পুঁজিবাদের এখন বয়স হয়েছে-এই বার্ধক্যের মৃধ্যে সে যৌবনের ভাব করছে-এর আরো অধঃপতন হবে

একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

ইরতিশাদ আহমদ

শুক্রবার , ২২ জুন, ২০১৮ at ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
82

[২৩ জুন আমাদের অতীব শ্রদ্ধাভালোবাসার প্রিয়জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব জাতির বিবেকবাতিঘর সর্বজন শ্রদ্ধেয় লেখক, বুদ্ধিজীবী, অপরিমেয় পাত্যের অধিকারী ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী। স্যারের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্যারের একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। দৈনিক আজাদী’র পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করলাম।]

স্যারের লেখার সাথে আমার পরিচয় সেই আশির দশক থেকে। পড়তাম না বলে গোগ্রাসে গিলতাম, বলাই সমূচিত। তখন থেকেই তিনি আমার শিক্ষক। কিভাবে চিন্তা করতে হয়, কিভাবে ঘটনার বিশ্লেষণ করতে হয়, আর তা লেখায় প্রকাশ করতে হয় আমি মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে পড়তাম আর জানতে চেষ্টা করতাম।

আমাদের সৌভাগ্য একাত্তরের ঘাতকেরা তাঁকে খুঁজে পায় নি। তাঁর নাম ছিল হত্যার জন্য নির্ধারিতদের রাও ফরমান আলী খানের তালিকায়। ঢাকা ছেড়ে যাবার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছয়জন শিক্ষককে টিক্কা খান লিখিত ভাবে সতর্ক করে দিয়ে যায়, স্যার ছিলেন তঁদেরই একজন।

* গণজাগরণ মঞ্চ প্রসঙ্গে

** আমাদের তরুণরা পুঁজিবাদ বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী, এরা পথ খুঁজছে। শাহবাগের কথা ধর। এদের গণজাগরণটা ছিল সরকার বিরোধী, মৌলবাদ বিরোধী। সংগঠন ছিল না। আওয়ামী লীগ এদেরকে ব্যবহার করতে চাইলো ভোটের জন্য, আওয়ামী লীগ ভাবলো এদেরকে দিয়ে ভোট সংগ্রহ করা যাবে। সিপিবি ভাবলো এদের ওপরে ভর করবে। (সিপিবির আবার সবসময়ই থাকে একটা ভর করার প্রবণতা।) সিপিবির নিজস্ব সংগঠন তেমন শক্তিশালী নয়।

গণজাগরণ মঞ্চ তাই এখন দুই ভাগ হয়ে গেছেএক ভাগ চলে গেছে আওয়ামী লীগের দিকে আরেক ভাগ সিপিবির দিকে। মূল সমস্যাটা হচ্ছে বিক্ষুব্ধ তরুণদের নিজেদের সংগঠন না থাকা। ইজিপ্টের যে সমস্যা আমাদেরও তাই। মানুষ অল্টারনেটিভ চাচ্ছে, পাচ্ছে না। লেফটরা অল্টারনেটিভ দিতে পারছে না, তাই তারা রাইটের দিকে চলে যাচ্ছে। আমার অভিজ্ঞতায় তারা পুঁজিবাদ বিরোধী। কিন্তু তারা যাবে কোথায়?

* মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ক্ষমতা ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গে

** মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বলে যারা হট্টগোল করে তাদের ওপরে মানুষের আস্থা নেই। গত ছেচল্লিশ বছরে মানুষ এদের কাছ থেকে তেমন কিছু পায় নি। এরা দুর্নীতির সাথে যুক্ত, লুণ্ঠনের সাথে যুক্ত। এরা যতই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলছে মুক্তি যুদ্ধের চেতনা ততই দুর্বল হচ্ছে।

স্বাধীনতার পরে সব সরকারই অত্যাচারী ছিল। কম আর বেশী। এখনতো দেখছি সবচেয়ে বেশী। সরকার কণ্ঠরোধ করছে, মত প্রকাশের কোনো সুযোগ রাখছে না। কিন্তু প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ মত প্রকাশ করে যাচ্ছে, ব্যঙ্গোক্তি করছে। এই যোগাযোগটাতো হচ্ছে। প্রযুক্তি এখানে আনুকূল্য দিচ্ছে। কিন্তু অসুবিধাটা হচ্ছে, আমরা যাকে সাবজেক্টিভ এলিমেন্ট বলি, সেই সাংগঠনিক অবস্থাটা নেই। সেই সংগঠনটা গড়ে তোলা যায় নি।

