পাহাড়ি ঢলে রাউজানে ক্ষতবিক্ষত রাস্তাঘাট

যোগাযোগ খাতে ব্যাপক ক্ষতি

মীর আসলাম, রাউজান

শনিবার , ২৩ জুন, ২০১৮ at ৬:১৮ পূর্বাহ্ণ
140

পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে সর্তা ও ডাবুয়া খাল হয়ে নেমে আসা ঢলের পানিতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে রাউজানের রাস্তাঘাট। এছাড়া ব্রিজ কালভার্ট ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায়। গত বছরও বর্ষা মৌসুমে এই দুটির খালের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে একই ভাবে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিল উপজেলার যোগাযোগ অবকাঠামোসহ সবকিছু। এবারও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে রাউজানকে পরিণত করেছে ধ্বংসস্তুপে।

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় সাংসদ গতবছর পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ পুনর্নির্মাণ করে বিধ্বস্ত রাস্তাঘাটের বেশির ভাগ সংস্কার করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় রাউজান সেজে ছিল নতুনভাবে। কিন্তু আবারও বৃষ্টিবন্যায় সব কিছু বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সৃষ্ট বন্যায় শুধুমাত্র যোগাযোগ খাতে ক্ষতি হয়েছে দুই’শ কোটি টাকার মত। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে জনপ্রতিনিধিসহ ও সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, পাহাড়ি ঢলের চাপে সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ কয়েকটি স্থানে ভেঙে যায়। ফলে ভাঙা অংশ দিয়ে প্রচণ্ড বেগে পানি ঢুকে রাস্তাঘাট ও কসতবাড়িসহ সবকিছু তছনছ হয়ে যায়।

গত বৃহস্পতিবার উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, নোয়াজিশপুর, উরকিরচর ও পশ্চিম গুজরাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের রাস্তাঘাট পরিদর্শন করে দেখা যায়, সবখানে কমবেশি সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। দেখা গেছে, পাকা সেতু দ্বিখণ্ডিত অবস্থায় পড়ে থাকতে। তবে বিভিন্ন ইউনিয়নের সচেতন লোকজনকে দলবদ্ধ হয়ে সেচ্ছাশ্রমে বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট ও ছোট ছোট কালভার্ট বাঁশ গাছ দিয়ে চলাচল উপযোগী করতে দেখা গেছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ বলেন, তার ইউনিয়নের বেশির ভাগ রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে। ডাবুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ডাবুয়াচিকদাইরগণিরঘাট সড়কটি গত বছর পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত হয়েছিল। গত তিনমাস আগে সড়কটি সোয়া কোটি টাকা ব্যয়ে কার্পেটিং করা হয়েছিল। ঈদের আগে ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে সড়কটি আবারো তছনছ হয়ে গেছে। ভেঙে গেছে কালভার্টও। স্রোতের তীব্রতায় উপড়ে গেছে বড় বড় গাছ। চিকদাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রিয়োতোষ চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নের ৮০ শতাংশ রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাওয়ার্দি সিকদার বলেন, তার ইউনিয়নের নদিমপুর ও ফতেহ নগরে ক্ষয়ক্ষতি অকল্পনীয়। সব রাস্তাঘাট পানির স্রোতে নষ্ট হয়ে গেছে। স্রোতের তীব্রতায় রাস্তাঘাট ভেসে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন হালদা পাড়ের ইউনিয়ন উরকিরচরের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবদুল জব্বার সোহেলও।

রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এহেছানুল হায়দর চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি ঢল সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে সাজানো রাউজানকে তছনছ করে দিচ্ছে। মজবুত ভিত্তির উপর খালের প্রতিরক্ষা বাঁধ দেয়া জরুরি বলে তিনি অভিমত দেন।

প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাউজানে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী বলেন, প্রকৃতির উপর কারো হাত নেই। তবুও দুঃখ ও হতাশ হতে হয় স্বপ্নের রঙে রাঙিয়ে তোলা রাউজানকে যখন পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত হতে দেখি।

তিনি জানান, গত বছর বর্ষায় সর্তা ও ডাবুয়া খালের বাঁধ ভেঙে রাউজান ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তুপকে সরিয়ে আবার সাজানো হয়েছিল এই উপজেলার সবকিছু। কিন্তু আবারো সব শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পাহাড়ি ঢল থেকে রাউজানকে রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। এখাতে বড় আকারের বরাদ্দ প্রয়োজন। বিষয়টি তিনি সরকারের নীতি নির্ধারণী ফোরামে উঠিয়ে বরাদ্দ চাইবেন বলে জানান।

x