পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাসরতদের সরাতে অভিযান

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
11

ভারি বৃষ্টিপাতে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার সকাল থেকে নগরীর লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা পাহাড়, বাটালি হিল, টাংকির পাহাড় এবং আকবর শাহ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের চারজন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
অভিযানে অংশ নেয়া সহকারী কমিশনাররা হলেন, পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি), ফোরকান এলাহী অনুপম, অগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতার এবং কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শান্তনু চৌধুরী। এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আপদকালীন ফান্ডে অর্থসঙ্কট আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তিনি এ কথা জানান।
অভিযান প্রসঙ্গে পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে এমন বাসিন্দাদের সরিয়ে দিতে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে আমরা প্রথমে লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা পাহাড়ে যাই। সেখান থেকে বাটালি হিল, টাংকি পাহাড় এবং সর্বশেষ আকবর শাহ এলাকায় গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা বাসিন্দাদের সরিয়ে দিয়েছি। আমরা তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বললে তারা সেখানে যেতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এমনকি আমরা গত দুইদিন ধরে মাইকিং পর্যন্ত করেছি। তাতেও তারা সাড়া দেয়নি। তারা সাধারণত আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে চান না। আমি শুধুমাত্র একবার দেখেছি, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর সময় তারা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছিলো। তবে গতকাল তারা আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় চলে যান। অপরদিকে গতকাল জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতির বক্তব্যে দুর্যোগ প্রস্তুতির কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, দুর্যোগে আপদকালীন সময়ে শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ দেয়া খুব জরুরি। কিন্তু বর্তমানে আমাদের দুর্যোগের সময় আপদকালীন ফান্ডে অর্থের ক্রাইসিস রয়েছে। সকালে বিষয়টি জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং সচিব স্যারকে অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে অনুরোধ করেছি। আশা করি দ্রুত পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পাব। ৪৭৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে, যাতে উপকূলবর্তী মানুষ আশ্রয় নিতে পারে।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, আমরা ২৮৪টি মেডিকেল টিম করেছি। প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে এবং ২০০ ইউনিয়নে ২০০টি মেডিকেল টিম রেডি রাখা হয়েছে। এছাড়াও ১৫টি কন্ট্রোল রুম করেছি। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাবিবুর রহমান প্রমুখ। এছাড়া সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড, বন্দর, স্কাউটসের প্রতিনিধিবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরো বলা হয়, দুর্যোগ প্রতিরোধে সক্ষমতা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে।

x