বামপন্থীরা কেউ কেউ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে, এরা যে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এটা নিজেরাও বুঝতে পারছে না।

* উপমহাদেশের বামপন্থী আন্দোলন প্রসঙ্গে

** এদেশে বাম আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অসুবিধা করেছে কমিউনিস্ট পার্টি নিজে। বিপ্লব করতে পারে নাই। কেন পারে নাই? কারণ তারা বিভ্রান্ত ছিল। দু’টো বিরাট বিভ্রান্তি তাদের ছিল। প্রথমত, তারা কৃষককে বুঝতে পারে নাই। একবারে বই পড়ে অস্পষ্ট বিভ্রান্ত ধারণা নিয়ে তারা বিপ্লব করবে বলে আশা করেছিল।

দ্বিতীয়ত, তাদের ছিল পরনির্ভরতা। মধ্যবিত্ত ভীষণ রকমের পরনির্ভর। বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২তে সুভাষ বসুর এবং গান্ধীর কুইট ইন্ডিয়া আন্দোলনের সময় বিরাট একটা সুযোগ কমিউনিস্টদের ছিল। তখনই তারা মস্ত বড় ভুলটা করলো।

ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বিপ্লব করবে, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবে, সাহসের সঙ্গে এই স্বপ্ন দেখে নাই। ক্রিটিক্যাল মুহূর্তে, ভারত যখন ভাগ হচ্ছে তখন তাদের কোন ভূমিকা নাই। তাত্ত্বিক ভাবে তারা বুঝেছিল যে এই উপমহাদেশে সতেরটি জাতি আছে। কিন্তু এই উপলদ্ধিকে তারা কার্যক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে নাই।

* জাসদ এবং তখনকার রাজনীতি প্রসঙ্গে

** জাসদ ছিল বঙ্গবন্ধুর ওপরে নির্ভরশীল, তাই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর সাথে সাথে জাসদের রাজনীতিও শেষ হয়ে যায়। জাসদ আসলে কি? জাসদ মুজিব বাহিনীরই উত্তরাধিকারী ও অনুসারী একটা অংশ। মনে রাখা দরকার, মুজিব বাহিনী কেন গঠন করা হয়েছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নয়, মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়েছিল বামপন্থীদের দমন করার জন্য। ‘র’ই ওটা করেছিল, ঐ উদ্দেশ্যেই। ওরা কোথাও যুদ্ধ করেছে বলে জানা যায় না। হত্যা করেছে, হত্যা করেছে বামপন্থীদের। বামপন্থী নিধনের প্রস্তুতি তারা নেয় একটা আশঙ্কা থেকে। আশঙ্কাটা হলো মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং মুজিব যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে কি হবে?

* মুজিব বাহিনী কি মুক্তিবাহিনীর বিকল্প?

** হ্যাঁ, অনেকটা তাই। ঐতিহাসিকভাবে তাকালে দেখতে পাই পঁচিশে মার্চের রাতে আমাদের দেশে বুর্জোয়া রাজনীতির প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা, তার দেউলিয়াত্বের উন্মোচন ঘটে। এরপর থেকে তারা আর নেতৃত্বে নেই, কিন্তু কর্তৃত্বে আছে। কর্তৃত্বের তিনটে কারণ আমি দেখতে পাই। একটা হচ্ছে, ভারতের সমর্থন, দ্বিতীয়টি হচ্ছে বামপন্থীদের কার্যকর অনুপস্থিতি, আর তৃতীয়টি হচ্ছে আওয়ামী লীগের সংগঠিত শক্তি।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মুজিব বাহিনী দেশে এসে দুই ভাগ হয়ে গেল, একটা সিরাজুল আলম খানের আরেকটা শেখ ফজলুল হক মনির নেতৃত্বে। সিরাজুল আলম খান বঙ্গবন্ধুর কাছে যেতে পারছেন না, বা বঙ্গবন্ধু তাকে সে ভাবে মূল্য দিচ্ছেন না। তার ইচ্ছে তিনি পার্টির সেক্রেটারী হবেন। যখন দেখলেন সেটা সম্ভব না, তখন শক্তি জানানোর জন্য জাসদ গঠন করেন। বঙ্গবন্ধু ডাকলেই তিনি চলে যাবেন, ডাকের জন্য অপেক্ষা করছেন। মুজিব বাহিনী কিন্তু আওয়ামী লীগেরই। সিরাজুল আলম খান কোনো স্লোগান পাচ্ছেন না খুঁজে। মুজিববাদতো শেখ ফজলুল হক মনিরা নিয়ে নিয়েছেন। অন্য কোন স্লোগান নেই। তখন যা আমরা কোনোদিন এদের কাছ থেকে শুনি নাই, সেই বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান শুনলাম। শুধু সমাজতন্ত্র নয়, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। ছাত্রলীগের ছেলেরা দিচ্ছে। এই স্লোগান দিয়ে তারা শক্তি সঞ্চয় করছে।

