পাপিয়া সুলতানা (আর কতদিন এভাবে চলবে?)

সোমবার , ৩০ এপ্রিল, ২০১৮ at ৫:৩৮ পূর্বাহ্ণ
153

আর কতকাল জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করব? বাসে উঠলে যৌন নিপীড়নকারীদের আতঙ্ক, রিক্সাসিএনজিচালিত টেক্সিতে প্রাণের ভয়। জীবনের সমাপ্তি অবশ্যই আছে তবে সেটা অপঘাতে হোক এটা কারো কাম্য নয়। দিন শেষে প্রাণ নিয়ে, মান নিয়ে বাসায় ফিরতে পারব কি না সংশয়।

কয়েকদিন আগে রাজীব একহাত না থাকার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে চলে গেল। মানুষ হিসেবে মানবতার কারণে অবশ্যই কষ্ট লেগেছে। তবে গত ২৬ এপ্রিল যখন আমার পরিচিত কেউ চলে গেল তখন বুঝতে আর অসুবিধা হলো না বেদনাটা কেমন। এভাবে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ না কেউ তার আপনজনকে হারাচ্ছে। এর প্রতিবাদ সাময়িকভাবে হলেও প্রতিকার দেখছি না।

আমাদের চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ পরিবারের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রিয়া বড়ুয়া চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনায় এভাবেই আমাদের ফেলে চলে গেল। গত বৃহস্পতিবার কলেজ থেকে রিকশায় চড়ে বহদ্দারহাটের বাসায় ফিরছিল সে। পথে ষোলশহর দুই নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছলে তাকে বহনকারী রিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আজীম কার্গো সার্ভিসের একটি কাভার্ড ভ্যান। তখন রিকশাটি ডান পাশের ডিভাইডারে ধাক্কা খায়। এ সময় রাস্তায় ছিটকে পড়ে রিয়া। সঙ্গে সঙ্গে তার মাথার ওপর দিয়ে চলে যায় কাভার্ড ভ্যানটি। এতে তার মাথা থেতলে যায়। গাড়িচালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালনার কারণে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া এ ধরনের ঘটনাগুলোকে নিছক দুর্ঘটনা না বলে বলা উচিত হত্যাকাণ্ড। এখন আক্ষেপ একটাই, অপরাধীরা নির্বিচারে এমন জঘন্য কাজ করে জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াবে। আমরা কি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার কখনই পাব না?

x