পাট শিল্প রক্ষায় নানা পরামর্শ

মতবিনিময় সভা

রবিবার , ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
75

বাংলাদেশ পাট ও পাট শিল্প রক্ষা কেন্দ্রীয় কমিটি, সংশপ্তক ও একশন এইড বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘পাট শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং শিল্পের উন্নয়নে করণীয়’ বিষয়ক মতবিনিময় সভা গত ১৩ নভেম্বর নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন, সংস্থার সভাপতি মো. আবদুল খালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তপন দত্ত। তিনি পাট মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে পাট ক্রয়, শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ঘণ্টা নির্ধারণ, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
বাংলাদেশ পাট ও পাট শিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী লিটন চৌধুরী। পাট খাতের বর্তমান অবস্থা ও করণীয় বিষয়ক প্রবন্ধ পাঠ করেন একশন এইড বাংলাদেশের প্রতিনিধি রেজওয়ান সিদ্দিকী।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ পাট উৎপাদিত হয়, তার সিংহভাগ মিলে ব্যবহৃত হয়। সরকারি ও বেসরকারি মিলগুলো বর্তমান সক্ষমতা অনুযায়ী পাট ক্রয় ও ব্যবহার করতে পারলে কাঁচা পাট রপ্তানির প্রয়োজন পড়বে না। বরং এ ক্ষেত্রে একটি ঘাটতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা প্রদত্ত ২০১৫-১৬ সালের পাটের অভ্যন্তরীণ চাহিদার চিত্র থেকে দেখা যায়, ওই বছর পাটের মোট যোগান ছিল ৭৫.৬৮ লাখ বেল। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি মিলগুলো ৬৫ লাখ বেল পাট কেনে। উল্লেখ্য, ওই বছর বিজেএমসি ক্রয় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অর্ধেক কিনতে সক্ষম হয়।
সভায় পাট শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরির নিশ্চয়তা ও পুনঃচালুকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলের মজুরি বৈষম্য ও চাকরি স্থায়ীকরণ, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি মিলে একই মজুরি প্রদান, অবিলম্বে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, অবসরোত্তর পাওনা পরিশোধ (শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিল, গ্র্যাচুইটি) মোড়ক আইন বাস্তবায়ন, পাট পণ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং লাভ জনক করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া মিল আধুনিকায়ন ও সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার, পাটপণ্য বাজারে বিক্রির জন্য প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা, কোটি কোটি টাকার অবিক্রিত পাট জাত পণ্য বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা, বিজেএমসিকে ঢেলে সাজানো, পাট মৌসুমে পাট ক্রয়ের জন্য সরকারি নির্দেশনা প্রদান, স্কুল সমূহে ছাত্রছাত্রীদের বইয়ের সাথে একটি পাটের তৈরি ব্যাগ প্রদান, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণ, নদী ভাঙন রোধে জিও জুটের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান আলোচকরা।
সভায় বক্তব্য রাখেন, সিরাজুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, মো. শফি, ফজলুল কবিরসহ বিভিন্ন পাট কলের প্রতিনিধিবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x