* এই ডাকটা আসার কথা ছিল সিপিবির কাছ থেকে। আসে নি?

** হ্যাঁ, তাই। ডাকসু নির্বাচনের কথা ধরা যাক। বাহাত্তরে ছাত্র ইউনিয়নের মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমরা জিতলো। তিয়াত্তরে তারা আর দাঁড়াতে পারছে না। সেলিমদের জয় আর পরাজয় দিয়ে তখনকার বাংলাদেশের রাজনীতির গতিটাকে বেশ বোঝা যায়। তিয়াত্তরে সেলিমরা মুজিববাদীদের সাথে যৌথ নির্বাচনে যায়। কিন্তু তারা ছাত্রদের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়। ব্যালট ছিনতাই করে জাসদসমর্থিত ছাত্রলীগের জয়টা ঠেকানোর চেষ্টা তারা (মুজিববাদী আর ছাত্র ইউনিয়ন) চালায়। আজ এত বছর পরে সেলিম সেদিন (ঈদ সংখ্যা সাপ্তাহিক, ২০১৪) স্বীকার করলেন, মুজিববাদীরাই ব্যালট ছিনতাই করেছিল তিয়াত্তরে, জাসদ ছাত্রলীগ নয়। তখন কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবী করেছিলেন জাসদ ছাত্রলীগের ছেলেরাই ব্যালট ছিনতাই করেছিল। নিজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা বললেন সেলিম এই ঘটনাটাকে। আমরাতো চোখের সামনেই দেখেছিলাম কি ঘটেছিল।

জাসদের প্রতি যে সমর্থনটা তখন দেখেছি, আসলে তা ছিল বামের প্রতি সমর্থন। বামের আওয়াজটা তখন কে দিচ্ছে? দিচ্ছে এককালীন মুজিব বাহিনীর একটা অংশ। দুই ভাবে তখন বামপন্থীদের কোণঠাসা করা হয়েছে। মুজিব বাহিনীর লোকেরা দুই ভাবে বামপন্থীদের পর্যুদস্ত করেছে। একটা প্রত্যক্ষভাবে, রক্ষীবাহিনী দিয়ে, গ্রামেগঞ্জে অত্যাচার করে, হত্যা করে। আরেকদিকে, যে তরুণরা বামপন্থী হবে তাদেরকে দলে টেনে নিয়ে। টেনে নিয়ে ঠেলে দিচ্ছে। এঙপোজ করে দিচ্ছে ভবিষ্যতের বামপন্থীদেরকে, তরুণদেরকে সামনে ঠেলে দিচ্ছে যাতে রক্ষীবাহিনী এদেরকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। রাজনৈতিক চরিত্রে মুজিববাহিনী আর জাসদ একই। শুরুতে ব্যাপারটা পরিষ্কার ছিল না, এখন এটা ক্রমশই পরিষ্কার হচ্ছে। তাই দেখা গেল যে মুহূর্তে বঙ্গবন্ধু মারা গেলেন, জাসদের রাজনীতিও কার্যত তখনই শেষ।

* গণতন্ত্র কী? আমেরিকা ভারতেও কি গণতন্ত্র আছে? একটাকে বলা হয়, সবচেয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র, আরেকটাকে সবচেয়ে বৃহৎ গণতন্ত্র। আসলে কি গণতন্ত্র আছে এইসব দেশে?

