পাহাড়ের অতিথি সুবর্ণ জিরিয়া

সমির মল্লিক,খাগড়াছড়ি

সোমবার , ১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
47

পাহাড়জুড়ে শরতের আমেজ। দিনের বেলায় গরমের অস্বস্তি থাকলেও রাতের পাহাড়ে নেমে আসে হিমেল শীত। পাহাড়ে রাত হলেই ঝেঁকে বসে শীতের কুযাশা । শরতের ভোরে শীতের আমেজ থাকে। তবে রৌদের আলোয় সোনা ঝরা কুয়াশার উপস্থিতি। শীত আসতে দেরি থাকলেও প্রকৃতিতে শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। আগমনী শীতে পাহাড়ে দেখা মিলছে অতিথি পাখি। খাগড়াছড়ির জেলা সদরের পেরাছড়া এলাকায় ভোরের আলো দেখা মেলা ‘সোনা জিরিয়া” অর্থাৎ প্যাসিফিক বা প্রশান্ত মহাসগীয় সোনা জিরিয়া। শীতের আগেই পাহাড়ে এই অতিথি পাখির আগমন। শীতের আগমনী কুয়াশার মধ্যে অতিথি পাখি সোনা জিরিয়া’র বিচরণ!
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুবর্ণ জিরিয়া ইউরোপীয় জিরিয়ার তুলনায় লম্বা লেজযুক্ত। তবে এটি তুলনামূলক ছোট। সোনা জিরিয়া পালকের উপর হলুদ ও কালো রঙের ছটা থাকে। পালক মাঝারি ধরনের লম্বা। এদের চোখ কালো। চোখের উপর ডোরকাটা সাদা ও কালো মুকুট আছে। সোন জিরিয়ার ঠোঁট পেন্সিলের ন্যায় কালো,বুক সাদা। নীতিদীর্ঘ এই পাখির দীর্ঘ পা এবং পায়ের পাতা কালো। লেজের পুচ্ছ ছোপ ছোপ সাদা ও কালো রঙ। প্যাসিফিক বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় সোনা জিরিয়া ছাড়াও ইউরোশিয়ান এবং আমেরিকা প্লোভার বা জিরিয়া রয়েছে। তবে প্যাসিফিক প্লোভার ইউরোশিয়ান এবং আমেরিকা প্লোভার বা জিরিয়ার তুলনায় কম সোনারী প্লোভার । এদের সাধারণত সমুদ্র পাড়ে দেখা যায়। শীতের শুরু থেকেই এদেশে আসতে শুরু করে।
তৃণভূমি বা শুকনো জায়গা এরা বাসা বাধে । এরা মূলত তৃণচারী। সোনা জিরিয়া মুখ ও গলায় কালো সাদা রঙের বন্ধনীযুক্ত। শীতের পাখিটির কালো রঙটা বির্বণ হয়ে যায়।এদের মূল আবাসভূমি এশিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে পশ্চিম আলাস্কা পর্যন্ত । শীতে এরা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এরা টানা ৩ -৪ দিনে টানা ৪৮০০ কিমি পাড়ি দিতে পারে।
সোনা জিরিয়ার ইংরেজি নাম প্যাসিফিক গ্লোডেন প্লোভার । এদের বৈজ্ঞানিক নাম (Pluvialia fulva ) । আর্ন্তজাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংস্থা( আই. ইউ. সি. এন) এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। তবে জলবায়ুর পরিবর্তন, পাখি শিকার ও কৃষি জমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার কারণে কমছে পাখির সংখ্যা।

x