পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া

আজাদী অনলাইন

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
78

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পেরে উঠল না পাকিস্তান। সরফরাজ আহমেদের দলকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় তুলে নিল অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া। ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পরও ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রেখেও সফল হননি মোহাম্মদ আমির।

টনটনে বুধবার ৪১ রানে জিতেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ওয়ার্নারের ১০৭ ও ফিঞ্চের ৮২ রানের ইনিংসে অনেক বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগানো অস্ট্রেলিয়াকে এক ওভার বাকি থাকতে ৩০৭ রানে থামান আমির। বাঁহাতি এই পেসার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো নেন পাঁচ উইকেট। বিডিনিউজ

ইমাম-উল-হক ও মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাটে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড়ানো পাকিস্তান খেই হারায় মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে দারুণ লড়াই করেন সরফরাজ। তবে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কের দারুণ বোলিংয়ে ২৬৬ রানে পাকিস্তানকে থামিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।

ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে নিজের মন্থরতম ফিফটি করা ওয়ার্নার এদিন শুরু থেকে ছিলেন আক্রমণাত্মক। শুরুতে একটু ভুগছিলেন ফিঞ্চ। প্রথম পাঁচ ওভারে আমিরের দুটি ওভার মেডেন খেলেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

ফিঞ্চকে ভোগাচ্ছিলেন ওয়াহাব রিয়াজ। বাঁহাতি এই পেসারের বলে ২৬ রানে স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান ডানহাতি ওপেনার। মোহাম্মদ হাফিজের বলে ৪৪ রানে তার ক্যাচ ছাড়েন সরফরাজ। ৬৩ বলে ফিফটি করার পর রানের গতি বাড়ান ফিঞ্চ।

এবারের আসরে দুবার ওয়ানডেতে নিজের মন্থর ফিফটির রেকর্ড ভাঙা ওয়ার্নার শুরু থেকে ছিলেন স্বচ্ছন্দ। বাঁহাতি এই ওপেনার পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫১ বলে।

দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফিঞ্চকে বিদায় করে ১৪৬ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন আমির। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক ৮৪ বলে ছয়টি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৮২ রান। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

এসেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়েছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। তাকে বোল্ড করার পর সেঞ্চুরিয়ান ওয়ার্নারকে থামান শাহিন শাহ আফ্রিদি। ওয়ানডেতে ১৫তম সেঞ্চুরি পাওয়া ওয়ার্নারের ১১১ বলে খেলা ১০৭ রানের ইনিংস গড়া ১১ চার ও এক ছক্কায়।

দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় থাকা উসমান খাওয়াজা ও শন মার্শকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বড় একটা ধাক্কা দেন আমির। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফিঞ্চের দল।

৪৯তম ওভারে চার বলের মধ্যে অ্যালেক্স কেয়ারি ও মিচেল স্টার্ককে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানে থামান আমির। ৩০ রানে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার।

৩০ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ ৩১০ পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা।

শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ফখর জামানকে শূন্য রানে ফেরান কামিন্স। ন্যাথান কোল্টার-নাইলের বাউন্সারে ছক্কা হাঁকানোর চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ব্যাটিং ভরসা বাবর আজম।

তৃতীয় উইকেটে ইমাম ও হাফিজের ৮০ রানের জুটিতে ম্যাচে ফিরে পাকিস্তান। ২ উইকেটে ১৩৬ রানের দৃঢ় ভিতের ওপর থাকা দলটি দিক হারায় ছোট এক ধসে। ২৪ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট।

কামিন্সের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে ইমামের আউটে ধসের শুরু। এই ওপেনার ৭ চারে করেন ৫৩ রান। পরের ওভারে অনিয়মিত স্পিনার ফিঞ্চের ফুলটস বলে সীমানায় ধরা পড়েন হাফিজ। কামিন্সের বলে শূন্য রানে ফিরেন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। আসিফ আলিকে দ্রুত বিদায় করেন কেন রিচার্ডসন।

ক্রিজে গিয়েই বোলারদের ওপর চড়াও হন হাসান আলি। ১৫ বলে তিনটি করে ছক্কা-চারে খেলেন ৩২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। রিচার্ডসনের শর্ট বলে শেষ হয় তার পথচলা।

অষ্টম উইকেটে ওয়াহাবের সঙ্গে সরফরাজের ৬৪ রানের জুটিতে নতুন করে আশা জাগে পাকিস্তানের। অস্ট্রেলিয়ার জন্য চিন্তার কারণ হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন স্টার্ক। কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় রিভিউ নেয় অস্ট্রেলিয়া। তিন ছক্কা ও দুই চারে ৪৫ রান করে ফিরতে হয় ওয়াহাবকে। এক বল পর স্টার্ক বোল্ড করে দেন আমিরকে।

সরফরাজ ছিলেন বলে তবুও টিকে ছিল পাকিস্তানের আশা। অধিনায়ক রান আউট হলে ২৬ বল বাকি থাকতে গুটিয়ে যায় ১৯৯২ আসরের চ্যাম্পিয়নরা। টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হারের তেতো স্বাদ পায় তারা।

বিশ্বকাপে কখনও তিনশ ছাড়ানো রান করে জিততে পারেনি পাকিস্তান। এবার সম্ভাবনা জাগানো দলটিকে আগেই থামানোয় বড় অবদান কামিন্সের। ৩৩ রানে ৩ উইকেট নেন গতিময় এই পেসার। দুটি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও রিচার্ডসন।

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর নিজের প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া ওয়ার্নার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯ ওভারে ৩০৭ (ফিঞ্চ ৮২, ওয়ার্নার ১০৭, স্মিথ ১০, ম্যাক্সওয়েল ২০, মার্শ ২৩, খাওয়াজা ১৮, কেয়ারি ২০, কোল্টার-নাইল ২, কামিন্স ২, স্টার্ক ৩, রিচার্ডসন ১*; আমির ১০-২-৩০-৫, আফ্রিদি ১০-০-৭০-২, হাসান ১০-০-৬৭-১, ওয়াহাব ৮-০-৪৪-১, হাফিজ ৭-০-৬০-১, মালিক ৪-০-২৬-০)

পাকিস্তান: ৪৫.৪ ওভারে ২৬৬ (ইমাম ৫৩, ফখর ০, বাবর ৩০, হাফিজ ৪৬, সরফরাজ ৪০, মালিক ০, আসিফ ৫, হাসান ৩২, ওয়াহাব ৪৫, আমির ০, আফ্রিদি ১*; কামিন্স ১০-০-৩৩-৩, স্টার্ক ৯-১-৪৩-২, রিচার্ডসন ৮.৪-০-৬২-২, কোল্টার-নাইল ৯-০-৫৩-১, ম্যাক্সওয়েল ৭-০-৫৮-০, ফিঞ্চ ২-০-১৩-১)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ৪১ রানে জয়ী

ম্যান অভ দ্যা ম্যাচ: ডেভিড ওয়ার্নার

x