** উত্তরটা স্থূলভাবে দেই। গণতন্ত্রের শর্ত কয়েকটা। সেই রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক যেখানে নাগরিকদের মধ্যে অধিকার এবং সুযোগ, এ দু’য়ের সাম্য আছে। কেবল অধিকার না, বিধিবদ্ধ অধিকার না, সুযোগও থাকা চাই। না, সব মানুষ সমান হবে না, কিন্তু সকলের জন্য সমান সুযোগ থাকবে। মেধা অনুযায়ী সবাই সুযোগ পাবে।

দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা গণতন্ত্রিক নয়। বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সেটা সংসদীয় অর্থেও গণতান্ত্রিক নয়। এটাতো প্রেসিডেন্সিয়াল পদ্ধতির চেয়েও এককেন্দ্রিক। তৃতীয় শর্তটা হলো সকল স্তরে ও ক্ষেত্রে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

* উন্নত দেশগুলোতে (এবং ভারতেও) বুর্জোয়ারা একটা সমঝোতার মধ্যে এসেছে, ক্ষমতা ভাগাভাগি করার জন্য। নিজেদের স্বার্থে।

** এতে ইতিবাচক কিছুই নেই। একে বরং নেতিবাচকই বলা যায়। যেমন দিল্লীর কেজরিওয়ালের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। পানি দেবে, বিদ্যুৎ দেবে এই সমস্ত আওয়াজ দিয়ে সে জিতে গেছে। এই চাহিদাগুলো মেটানোর ক্ষমতা তার নেই। বুর্জোয়াদের সমর্থনেই, তাদের পাব্লিসিটি অর্গানের সাপোর্টেই সে জিতেছে। বুর্জোয়াদের আশঙ্কা সমর্থন না দিলে পাছে ব্যবস্থাটা ভেঙ্গে পড়ে। পাছে বামপন্থীরা এসে পড়ে। তাদের আতঙ্ক বামপন্থীদের নিয়ে। তারা তাই উদারনীতিকদের সমর্থন দেয়।

আমি যদি পেছনে তাকিয়ে দেখি, ঐতিহাসিক ভাবে এখানে (স্বাধীনতাপূর্ব ভারতে) কমিউনিস্ট পার্টি কত দুর্বল ছিল, তবুও ব্রিটিশ কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ, সকলেই কিন্তু লালআতঙ্কে ভুগতো। কমিউনিস্টরা এসে পড়বে, এই ভয়ে একে অপরের সাথে আপোস করে ফেলতে আগ্রহী ছিল। ওই আপোসে স্বাধীনতার নামে দেশভাগ হয়েছে, কিন্তু জনগণের মুক্তি আসে নি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়েও দেখেছি, যুদ্ধটাকে (মুক্তিযুদ্ধ) তাড়াতাড়ি শেষ করার একটা তাগিদ সবার মধ্যেই (আওয়ামী লীগ, ভারত এবং আমেরিকা) কাজ করেছেনেতৃত্বটা যাতে কমিউনিস্টদের হাতে চলে না যায়।

ভারততো ভীষণভাবে আতঙ্কিত ছিল। দুই দেশের কমিউনিস্টরা যদি এক হয় তাহলে তো ভীষণ বিপদ। ওদিকে আমেরিকা ভাবছে, এটাতো বিপজ্জনক এলাকা। যেভাবেই পারা যায় তাড়াতাড়ি থামাতে হবে। নইলে কে জানে হয়তো আরেকটি ভিয়েতনাম তৈরী হবে।

* আইএস প্রসঙ্গে

** আইএসএর উত্থান গ্লোবাল। এদের দৃষ্টিকোণটা অর্থডঙ। এভাবেই এটাকে দেখতে হবে। ক্রাইসিসটা পুঁজিবাদের। পুঁজিবাদ মানুষের সমস্যার সমাধান দিতে পারছে না।

ইজিপ্টে কি হলো দেখো। ইজিপ্টের গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করার মতো কোনো বাম গণতান্ত্রিক শক্তি বা সংগঠন ছিল না। তাতে কি দাঁড়াল? নেতৃত্ব চলে গেল মুসলিম ব্রাদারহুডের কাছে, তার পর আর্মির কাছে। অর্থাৎ মার্কিনপন্থীদের কাছে। পুঁজিবাদীরা বিক্ষোভটাকে বাম দিকে যেতে দিচ্ছে না, ফলে বিক্ষোভের নেতৃত্ব চলে যাচ্ছে ডানপন্থীদের হাতে।

