পাকিস্তান কি তাহলে ১৯৯২ বিশ্বকাপের পথেই হাঁটছে

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ১৪ জুন, ২০১৯ at ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ
19

১৯৯২ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান। সেবার ইমরান খানের হাতে উঠেছিল শিরোপা। ২২ গজের যুদ্ধ শেষে, ২২ বছর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে, পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ইমরান খান। তার উত্তরসূরিরা আরেকটি বিশ্বকাপের আসরে লড়ছে। ১৯৯২ এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ শেষ। তাতে পাকিস্তানের ফলাফল মিলে গেছে ১৯৯২ বিশ্বকাপের সঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবার প্রশ্ন, ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ দল হিসেবে পাকিস্তান কি এবার দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ শিরোপা জিতবে? অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের আয়োজনে ১৯৯২ বিশ্বকাপের মতো এবারো এক দল অন্যের প্রতিপক্ষ হয়ে লড়ছে। সেবার দল ছিল ৯টি। প্রতি দলের ম্যাচ ছিল আটটি করে। এরপর সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া চারটি দল উঠেছিল সেমি ফাইনালে। পাকিস্তান ৮ ম্যাচে চারটি জয় আর একটি পরিত্যক্ত ম্যাচের এক পয়েন্ট নিয়ে মোট পয়েন্ট পায় ৯। চতুর্থ দল হিসেবে উঠেছিল সেবারের সেমিতে। নিউজিল্যান্ড ১৪, ইংল্যান্ড ১১, দক্ষিণ আফ্রিকা ১০ পয়েন্ট নিয়ে সেমিতে পা রেখেছিল। এবারের বিশ্বকাপে দল মোট ১০টি। প্রতি দল একে অন্যের মুখোমুখি হবে, তাতে প্রতি দলের ম্যাচ হবে ৯টি করে।
সেবারের ফরম্যাটের মতো চলতি বিশ্বকাপে পাকিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। সেবার পাকিস্তানিদের ৫০ ওভারে সংগ্রহ করেছিল ২২০ রান। । উইন্ডিজরা কোনো উইকেট না হারিয়েই পাকিস্তানিদের উড়িয়ে দেয়। সেবার ১০ উইকেটে জিতেছিল ক্যারিবীয়ানরা। এবার জিতেছে ৭ উইকেটে। এবারো এক কথায় উড়ে গেছে পাকিস্তান। ২১.৪ ওভারে পাকিস্তান ১০৫ রানেই গুটিয়ে যায়। জবাবে ১৩.৪ ওভারে জয় তুলে নেয় উইন্ডিজ। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ম্যাচ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আমির সোহেলের সেঞ্চুরি আর ওয়াসিম আকরামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তান জিতেছিল ৫৩ রানে। এই বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে জিতেছে পাকিস্তান। স্বাগতিক ইংল্যান্ডকে হারিয়েছে ১৪ রানে। আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৮ উইকেটে তুলেছিল ৩৪৮ রান। জবাবে, ইংল্যান্ডের ইনিংস থামে ৩৩৪ রানে ।
১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের তৃতীয় ম্যাচ ছিল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেবার ৪০.২ ওভারে রমিজ রাজা, ইনজামাম, জাভেদ মিয়াদাদ, সেলিম মালিক, ইজাজ আহমেদরা মাত্র ৭৪ রানেই অলআউট হয়। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ইংলিশদের সামনে ১৬ ওভারে ৬৪ রানের টার্গেট দাঁড়ায়। ৮ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে গ্রায়েম গুচ, ইয়ান বোথামরা তোলে ২৪ রান। এরপর বৃষ্টি নামলে আর মাঠে বল গড়ায়নি। ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের তৃতীয় ম্যাচটি ছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বৃষ্টির কারণে এই ম্যাচটিও পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চতুর্থ ম্যাচটি ছিল চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে। ভারত আগে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ২১৬ রান। জবাবে, ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৮.১ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে পাকিস্তান তোলে ১৭৩ রান।
ভারত জেতে ৪৩ রানের ব্যবধানে। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের চতুর্থ ম্যাচটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আগে ব্যাট করে অজিরা ৪৯ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে তোলে ৩০৭ রান। ৪৫.৪ ওভারে পাকিস্তান অলআউট হওয়ার আগে তোলে ২৬৬ রান। অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জেতে ম্যাচটি।
১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পঞ্চম ম্যাচটি ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াসরা তুলেছিল ২১১ রান। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচটিতে ৩৬ ওভারে পাকিস্তানের টার্গেট দাঁড়ায় ১৯৪ রান। ৮ উইকেট হারানো পাকিস্তানের ইনিংস থামে ১৭৩ রানের মাথায়। প্রোটিয়াসরা ম্যাচটি জেতে ২০ রানের ব্যবধানে। এই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পঞ্চম ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে। সেই ম্যাচেও বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। তাছাড়া, ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ আসরে কখনোই জেতেনি পাকিস্তান। কে জিতবে সেটি বলার আগে ভাবতে হবে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কী না। আগামী ১৬ জুন ওল্ড ট্রাফোর্ডে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯২ বিশ্বকাপে পাকিস্তান নিজেদের ষষ্ঠ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৪৮ রানে হারিয়ে দেয়। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৪ উইকেটে আর অষ্টম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারায় পাকিস্তান। সেমি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ইমরান খানরা ফাইনালের টিকিট কাটে। ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২২ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে পাকিস্তান। এবারের আসরেও যদি সে রকম কিছু ঘটে তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

x