পাহাড়ি বনে সবুজ তাউরা

সমির মল্লিক : খাগড়াছড়ি

সোমবার , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
23

খাগড়াছড়িসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় নানা প্রজাতির পাখি দেখা মিলত। পাখি বা প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের বড় কারণ ‘জুম চাষ’ এর কারণে বন নষ্ট হওয়া। পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় অধিবাসীদের জীবন ও জীবিকায় জুম চাষ বেঁচে থাকার অন্যতম উপায়। পাহাড়ের ঝোঁপ জঙ্গল বা বন পুড়িয়ে জুম চাষে উপযোগী জমি প্রস্তুত করতে হয়। এসব কারণে পাখিসহ বন্যপ্রাণীদের জীবন শঙ্কায় পড়ে।
বর্তমানে ধনেশ, ধুমকলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিপন্ন। সাধারণত সবুজ তাউরা পার্বত্য চট্টগ্রামের চির সবুজ দেখা মিলে। তবে জুমের আগুনের কারণে অনেক পাখির মতই সবুজ তাউরা পাখির আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে। সমপ্রতি জুম চাষের জন্য আগুন দেয়া একটি পাহাড়ে বেঁচে যাওয়া সবুজ তাউরা’র বাসার সন্ধান পান খাগড়াছড়ির তরুণ আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা -লংগদু সড়কের লাগায়ো পাহাড় থেকে সবুজ তাউরাকে ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি। সবুজ চাকমা জানান,’ জুমের আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া একটি গাছের ডালে বাসা বাঁধে সবুজ তাউরা। চারপাশের কোন জঙ্গল না থাকলেও আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া উঁচু গাছের ডালে তাউরা বাসা বাঁধে। জুমের আগুনের কারণে পাখিরা সবচেয়ে বিপন্ন হচ্ছে। ‘
সবুজ তাউরা পাখি লম্বায় প্রায় ৩৭-৩৯ সে.মি। পুরো শরীরে সবুজ রঙ। এদের চঞ্চু টকটকে লাল। চঞ্চু লম্বায় প্রায় ৩.৮ সে.মি। রক্ত লাল চোখও। চোখের চারপাশে কালো রিং এবং চোখের আগে-পিছে লম্বা কালো লাইন। এদের লেজ বেশ লম্বায় ২০ সে.মি। পালক প্রায় ১৫ সে.মি। এদের ডানা তামাটে। ডানার গোড়ার পালকের প্রান্তে সাদা ফোঁটা। এদের পা কালচে লাল। এদের স্বর বেশ তীক্ষ্ণ। সবুজ তাউরা ইংরেজি নাম এৎববহ গধমঢ়রব এবং এদের বৈজ্ঞানিক নাম ঈরংংধ পযরহবহংরং। এরা মূলত চির সবুজ বনের পাখি। স্ত্রী ও পুরুষ তাউরা দেখতে প্রায় একই রকম। এদের সাধারণত একা বা জোড়ায় দেখা যায়। এরা পোকামাকড় এর পাশাপাশি পাখি’র ডিমও খায়। এদের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে মে পর্যন্ত। এরা গভীর জঙ্গলে খড়, লতা পাতা দিয়ে বাসা বাধে। একটি স্ত্রী তাউরা ৪-৬ টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ বাদামী।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়াও এদের সিলেট এবং ঢাকা বিভাগের একটি বনে দেখা যায়। এছাড়া দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, ভারত নেপাল, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, ভিয়েতনাম, মালেশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ায় সবুজ তাউরা’র বিস্তৃতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষন বিষয়ক সংস্থা (আইইউসিএন) তালিকায় এটি বাংলাদেশে শঙ্কামুক্ত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ আইনে এই প্রজাতিকে( সবুজ তাউরা) সংরক্ষণ করা হয়েছে।

x