বামেরা নেই। তাই ডানে চলে যাচ্ছে মানুষ। আইএসরা পুঁজিবাদের বিপক্ষে নয়। লেফট নাই, আন্দোলন তাই রাইটে চলে যাচ্ছে। পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভটা আসছে পুঁজিবাদের সমর্থকদের কাছ থেকেও, উদ্দেশ্য বিপ্লবকে প্রতিহত করা।

করুণ ঘটনাটা কি? যে ইরাককে তারা (সাম্রাজ্যবাদী শক্তি) শেষ করে দিল, আইএস সেখান থেকেই বের হয়ে এলো। সিরিয়ার আসাদ তাদের শত্রু; তাকে তারা উচ্ছেদ করবে, সেই আসাদের বিরোধীদের মধ্য থেকে আইএস শক্তিশালী হয়ে উঠলো। কিন্তু পুঁজিবাদ পারবে না। পুঁজিবাদের চরম ব্যর্থতা আমরা দেখছি এসবের মধ্যে। পুঁজিবাদীই যদি শেষ কথা হয়, তাহলে মানুষের জন্য ভবিষ্যতটা কি?

* সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন আমলাতন্ত্রের দুর্নীতির কারণে চীনের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থারও তো অধঃপতন ঘটলো, এগুলোকে ঠেকানোর উপায় কি?

** পুঁজিবাদের এখন বয়স হয়েছে। এই বার্ধক্যের মধ্যে সে যৌবনের ভাব করছে। এর আরো অধঃপতন হবে। সম্ভাবনা ঐ যে আমরা গণতন্ত্রের কথা বলছিলাম, যার সংজ্ঞা দিতে চেষ্টা করলাম, ঐ গণতন্ত্রকে নিয়ে আসতে হবে। সাম্যের ভিত্তিতে গণতন্ত্র, ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের গণতন্ত্র।

ঐতিহাসিকভাবে দেখতে হবে বিপ্লবের আগে রুশ দেশ কি অবস্থায় ছিল, বিপ্লবের পরে কি হয়েছে, কোন জায়গায় চলে গিয়েছে! প্রত্যেকটা লোক সেখানে শিক্ষিত, প্রত্যেকটা লোকের থাকার জায়গা আছে, প্রস্টিটিউশন নেই, সমাজের যে রোগগুলো ছিল সেই সেইগুলো যে কি ভাবে দূর করলো, কোথায় নিয়ে গেল একটা অধঃপতিত দেশকে। ওই দেশের বুর্জোয়ারা ফরাসী ভাষায় কথা বলতো, তারা ইংরেজী সাহিত্য পড়তো। সেই জায়গাটাকে বিপ্লব করে কোন উন্নতিতে নিয়ে এসেছে। প্রত্যেকটা মানুষ শিক্ষিত, প্রত্যেকটা মানুষের চাকরীর নিরাপত্তা আছে। প্রত্যেকটা মানুষের আবাস আছে, নারীর অবাধ স্বাধীনতা আছে। এসব কোনোদিন কল্পনা করা যেত না। বিপ্লবীরা দেশকে সেইখানে নিয়ে গিয়েছিলেন।

কিন্তু ওর পরে যে বিকাশটা হওয়ার কথা ছিল, সেটা হতে দেয়া হয় নি। কারা হতে দেয় নি? দেয় নি পুঁজিবাদীরা। পুঁজিবাদীরা প্রথম থেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে, এবং তাকে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নিয়ে এসেছে। সামাজিক অগ্রগতির জায়গা থেকে সরিয়ে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নিয়ে এসেছে। মিসাইল, চাঁদে যাওয়া এসব নিয়ে ব্যস্ত করে রেখেছে। আত্মরক্ষার জায়গায় নিয়ে গেছে। দ্বিতীয় ঘটনা হচ্ছে, মিডিয়া। মিডিয়া প্রচার করতে থাকলো রাশিয়াতে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই, বলতে থাকলো দেখো পুঁজিবাদী বিশ্বে আমরা কত স্বাধীন। তোমরা ভাল সাবান পাও না, তোমরা ভাল জুতো পাও না। আমরা কত বিলাসী জীবন যাপন করি। এই মিডিয়া তরুণদেরকে প্রভাবিত করলো।

