয়স বা গন্ডি নেই! লেবানিজ দার্শনিক কাহলিল জিবরান বলেছেন, ‘বন্ধু তো সেইজন যে ধারণ করবে তোমার আত্মা, যাকে দেখে তোমার মনে হবে আলো আসছে আলো!’

আর এই বন্ধুত্বের মাঝে যা মানুষকে বেশি আলোড়িত করে নির্দ্বিধায় তা স্কুলকলেজের দুরন্ত বন্ধুত্ব! কারণ তার বেশিরভাগই গড়ে উঠে নিজের স্বার্থ বুঝতে শেখার আগে! প্রখ্যাত বাঙালি রম্য লেখক শিবরাম চক্রবর্তী লিখেছিলেন, ‘বন্ধু পাওয়া যায় সেই ছেলেবেলায় স্কুলকলেজেই, তাঁরা হলো প্রাণের বন্ধু কিন্তু, একটা সময় মেয়েদের ভালোবাসার মতোই তাঁরা কোথায় যেন হারিয়ে যায়!’ সেই হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের আবারও খুঁজে পাওয়ার আকাংখায় ঈদ পুনর্মিলনীর ছলে ‘টুগেদার ফরএভার, উই আর ৯৫/৯৭’ মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে গত ২০ জুলাই তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ফেবু ভিত্তিক সারা বাংলাদেশের ’৯৫-’৯৭ এসএসসিএইচএসসি ব্যাচের জমজমাট বন্ধু সম্মিলন।

বিগত বছরকয়েক আগে ’৯৫-’৯৭ ব্যাচের কিছু উদ্যমী আর চৌকস বন্ধুদের উদ্যোগে পুরনো হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের আবারও খুঁজে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় আর বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার মানসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তৈরি করা হয় এসএসসিএইচএসসি ’৯৫-’৯৭ গ্রুপ। যা আজ প্রায় ৭৫০০ জনের অধিক সদস্যের বিশাল এক পরিবার। ধীরে ধীরে বেড়ে উঠা এই গ্রুপ যে সকলের মাঝে প্রাণের বান এনেছে তার প্রমাণ পাওয়া গেল সারা বাংলাদেশের সব বন্ধুদের নিয়ে প্রথম এই আয়োজনে। হারিয়ে যাওয়া পুরনো স্কুল বন্ধু আর বহু আগে ফেলে আসা কলেজের প্রিয় সহপাঠীদের খুঁজে পেয়ে ছেলেবেলা আর কৈশোরের পুরনো অনেক স্মৃতিই যেন তাড়া করে ফিরছিল সকলের মনে আর বন্ধুদের সামনে পেয়ে সকলেই হয়ে পড়েছিল ভীষণ নষ্টালজিক। দূরত্ব যে কখনোই প্রাণের বন্ধুত্বে কোন ছেদ ফেলেনা, তা আবারও সেদিনের মিলন মেলায় আগত বন্ধুদের

কাছে প্রমাণিত। সেদিন মিলিত হওয়া বন্ধুদের দেখে বুঝা গেল সম্পর্কে আন্তরিকতা, বিশ্বস্ততা, শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসা থাকলে প্রাণে প্রাণ মিলবেই।

প্রাণবন্ত আড্ডা ও উচ্ছলতায় মুখরিত সন্ধ্যা

২০ জুলাই সেদিনের সেই বিকালটি অন্য অনেকের কাছেই সাদামাটা মনে হলেও ’৯৫-’৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের চোখে ছিল উচ্ছ্বাস আর মনে ছিল নানা রঙ আর ভাবনায় ছিল পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে প্রাণের মেলায় পুরনো ভালোবাসা আর সুদীর্ঘ প্রায় ২৩২৫ বছর আগের স্কুলকলেজের প্রিয় বন্ধুর মুখ দেখতে পারার উদগ্র বাসনা! গ্রুপের বন্ধু সদস্য বিপ্লব, ফরাজি, কিবরিয়া, মুন, নিম্মি, কিউটি, সুমি, কামাল, সজল, শাহরিয়ার, রাজিব সহ এমন আরও কিছু বন্ধু আর বিশেষ করে গ্রুপের এডমিন সদস্য ডা. রাজিব ঘোষসহ এডমিন প্যানেলের ডা. পলি, রেজোয়ানএফসিএ, বাংলাদেশ নেভী’র কর্মকর্তা নাজমুল, ব্যাংকার মাসুম, মহসিন ও কিবরিয়া’র উদ্যোগে তাঁরা এই পুনর্মিলনী’র আয়োজন করে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে, যেখানে ব্যাচের প্রিয় বন্ধু আশিক আর সোমা’র প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় নাচগানকবিতা আবৃত্তি, র‌্যাফেল ড্র, কেক কাটা আর চেনা অচেনা পুরনো বন্ধুদের প্রাণবন্ত আড্ডা, উচ্ছলতায় সকলেই যেন ফিরে যায় শৈশব আর কৈশোরের সেই দুরন্তপনায়। সেখানে কর্মসূত্রে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কর্মব্যস্ত আর কর্মক্ষেত্রে রাশভারি বন্ধুগণ পুরনো বন্ধুদের পেয়ে হয়ে উঠেন নস্টালজিক আর বালকসুলভ! নস্টালজিয়া আর এলেবেলে কথামালায় কখন যে রাত গভীর হয়ে আসে তা টেরই পাওয়া যায় নি! ধীরে ধীরে ঘনিয়ে আসে বিদায়ের ক্ষণ, অবসান হলো প্রাণের মেলার! কিন্তু, সকলেই নিশ্চিত, পুনর্মিলনী উৎসব হয়তো ফুরালো, কিন্তু প্রাণে যে মিলনের বান এসেছে তা তো সহজে ফুরোবার নয়! সকলের বিশ্বাস, প্রাণের এই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে যাবে সবার মাঝে। যারা মিলেছিল আর যারা আসতে পারেনি প্রাণের এই উৎসবে সবার সাথেই আগামীতে আবার দেখা হবে, এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে আগামীতে, আবার দেখা হবে আর ভুলে যাওয়া নয়, এই কামনায় অশ্রু সজল চোখে সমাপ্তি ঘটে অসাধারণ এক পুনর্মিলনী উৎসব।

x