পানি স্বল্পতায় ৬ উপজেলায় নৌ চলাচলে ভোগান্তি

কাপ্তাই লেক

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই

বুধবার , ২২ মে, ২০১৯ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
45

অনাবৃষ্টি ও টানা খরার কারণে কাপ্তাই লেকের পানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় রাঙ্গামাটি জেলার ৬ উপজেলায় নৌ চলাচলে হাজার হাজার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। লেকে পানি না থাকায় শতশত ইঞ্জিন চালিত বোট অলস বসে আছে। মানুষ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারছেনা। নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনও করা যাচ্ছেনা। এই অবস্থায় লেক তীরবর্তী অসংখ্য মানুষ কষ্টকর জীবন যাপন করছে বলে জানা গেছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সত্রে জানা গেছে রুলকার্ভ (পানির পরিমাপ) অনুযায়ী কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানি থাকার কথা ৭৬.৭২ ফুট এম এস এল (মীন সী লেভেল) পানি। কিন্তু লেকে পানি রয়েছে ৭১ ফুট এম এস এল পানি। বৃষ্টি না থাকায় প্রতিনিয়ত লেকের পানি কমছে। পানির অভাবে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনও প্রায় ২০০ মেগাওয়াট কমে গেছে।
জানা গেছে রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, নানিয়ারচর, লংগদু এবং কাপ্তাই উপজেলার কিছু অংশ লেক পরিবেষ্টিত। এই সব উপজেলায় যাতায়াতে নৌ চলাচলই একমাত্র ভরসা। দৈনন্দিন যাবতীয় কাজকর্ম, সরকারি বেসরকারি অফিসে যাতায়াত, স্কুল কলেজে ক্লাস করা, সেনা বাহিনীর টহল সব কিছই নির্ভর করে পানির উপর। লেকে পানি থাকলে নৌ চলাচল সহজ হয়। যেখানে ইচ্ছা যাতায়াত করা যায়। কিন্তু বর্তমানে পানির অভাবে সব রকম নৌ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। আবার কোন কোন স্থানে যাতায়াতে অনেক দূর ঘুরে কষ্ট ও বিপুল অর্থ ব্যয় করে অতি প্রয়োজনে কেউ কেউ যাতায়াত করেন।
লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার জানান , মানুষের দুর্গতি চরম পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। বিষয়টি রাঙ্গামটি ২৯৯ আসনের সাংসদ দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক এ কে এম হারুনুর রশিদসহ বিশিষ্ট জনদের জানানো হয়েছে। রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান মহসীন জানান , সদর উপজেলার অনেক এলাকা রয়েছে লেক পরিবেষ্টিত। এসব এলাকায় কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। তাদের যাতায়াতে নৌ চলাচলই ভরসা। কিন্তু এখন লেকে পানি না থাকায় সবাই কষ্টকর জীবন যাপন করছেন।
রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম বলেন, পানির অভাবে মানুষের যে কি পরিমাণ কষ্ট ও দুর্ভোগ হচ্ছে তা চোখে না দেখলে বলে বা লিখে বোঝানোর উপায় নেই। রাঙ্গামাটির সবচেয়ে বড় ব্রিজ আসাম বস্তি ব্রিজের গোড়ায় এক ফোঁটা পানিও নেই। কাপ্তাই জেটি ঘাটের পন্টুন শুকনো মাটির উপর পরে আছে।
এ ব্যাপারে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এ টি এম আব্দুজ্জাহের বলেন, কাপ্তাই লেকে প্রতি বছর এই সময় পানি স্বল্পতা থাকে। তবে এবার বৃষ্টি না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক আকার ধারণ করেছে। তবে যে কোন মুহুর্তে বৃষ্টি হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন টানা ৬/৭ ঘন্টা ভারী বৃষ্টি হলে লেকে পানির স্তর কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পাবে। তখন হয়তো মানুষের দুর্ভোগেরও লাঘব হতে পারে। এছাড়া দুর্ভোগ লাঘবের আপাতত আর কোন উপায় নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

x