আর ভেতরে ভেতরে একটা আমলাতন্ত্র গড়ে উঠছিল। আমলাতন্ত্র কিন্তু স্ট্যালিনের সময়েও ছদ্মবেশে বিকশিত হচ্ছিল। এমন কি স্ট্যালিনের হাতেও পুরো ক্ষমতা ছিল না। তিনি জানতেন না কি কি হচ্ছে। ক্রুশ্চেভের আমলাতন্ত্রেরই প্রতিনিধি হচ্ছে ইয়লেৎসিন এবং তারও আগে গর্বাচেভ। এরা কিন্তু ঐ আমলাতন্ত্রেরই লোক। পার্টির লোকেরাই এই আমলাতন্ত্র গড়ে তুলেছিল। আমার পরে আমার ছেলে আমার জায়গায় আসবে, এই ধরনের ব্যবস্থা তৈরী হতে থাকলো। স্বজনপ্রীতি শুরু হয়ে গেল।

আর এই জন্যই কিন্তু মাও সে তুং সাংস্কৃতিক বিপ্লবের আওয়াজটা তুলেছিলেন। সাংস্কৃতিক বিপ্লব করতে হবে, কেননা আবর্জনা জমে যাচ্ছে। ক্লাস ইন্টারেস্টের, ক্লাস কনসলিডেশনের আবর্জনা জমে যাচ্ছিল। তাকে দূর করতে হবে। কিন্তু দূর করাতো যায় নি। আর সে জন্যই চীন পুঁজিবাদী পথে এগুতে পেরেছে।

সোভিয়েত ইউনিয়ন কিন্তু পুঁজিবাদী বিশ্বের অনেক উপকার করেছে। এই যে ওয়েলফেয়ার স্টেট, এই ধারণাটা কখনোই আসতো না যদি (সোভিয়েত ইউনিয়নে) কমিউনিস্ট বিপ্লব না হতো। পুঁজিবাদীরা ছাড় দিচ্ছে, একের পর এক ছাড় দিচ্ছে। আমেরিকাও তো ছাড় দিচ্ছে। সুযোগসুবিধা দিচ্ছে। আমেরিকা সারা পৃথিবী থেকে লুণ্ঠন করে আনা সম্পদ নিজেদের নাগরিকদের দিতে পারছে। ইংল্যান্ড তো একটা সোস্যালিস্ট দেশই করে ফেলেছিলরাইটস এবং প্রিভিলেজএর দিক থেকে। চিকিৎসা ফ্রি, শিক্ষা ফ্রি। আনএমপ্লয়মেন্ট বেনিফিট, এগুলোতো তারা চালু করেছিল। এগুলো কখনোই আসতো না, যদি সোভিয়েত বিপ্লব না হতো।

যাতে বিপ্লব না হয়, সে জন্য শ্রমিক শ্রেণীকে ছাড় দিতে হচ্ছে। পুঁজিবাদীরা এই ছাড়টা কখনোই দিত না। এই জিনিসটা লোকে বুঝতে চায় না যে সোভিয়েত ইউনিয়ন না থাকলে ক্যাপিটালিজমএর রূপ আরো কত কদর্য হতো। সেদিক থেকে ভাবলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ক্যাপিটালিজমকে ছাড় দিয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে।

না হলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী মন্দার সময়েই পুঁজিবাদ ভেঙ্গে পড়ছিল।

সমাজতন্ত্র একটা ধারণা, একটা আদর্শ, ব্যক্তি মালিকানার জায়গাতে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠার আদর্শ। এর নানা এঙপেরিমেন্ট হয়েছে। হবে। উত্তর কোরিয়া, কিউবা সবাই এক্‌সপেরিমেন্ট করছে। এটার কোন নির্দিষ্ট ছক নেই। একেক দেশে সমাজতন্ত্র একেক রূপ ধারণ করবে, এই কারণে যে প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব একটা আর্থসামাজিক ইতিহাস রয়েছে, কিন্তু মূল ব্যাপারটা থাকবে সামাজিক মালিকানার।

চীন কোথায় ছিল, আফিম খেত, ওয়ারলর্ডদের হাতে ছিল দেশটা। কোথা থেকে কোথায় এসেছে। সমাজতন্ত্রের কারণেই। ছোট দেশ কিউবা, কিন্তু শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিতে কত উন্নত। এই অর্জনগুলোর কথা আমরা খুব একটা শুনি না। পুঁজিবাদী মিডিয়ার কারণে।

