পাসের হার বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার মানও বাড়াতে হবে

বুধবার , ৮ মে, ২০১৯ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ
66

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার বেড়েছে পাসের হার। বোর্ডের গড় পাসের হার ৭৮.১১ শতাংশ। যা গতবারের তুলনায় ২.৬১ শতাংশ বেশি। গতবার পাসের হার ছিল ৭৫.৫০ শতাংশ। তবে পাসের হার কিছুটা বাড়লেও কমেছে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। এবার সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭ হাজার ৩৯৩ জন। জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এ সংখ্যা গতবারের তুলনায় ৭০১টি কম। গতবার ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ পায় মোট ৮ হাজার ৯৪ জন। আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, কেবল এই বছরই নয়, বিগত বেশ কয় বছর ধরেই জিপিএ-৫ প্রাপ্তির এ সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। শিক্ষাবোর্ডের চার বছরের তথ্য পর্যালোচনায় এ চিত্র পাওয়া গেছে। বোর্ড থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ পায় মোট ৮ হাজার ৫০২ জন শিক্ষার্থী। কিন্তু পরের বছর ২০১৭ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৩৪৪ জনে। ২০১৮ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তের সংখ্যা আরো কমে দাঁড়ায় ৮ হাজার ৯৪ জনে। সর্বশেষ এবার ২০১৯ সালে ৭ হাজার ৩৯৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
ফলাফল সম্পর্কে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, ‘এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমলেও পাসের হার বেড়েছে। এ ফলাফলে বসে না থেকে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে অনেকদূর। এক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে আরো তৎপর হতে হবে।’ এবারের এসএসসিতে যারা উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানাই। পাশাপাশি যারা ভালো রেজাল্ট করতে পারে নি, তাদের বলি, ‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আবার উঠে দাঁড়াও, দেখবে তুমিই পারবে’।
শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যে অগ্রগতি তা এখন বিশ্বস্বীকৃত। এমনকি ভারত থেকেও বাংলাদেশ যেসব আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে তার মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। সাধারণত শিক্ষাকে আমরা তিন স্তরে ভাগ করি। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। সব ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে দেশ। বলা যায়, বিগত বছরগুলোতে শিক্ষার ব্যাপ্তি বেড়েছে অনেকগুণ। এখন সমাজে টিপসই দেয়ার মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমছে। তবে যা অত্যন্ত পীড়াদায়ক, তা হচ্ছে পড়ালেখার মান। মানের নিম্নগতি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় হতে শুরু করে একেবারে স্কুল পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এর হয়ত অনেক কারণ আছে। বর্তমানে অনেক ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীও উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পায় না। ভর্তি পরীক্ষায় তারা টেকে না। এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার নাজুক হাল এবং পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, পরীক্ষায় হয়তো যেমন তেমন করে পাস করা যায়, কিন্তু ভালো ছাত্র হওয়া যায় না এবং জীবনে কোনো সফলতা অর্জন করা যায় না। অতীতে পড়ালেখার অনেক মান ছিল। সেই সময়কার মাধ্যমিক পাস লোকেরাও ছিল খুব যোগ্য। কিন্তু বর্তমানে এমএ পাস করা লোকেরও সেই যোগ্যতা নেই বললেই চলে। কারণ একটাই-ঐ সময় মানুষ পড়ালেখা করে প্রকৃত যোগ্যতা অর্জন করেই পাস করত, কিন্তু বর্তমানে যথেষ্ট যোগ্য হয়ে পাস করছে এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক কম। তাই দেশের ভবিষ্যতের কথা যদি সরকার চিন্তা করে এবং জনসংখ্যাকে যদি সম্পদে পরিণত করতে চায়, তাহলে সরকারকে অবশ্যই যথাযথ শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে হবে।
বাংলাদেশে এখনও শিক্ষার জন্য চাহিদা আর যোগান দুটির মধ্যে পার্থক্য বিশাল। যার ফলে আবার এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিয়ে উচ্চশিক্ষাকে ব্যবসা হিসেবে নিয়েছে এবং তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, জ্ঞান বিতরণের ব্যবস্থা করা নয়; বরং এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে অর্থউপার্জন। এই কাজটি বেশি হয় স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে। তাই শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। এজন্য শিক্ষকের দক্ষতাও বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা, শিক্ষকরা দক্ষ ও প্রশিক্ষিত হলে পড়ালেখার মান আরও উন্নত হবে। অবশ্য এজন্য সরকার শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়াতে নিতে হবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

x