পুনঃপ্রচার কমেছে, হচ্ছে জোড়াতালির অনুষ্ঠান

সাতদিন

আয়শা আদৃতা

বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
42

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে এক সময়ের বিরক্তিকর পুনপ্রচার অনুষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে। এ জন্য কর্তৃপক্ষ ধন্যবাদ পেতেই পারেন। কারণ দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামের দর্শক একই অনুষ্ঠান বারবার দেখতে দেখতে বিরক্ত ছিল। এ বিষয়টি এ কলামে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গত কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করার পর পুনঃপ্রচার আশানুরূপভাবে কমেছে বলে উল্লেখ করা যায়। এখন সে হিসেবে অনুষ্ঠানের মান বাড়লে এ চ্যানেলটির দ্রুতই দর্শকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। একইসাথে জোড়াতালির অনুষ্ঠানও যেন চালিয়ে দেওয়া না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কেননা, এই অনুষ্ঠান থেকে দুইটা গান, অন্য অনুষ্ঠান থেকে দুইটা গান দিয়ে যদি অনুষ্ঠান বানানো হয় তাহলে তা্‌ও একসময় গিয়ে দর্শকদের কাছে বিরক্তিকর হয়ে উঠবে। যেমনটি হয়েছে গত ১২ নভেম্বর প্রচারিত মাটির ঘ্রাণ অনুষ্ঠানে। আঞ্চলিক ও পল্লী গীতির এ অনুষ্ঠানটি সাধারণত অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোর তুলনায় কিছুটা ভালো। তাই এ অনুষ্ঠানটি নিয়ে জোড়াতালি মার্কা কাজকারবার না করলেই ভালো। এতে অনুষ্ঠানের মান বজায় থাকবে। ১২ নভেম্বর প্রচারিত অনুষ্ঠানটি মূলত পুরোনো দুটি অনুষ্ঠানের বাছাই করা সংকলন। গিরিজা রাজবরের সঙ্গীত পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মোট ছয়জন শিল্পী ছয়টি গান পরিবেশন করেন। শিল্পী অনুপ কুমার নন্দীর কণ্ঠে এম এন আখতারের লেখা ও সুর করা ‘তোমার কলসি ভাঙ্গিয়া/আমার হইলো যে বদনাম’ এবং অনুপম চৌধুরীর কণ্ঠে ‘দে দে পাল তুলে দে/মাঝি হেলা করিস না’ গান দুটো ভালো লেগেছে। রীনা দাশের কণ্ঠে হাছন রাজার ‘মাটিরও পিঞ্জিরার মাঝে’ গানটি কেমন যেন পানসে। জনপ্রিয় এ গানটির সুর তিনি দর্শকরে কাছে হৃদয়গ্রাহী করে তুলতে পারেননি। সে তুলনায় রেজাউল আলম মোরশেদের কণ্ঠে ‘কাজল কালো কন্যা তোমার/ভ্রমর কালো চুল’ গানটির কথা ও গায়কী বেশ শ্রুতিমধুর ছিল। মো. নাসিরের কথা ও সুরে হারুন অর রশিদের কণ্ঠে ‘আমি পিরিত করে আছি মরে/কে বলে পিরিতি ভালো, আমার ভালো হলো কই’ গানটি ততটা মন ছুঁতে পারেনি। তার চেয়েও বেশি বিরক্তিকর ছিল বিয়ে বাড়ি নিয়ে প্রকাশ পালের গাওয়া গানটি। গাইতে গাইতে তিনি যেভাবে অঙ্গভঙ্গি করেছেন সেটা যথেষ্ট দৃষ্টিকটূ। অনুষ্ঠানের শুরু আর শেষে উপস্থাপক ইভা মনির সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবারই অনুষ্ঠান শেষ করেন আগামীতে আরো ভালো কিছু উপহার দেয়ার আশাবাদে। সত্যি সত্যি তেমন কিছু হলে দর্শক ও কর্তৃপক্ষ উভয়ের জন্যই ভালো।
নিউমোনিয়া দিবস ছিল গত ১২ নভেম্বর। এ উপলক্ষে প্রচারিত স্বাস্থ্য তথ্য অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. রাশেদা সামাদ ও ডা. বাসনা মুহুরী। ডা. মাসুদ রানার উপস্থাপনায় দু চিকিৎসক নিউমোনিয়া হওয়ার কারণ, এ রোগ থেকে বেঁচে থাকতে করণীয়, চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া, রোগির যত্ন করা সহ নানা বিষয়ে দর্শকদের সতর্ক করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন।
কলেজ ভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রিয় প্রাঙ্গনে এবারে প্রচারিত হয়েছে চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজের (এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ) পরিচিতি। কলেজের নানা বিষয় তুলে ধরেন অধ্যক্ষ তহুরিন সবুর ডালিয়া। আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে শিক্ষার্থীরা নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন।

- Advertistment -