পাখি দিয়ে পোকা দমন

সমির মল্লিক, খাগড়াছড়ি

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:৫০ পূর্বাহ্ণ
23

পাহাড়ে ধানের জমিতে চলছে পাখি দিয়ে পোকা দমন পদ্ধতি। এটা পাচিং নামে পরিচিত। কৃষকরা ধানের জমিতে পোকা দমনে কীটনাশকের ব্যবহারের পরিবর্তে পাচিং পদ্ধতিতে পোকা দমনে আগ্রহী হচ্ছে। এতে একদিকে ফসলে উৎপাদন খরচ কমেছে অন্যদিকে জমি ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার হচ্ছে না। পাচিং পদ্ধতিতে পোকা দমন বেশ কার্যকর হওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

কৃষকরা জানান, চার থেকে ছয় শতক জমিতে ৩৪টি গাছ বা বাঁশের ডাল বসানো হয়। এসব গাছে ফিঙে, সুইফোরা, খঞ্জন, শালিকসহ পোকাখেকো পাখি বসে। এরা ধানের জমিতে থাকা পোকার মথ, ডিম, কিরা ও পুত্তলি খাচ্ছে। এতে মাজরা পোকা, চুঙ্গি পোকা, লেদা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, শীষ কাটাসহ ক্ষতিকারক পোকা নিধন হচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনেক কৃষকের একমাত্র ভরসা পাচিং পদ্ধতিতে পোকা দমন। কৃষকদের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা কম হওয়ায় তারা এই পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। ফলে ধানক্ষেতে ব্যাপক হারে পোকা আক্রমণ করতে পারছে না। খাগড়াছড়ির অধিকাংশ এলাকায় পাচিং পদ্ধতিতে পোকা দমনের বিষয়টি দৃশ্যমান।

জেলার দীঘিনালা উপজেলার বড়াদাম এলাকার ধানচাষি সুকর্ন চাকমা, রেবতি চাকমাসহ কয়েকজন কৃষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে পাখি দিয়ে পোকা দমন করে আসছি। এতে কেবল জমিতে গাছের ডাল পুঁতে রাখলে তাতে পাখি বসে। পাখিরা ফসলের ক্ষতিকর পোকা খায়। এতে কোনো খরচ ছাড়াই ক্ষেতের পোকা দমন করা যায়। এটি বেশ কার্যকরী পদ্ধতি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ধানক্ষেতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মাজরা পোকা। এরা ক্ষেতের পাতা ছিদ্র করে বংশ বিস্তার করে। একটি মাজরার মথ থেকে ৩ শতাধিক বাচ্চা জন্ম নেয়। একেকটি পাখি গড়ে প্রতি মাসে কমপক্ষে দুই লক্ষাধিক পোকা ধ্বংস করে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজুর রহমান জানান, পাচিং পদ্ধতি হলো জমিতে ডাল পুঁতে রেখে পাখি বসার স্থান করে দেওয়া। তবে ধানের চারা রোপণের এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে ডাল পুঁতে দিতে হবে। আর এসব ডালে বসা পাখিরা জমির ফসলের জন্য ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। এতে পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা হয়।

কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় একদিকে যেমন খরচ বাঁচে, অন্যদিকে ক্ষতিকর বিষ থেকে রক্ষা হয় পরিবেশ। বিঘা প্রতি ৫ থেকে ৬টি ডাল অথবা বাঁশের কঞ্চি পাচিং করে দিলে আশপাশের কয়েক বিঘা জমির ধান ক্ষতিকারক পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচানো সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ফসলের উৎপাদন বাড়ে বলে জানান তিনি।

x