পাহাড়ে বাড়ছে আনারস চাষ

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার : বান্দরবান

সোমবার , ৮ জুলাই, ২০১৯ at ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
37

পাহাড়ে আনারস চাষ বাড়ছে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। রসালো স্বাদের, আকারে বড় এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় জায়ান্টকিউ জাতের আনারসের কদর বাড়ছে এই অঞ্চলে। পাহাড়ে উৎপাদিত আনারসে ছেয়ে গেছে এখন বান্দরবানের হাট-বাজারগুলো। স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে ব্যবসায়ীরা উৎপাদিত আনারস বিক্রির জন্য গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে বান্দরবান জেলায় সাড়ে ৫ হাজার হেক্টর পাহাড়ি জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় পঞ্চাশ হেক্টরের বেশি। আর গতবছর আনারস উৎপাদন হয়েছিল ৯০ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। এবছর উৎপাদনের পরিমাণ লক্ষাধিক মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা চাষিদের। এবছর আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে বান্দরবানের সাতটি উপজেলায়। তার মধ্যে সদর, রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলায় আনারসের চাষ হয়েছে বেশি। এই অঞ্চলে মূলত জায়ান্ট কিউ এবং হানি কুইন এ দু’ধরনের জাতের আনারস চাষ হচ্ছে। তার মধ্যে জায়ান্টকিউ আনারস চাষের পরিমাণ বেশি। স্বল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় পাহাড়ি সম্প্রদায়েরা জুম চাষ ছেড়ে আনারসসহ বিভিন্ন ধরণের মিশ্র ফলের চাষের দিকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এই অঞ্চলের পাহাড়িরা এখন জায়ান্ট কিউ আনারস চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছে।
এদিকে আনারসে ছেয়ে গেছে এখন বান্দরবানের হাট বাজারগুলো। ভাল ফলন হওয়ায় আনন্দে মেতেছে পাহাড়ের আনারস চাষিরা। প্রতিদিন সদর উপজেলার লাইমী পাড়া, ফারুক পাড়া, স্যারণ পাড়া, গেজমনী পাড়া, সাতকমল পাড়া, নোয়াপাড়া, পোড়া পাড়া, বাগান পাড়া, দেওয়াই হেডম্যান পাড়া, বসন্ত পাড়াসহ রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলা থেকে পাইকারি মূল্যে আনারস কিনে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। বাগান থেকে প্রতিদিনই চাষিরা জেলা শহরসহ স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে আনারস বিক্রি করতে নিয়ে আসছে। জেলা শহরে প্রতি জোড়া আনারস ৬০ থেকে দেড়শ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট সাইজের আনারসের দাম কিছুটা কম রয়েছে।
চট্টগ্রামের পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাত্তার, সিরাজুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর বান্দরবানে আনারসের খুবই ভালো ফলন হয়েছে। আকারেও বড় হয়েছে আনারস। যে কারণে চাষিরাও ভালো দাম পাচ্ছে, চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে আমরা ব্যবসায়ীরাও বিক্রি করে লাভবান হতে পারছি। বাজারে আনারসের চাহিদাও বেড়েছে। পাহাড়িদের কাছ থেকে ছোট সাইজের একশ (একশত) আনারস ১৫ থেকে ১৮শ টাকায় এবং বড় সাইজের একশ (একশত) আনারস ২ হাজার ২৪শ টাকা দামে কিনতে হচ্ছে। এখান থেকে আনারসগুলো কিনে তারা চট্টগ্রাম, সাতকানিয়া, আমিরাবাদ, কঙবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছে। তবে কখনো কখনো আনারস নষ্ট হয়ে লোকসানও গুনতে হয়।
আনারস চাষী লালথিয়াম বম ও পারথুম বম বলেন, ফারুক পাড়া এবং গেজমনি পাড়ায় তাদের দুজনের ৮ একর করে আনারসের বাগান রয়েছে। এ বছর বাগানে আনারসের ভালো ফলন হয়েছে। অন্যবছরের তুলনায় আনারস আকারেও বেশ বড়বড় হয়েছে। তবে আনারসের বাম্পার ফলন হওয়ায় দাম কিছুটা কমে গেছে। কিন্তু চাহিদা বেড়েছে মনে হচ্ছে আগের তুলনায়। তবে ব্যবসায়ীদের বাগান বিক্রি না করে বাজারে নিয়ে খুচরা বিক্রি করতে পারলে আরেকটু বেশি লাভবান হতে পারতাম।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, জুম চাষের পরিবর্তে আনারস চাষ বাড়ছে পাহাড়ে। এই অঞ্চলে উৎপাদিত জায়ান্ট কিউ এবং হানি কু্‌্‌ইন আনারস আকারে বড়, রসালো এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। ফলন বাড়াতে আনারস চাষীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পচনশীল পণ্য কমমূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছে চাষিরা। ফলে চাষিরা আর্থিকভাবে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

x