* চিন্তার স্বাধীনতা প্রসঙ্গে

** অরওয়েলের এনিম্যাল ফার্ম বইতে স্ট্যালিনের সমালোচনা আছে। কিন্তু বেচারা অরওয়েল বুঝতে পারলেন না ছদ্মবেশে যে ব্যক্তি বসে আছে সে স্ট্যালিন না, সে হিটলার। ১৯৪৯এ লেখা অরওয়েলের উপন্যাস নাইটিন এইটিফোর। সেখানে তিনি দেখাচ্ছন যে, বিগ ব্রাদার মানুষের চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করছে, মানুষের ভাষা বদলে দিচ্ছে। মানুষকে ভয়ের মধ্যে, সন্ত্রাসের মধ্যে রাখছে। সেইটে আজকে পুঁজিবাদী বিশ্বের চেহারা বৈকি। দেখতে পাচ্ছি প্রাইভেসি বলে কোন জিনিস নাই। সমস্ত ইনফর্মেশন নিয়ে নিচ্ছে, আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে মানুষ, কখন কি হবে, কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই। মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা নাই। কি চিন্তা করতে হবে তা মিডিয়া ঠিক করে দিচ্ছে। মিডিয়ার পেছনে রয়েছে রাষ্ট্র।

অরওয়েলের দুঃস্বপ্নটা আসলে পুঁজিবাদী দুঃস্বপ্ন। বেচারা ভুল করে ওটাকে কমিউনিস্ট দুঃস্বপ্ন মনে করেছিলেন।

* পুঁজিবাদই যে ওই নাইটমেয়ারের জন্মদাতা সেটি তিনি দেখতে পান নি?

** না, দেখতে পান নি। অবশ্য সময়ও পান নি। অরওয়েল তো চলে গেছেন সেই ১৯৫০ সালে।

আমার সাম্প্রতিক একটা লেখার প্রসঙ্গে বলি, একুশে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে লেখা। ভাষার স্বাধীনতা যে নেই তা বোঝাতে আমি অরওয়েলকে নিয়ে এসেছি। বলতে চেয়েছি যে ভাষার স্বাধীনতা পুঁজিবাদ দেবে না। চিন্তার স্বাধীনতা তো দেবেই না। চিন্তার স্বাধীনতা না থাকলে তো ভাষা বিকশিত হতে পারে না। কি চিন্তা করতে হবে তা ওরাই ঠিক করে দিচ্ছে। গোয়েবলসীয় প্রচারণা চলছে, বার বার মিথ্যা বলে বলে মিথ্যাকে সত্য বানানো হচ্ছে।

* আপনার সম্পাদিত নতুন দিগন্ত, আপনার বই, এগুলোর কী ফিডব্যাক পাচ্ছেন?

** আগে খুব একটা ফিডব্যাক পাই নি। এখন বুঝতে পারছি লোকে পড়ছে। আমি দৈনিক সংবাদে একটা কলাম লিখতাম, গাছপাথর নামে, চৌদ্দ বছর ধরে লিখেছি। কলামের নাম সময় বহিয়া যায়। তার যে একটা ইম্প্যাক্ট পড়েছে তা তখন বুঝতে পারি নি। এখন শুনি অনেককে বলতে, আপনি যে লেখাগুলো তখন লিখতেন, এইযে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, এরশাদের স্বৈরাচার, সে সময়ের লেখাগুলো, সেগুলো আমরা আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। হতাশার কারণ নেই, মানুষ বিদ্রোহ করবে, এই কথাগুলো অন্য কেউ ওভাবে বলতো না। অন্য কোথায়ও পেতাম না, তখন আমরা তরুণ বয়সে ঐগুলো পড়তাম। পড়ার মতো ঢেড় জিনিস পেতাম না, সংবাদের জন্য অপেক্ষা করতাম। আমাদের চিন্তার ওপরে ওর প্রভাব পড়েছে।

আমার আরেকটা উপলদ্ধি, তথাকথিত জনপ্রিয় লেখা, বিশেষ করে হাল্কা উপন্যাস, ক্ষতি করেছে আমাদের। মানুষকে, বিশেষ করে তরুণদেরকে একটা আসক্তির মধ্যে নিয়ে গেছে, অনেকটা ড্রাগ আসক্তির মতো। এরা এর পরে আর গভীর ভাবে চিন্তা করতে পারে না। অন্য বই পড়তে পারে না, কষ্ট হয়, আরাম পায় না। হাল্কা লেখা তাদেরকে স্বপ্নের জগতে নিয়ে যায়।

