পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ

অতিবর্ষণে সড়কের উপর ধসে পড়ছে হিমছড়ির কাটাপাহাড়

কক্সবাজার প্রতিনিধি

বুধবার , ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:২৮ অপরাহ্ণ
77

অতিবর্ষণে পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ।

মঙ্গলবার বিকালে এ সড়কের হিমছড়ি অংশে দফায় দফায় পাহাড় ধসে যানবাহনের উপর আছড়ে পড়ে আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। পরে সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে চাপা পড়া যানবাহন ও আহতদের উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রায় ২ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্রের তীর ধরে নির্মিত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়কটির দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার অংশই রয়েছে পাহাড় ধসের ঝুঁকির মুখে।

খাড়া ও ভঙ্গুর পাহাড়ের একেবারে পাশেই সড়কটি অবস্থিত হওয়ায় ভারী ও টানা বর্ষণ হলেই এখানে ঘটে যায় বিপত্তি।

২০১০ সালের ১৫ জুন সকালে হিমছড়িতে পাহাড় ধসে ৬ জন সেনা সদস্যসহ অন্তত ৭ জন প্রাণ হারায়। ২০১২ সালে ঝর্ণায় গোসল করতে গিয়ে পাহাড় ধসে হতাহত হয় পর্যটক। পাহাড় ধসের মাটি এসে পড়ে প্রতি বছর মেরিন ড্রাইভ সড়কে যানবাহন চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকালে দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত অংশে দফায় দফায় পাহাড় ধসে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়।

দরিয়ানগর থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে পাহাড় ধসে তিনটি যানবাহনের উপর আছড়ে পড়লে এসব বাহনের চালক ও যাত্রীরা আহত হয়। পরে সেনাবাহিনীর ১৬ প্রকৌশল ব্যাটালিয়নের হিমছড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা সড়ক থেকে মাটি সরিয়ে চাপা পড়া যানবাহন ও আহতদের উদ্ধার করে প্রায় ২ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মেরিন ড্রাইভে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা জানান, অতিবর্ষণ হলেই এ সড়কের হিমছড়ি অংশে যান চলাচল চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসময় গাড়িচালক ও যাত্রীরা আতংক নিয়েই চলাচল করে। পর্যটকদের মাঝেও থাকে আতংক।

অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বলেন, ‘প্রতি বছরই ভারী ও টানা বর্ষণের সময় হিমছড়ি পাহাড়ে ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের মাটি এসে যানবাহনের উপর আছড়ে পড়ে। এতে যাত্রী ও চালকরা হতাহত হয়। রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে।’

কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ সড়কটির দরিয়ানগর থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার অংশই রয়েছে পাহাড় ধসের ঝুঁকির মুখে। বাকী অংশটি মোটামুটি নিরাপদ। হিমছড়ি অংশের মেরিন ড্রাইভ সড়কটি খাড়া ও ভঙ্গুর পাহাড়ের একেবারে নিকটবর্তী হওয়াই ঝুঁকির কারণ।’

কক্সবাজারের পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ইয়েস’ সভাপতি ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ নির্মাণকালে কলাতলীর শুকনাছড়ি থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার পাহাড় কাটা হয়েছে। আবার কাটা ও খাড়া পাহাড়ের একেবারে পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে সড়কটি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাটা পাহাড়ের মাটি ধসে আছড়ে পড়ছে সড়ক ও যানবাহনের উপর। এতে সড়কটির যাত্রীরা পড়েছে ঝুঁকির মুখে।’ পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে মেরিন ড্রাইভটি আরো পশ্চিম দিকে সরানো উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান লে. কর্ণেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, ‘পাহাড় ধস ঠেকানোসহ এ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। উর্ধতন মহলের অনুমোদন পেলেই এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।’

x