পাচারের অপেক্ষায় পাঁচ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর

লামা প্রতিনিধি

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ
57

লামা ও আলীকদম উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে আহরিত ৫ লক্ষাধিক ঘনফুট পাথর পাচারের জন্য মওজুদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বহিরাগত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় উপজেলা দুটির পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরি খুড়ে এ পাথর আহরণ এবং পাচার করছে। বিধি বহির্ভূতভাবে পাথর আহরণের ফলে প্রকৃতিতে পড়ছে এর বিরুপ প্রভাব। পাহাড়ি ঝিরির নুড়ি পাথরগুলোও কুড়িয়ে নিচ্ছে পাথর আহরণকারীরা। এর ফলে ঝিরিগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সূত্র জানায়, অবকাঠামো উন্নয়নে পাথরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পার্শ্ববর্তী চকরিয়া উপজেলার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট লামা ও আলীকদম উপজেলার কিছু ব্যবসায়ীর সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমোতি কিংবা লিজ গ্রহণ ব্যতীত উপজেলা দুটির বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ী ছড়া ও ঝিরি খুড়ে পাথর আহরণ ও পাচার অব্যাহত রেখেছে। আহরিত এসকল পাথর বিভিন্ন জায়গায় মওজুদ করার পর রাত-দিন লামা-ফাঁসিয়াখালী সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পথে চকরিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে পাচার অব্যাহত রেখেছে। জানা গেছে, সাধারণত বৈধ পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর আহরণের ক্ষেত্রে খাল, ঝিরি এবং নদী থেকে ভাসমান পাথর আহরণ ব্যতীত অন্য কোন পাথর আহরণ করা যাবেনা মর্মে বিধি নিষেধ রয়েছে। লেক বা ঝর্ণা হতে কোন প্রকার পাথর উত্তোলন করা যাবেনা। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোন রুপ পন্থা অবলম্বন করে পাথর উত্তোলন করা যাবেনা। এছাড়া পাথর উত্তোলনের এলাকার ঝিরিগুলো যাতে পানি শুকিয়ে না যায়, সে বিষয়টি খেয়াল রাখাসহ বিভিন্ন বিধি নিষিধ আরোপ করা হয়। পাথর আহরণকারীরা এসকল বিধি নিষেধ না মেনে পাহাড়ি ছড়া ও ঝিরির মাটি খুঁড়ে পাথর অহরণ করে থাকে। বিধি বহির্ভূতভাবে পাথর আহরণের ফলে একদিকে যেমন স্থানীয় পাহাড়ি ঝিরিগুলো শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্য হয়ে এলাকায় পানির সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রায় প্রতিটি ঝিরি শুকিয়ে এলাকায় পানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে পাহাড় ও ঝিরির মাটি খুঁড়ে পাথর আহরণের ফলে খুড়ে ফেলা কিংবা ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ী ঝিরি বেয়ে মাতামুহুরী নদীতে পড়ে নাব্যতা হারাচ্ছে। গত এক দশকে অস্বাভাাবিকভাবে মাতামুহুরী নদী নাব্যতা হারানোর জন্য পাথর অহরণকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্র গুলো জানিয়েছে, লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের কাঠাঁলছড়া, ইয়াংছা মেম্বার পাড়া, গুলির মাঠ, শামুকঝিরি, বদুরঝিরি, মিরিঞ্জা, বনপুর বাজার, ছমুখাল, পাইকঝিরি, ওয়াক্রা পাড়া, খ্রিস্টান পাড়া, মরার ঝিরি, চচাই পাড়া, কেরানী ঝিরি, কইতরের ঝিরি, বুদুম ঝিরি, চিনির ঝিরি, গয়ালমারা, বালস্ট কারবারী পাড়া ঝিরি, জোয়াকি পাড়া, বাঁকখালী ঝিরি, হরিণ ঝিরি, রবাট কারবারী পাড়া ঝিরি, বালুর ঝিরি, আলিক্ষ্যং ঝিরি হতে নির্বিচারে পাথর তুলে মজুদ করা হয়েছে। এছাড়া গজালিয়া ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড, নিমন্দ্র মেম্বার পাড়া, মিনঝিরি, ফাইতং রাস্তার মাথা, আকিরাম পাড়া, নাজিরাম পাড়া, ফাইতং ইউনিয়নের মিজঝিরি অংশ, লম্বাশিয়া, মেহুন্ধা খাল, শিবাতলী পাড়া এবং সরই ইউনিয়নের লুলাইং, লেমুপালং এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে আহরিত পাথর জমা করা হয়েছে। অপরদিকে, আলীকদম উপজেলার তৈন মৌজার ছোট ভরি, বড় ভরি, ঠান্ডা ঝিরি, মাংগু ঝিরির শাখা প্রশাখা, আলীকদম-থানচি সড়ক, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাট্টাখাইয়া সড়কের পথে পথে পাথরের স্তূপ, চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ভরিখাল, কলারঝিরির শাখা প্রশাখা, রেপারপাড়া এলাকার ডপ্রু ঝিরি, চিনারি দোকান এলাকার ভরিমুখ, মমপাখই হেডম্যান পাড়া, বাঘেরঝিরি এলাকা থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে পাথর আহরণ ও পাচার করছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। এছাড়া লামা বন বিভাগের মাতামুহুরী রিজার্ভ এলাকা থেকেও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছের বলে জানা গেছে। সরকারি অনুমতি ছাড়াই নির্বিচারে পাথর আহরণ করে উপজেলা দুটির এসকল এলাকায় ৫ লক্ষাধিক ঘণফুট পাথর পাচারের অপেক্ষায় মওজুদ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে লামা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইশরাত সিদ্দিকা বলেন, শীঘ্রই অবৈধভাবে পাথর আহরণ ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

x