এই বৈপরীত্যের মধ্যে প্রবন্ধের বই আমরা যে লিখতে পারছি, মানুষ যে পড়ছে, আমাদের পত্রিকা যে চলছে, এতদিন চালাতে পারলাম, প্রায় ষোল বছরে অতিক্রম করছে, এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ আছে, কিন্তু মানুষ সংগঠিত হতে পারছে না। আমাদের ব্যর্থতা, আমরা ছোট ছোট উপদলে, ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত। আবার ক্ষমতাসীনদের থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথাটাও চিন্তা করতে পারছি না।

আমাদের বামপন্থীদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বিপ্লব করতে হবে এই চিন্তাটা মাথায় নারাখা। আমাদের বামপন্থীরা দুই ধরনের, এক গ্রুপ সুবিধাবাদী; আরেক দল সন্ন্যাসী, প্রায় রামকৃষ্ণ মিশন ধরনের সন্ন্যাসী। সুবিধাবাদীদের কথা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। তারা সুবিধা খোঁজে। সন্ন্যাসী ঘরানার বামপন্থীরা আত্মত্যাগ করছেন, তাদের পারিবারিক জীবন নাই। কষ্ট ভোগ করছেন, জেল খাটছেন, কোনো রকমের বিলাস নাই, কিন্তু বিপ্লবের লাইনে আছেন বলে মনে হয় না। তাঁদের কাজ অনেকটা সমাজসংস্কারকের মতো। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করতে হবে এই চিন্তা, এই উদ্দীপনাটা তৈরী করতে পারেন নাই আমাদের বামপন্থীরা। রাষ্ট্রক্ষমতা হাতে না পেলে, এবং পুরাতন রাষ্ট্রকে ভেঙে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নাকরতে পারলে তো সমাজেররূপান্তর ঘটানো যাবে না। সুবিধাবাদী ও সন্ন্যাসী ঘরানার বাইরে যে বড় ধারাটা সেখানেও পেটিবুর্জোয়া আপোসকামিতা এবং তার বিপরীতে হঠকারিতা দেখা গেছে। সব মিলিয়ে বামপন্থী আন্দোলন জোরদার হয় নি।

সমাজরূপান্তরের কাজ তো একটা রাজনৈতিক কাজ। সেই কাজটা করতে হলে বিপ্লবী ধরনের সংগঠন দরকার হবে। যারা রাষ্ট্রক্ষমতাটাকে নিজেদের হাতে নিতে চাইবে সমাজরূপান্তরের জন্য। রাষ্ট্রক্ষমতাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নাই।

* আপনি বলে থাকেন আপনি আশাবাদী। আপনার আশাবাদের ভিত্তিটা কোথায়?

** আশাবাদের ভিত্তি প্রথমত এদেশের মানুষ। তারা কখনো মৌলবাদী হবে না। মৌলবাদীরা নির্বাচনে দাঁড়ালে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয় (হাতে গোনা দু’একটা বাদে)। মানুষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে মৌলানামৌলবীদের ভালো মানুষ মনে করলেও রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্ব তাদের হাতে তুলে দিতে রাজী নয়। অভিজ্ঞতা আমাদেরকে এই কথাই বলে।

দ্বিতীয়ত, আর এটাই হলো প্রধান ভিত্তি। সেটা হলো এই বিরাট সমস্যাসঙ্কুল ও বিক্ষুব্ধ জনগোষ্ঠীকে শান্ত রাখা পুঁজিবাদের পক্ষে সম্ভব না। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এখানে টিকবে না। পুঁজিবাদের উন্নতির ফলে মানুষের বিক্ষোভ আরো বাড়বে। শোষণ, শাসন ও বঞ্চনা অসহ্য হয়ে পড়েছে। অন্যান্য দেশে তো বটেই, তবে বিশেষ করে আমাদের দেশে পুঁজিবাদ যে ব্যর্থ হবে এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের মতো খারাপ অবস্থাতো কম দেশেরই। পুঁজিবাদে আমাদের সমস্যার সমাধান নেই। উৎপাদনের যে বিরাট বিপুল শক্তি ব্যক্তিমালিকানা ব্যবস্থার শিকলে বাধা পড়ে আছে, সেটা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এটা তরুণরা বোঝে। সংখ্যায় তারাই অধিক। তারা তাদের ভবিষ্যৎ গড়বার দায়িত্ব নেবে। কেননা তারা মানুষের সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাইবে।

x