পাকিস্তানের বিপক্ষে সবকটি ম্যাচই জিততে চায় নারী দল

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৩:৫৮ পূর্বাহ্ণ
8

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এখন সাফল্যের চূড়ায় অবস্থান করছে। বিশেষ করে এশিয়া কাপ জয়ের ম্যধ দিয়ে নিজেদের অন্যভাবে চেনালো বাংলাদেশের নারীরা। ভারতের মত দলকে হারিয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে সালমারা। এরপর বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও ছিল সালমারা দুর্দান্ত। তাই এখন নারী দলকে নিয়ে দিন দিন যেন বাড়ছে প্রত্যাশার পারদ। এ বছরের শেষ দিকে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে নারী দল। তার আগে নিজেদের প্রস্তুত করে রাখতে চায় সালমারা। আর সে জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আনা হয়েছে পাকিস্তান নারী দলকে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে গড়াচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ ও সফরকারী পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার টিটোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের সবকটি ম্যাচই জিততে চায় নারী দল। গতকাল বৃহস্পতিবার মিরপুরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেকথাই জানালেন নারী দলের ইনচার্জ নাজমুল আবেদীন ফাহিম। এই অভিজ্ঞ ক্রিকেট সংগঠক বলেন আমরা যত ম্যাচ খেলব, তত অভিজ্ঞ হব। তবে সব ম্যাচ জিতে যাব বিষয়টা তেমন নয়। আমরা এখন খেলতে যাচ্ছি পাকিস্তান নারী দলের বিপক্ষে। আর পাকিস্তান কতোটা শক্তিশালী দল সেটা ওদের ফলাফলই প্রমাণ করে। তবে সামপ্রতিক সময়ে আমরা ভাল খেলছি। নিয়মিতই ভাল খেলছি। তিনি বলেন সামপ্রতিক সময়ে দলের পারফর্মেন্সে আমরা খুশি। আপাতত আমরা প্রতিটি ম্যাচই জেতার জন্য নামবো। যদি ভাল খেলি তাহলে অবশ্যই জিততে পারব। নিজের দলের ভালো দিকটা বোলিং বলে মনে করেন ফাহিম। বিশেষ করে স্পিনারদের কম্বিনেশন। আমাদের দলে লেগ স্পিনার আছে, রাইট আর্ম অফ স্পিনার আছে। এরা প্রত্যেকেই ভাল বল করে। গত তিন মাসে এরা যথেষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এছাড়া আমাদের পেস বোলাররা উন্নতি করেছে। তো সব মিলিয়ে আমি বলব বোলিংটা আমাদের বড় শক্তি। এছাড়া ব্যাটসম্যানরা কাজ করেছে ব্যাটিং নিয়ে। ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিক তা আমি বলব না। মোটামুটি একটা রান দাড় করানো যায় এখন। এছাড়া ফিল্ডিংয়ে সমপ্রতি উন্নতি হয়েছে। এছাড়া আরেকটি দিকে উন্নতি হয়েছে, তা হচ্ছে মেয়েদের ফিটনেস। রানিং বিটুইন দ্যা উইকেটে আমরা এখন সবল। আগে যেখানে দুই রানের জায়গায় এক রান হতো সেটা এখন আর হবে না। অতিরিক্ত ৫৭ বা ১০ রান আমরা পাবো ফিটনেস দিয়েই।

ফাহিম বলেন আমাদের দলের দুই ওপেনারই হার্ডহিটার। তাদের হিট করার ক্ষমতা খুব ভালো। এটা আমাদের ম্যাচে এগিয়ে নিয়ে যায়। এখনো আমাদের দলের স্ট্রাটেজি একই রকম থাকবে। আমরা চেষ্টা করব শুরু থেকেই আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে। আর এটা করতে না পারলে আমাদের জন্য কঠিন হবে বড় দলের সঙ্গে জেতা। মেয়েরা যেরকম পারফর্ম করে আসছে তাতে আশা করছি সামনেও ভালো পারফর্ম করবে। দলের সবচাইতে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সালমা খাতুন। তার কাধে আবার টিটোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব। ফাহিম জানান সালমা বোলিং ওপেন করছে। চার ওভার করে প্রতি ম্যাচেই বল করছে। সে আমাদের ওপেনার বোলার। আবার অধিনায়ক হলে যে ব্যাটিং উপরে করবে এমনটা না। ব্যাটিং ভাল করলেই উপরে উঠে আসবে। ও সমপ্রতি ভালো ব্যাটিং করেছে কিন্তু আমরা ওর পারফরম্যান্স সেভাবে দেখতে পাইনি। আর যেহেতু মিডল অর্ডার ভালো করছে তাই তাকে সাত বা আটে নামানো হয়। কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান নারী দলের টিটোয়েন্টি সিরিজ। ফাহিম বলেন আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল কক্সবাজারে খেলা। কেননা বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজে আমাদের সেই ধরণের পরিবেশে খেলতে হবে। এছাড়া কক্সবাজারে হোটেল থেকে মাঠ অনেক কাছে। যাওয়া আসাও বেশ সহজ। আর আবহাওয়ার বিষয়টাতো আমাদের হাতে নেই। তবে আশা করছি সেখানকার গ্রাউন্ড স্টাফদের সহযোগিতা পাব। তবে আমাদের সবচাইতে বড় লক্ষ্য পাকিস্তানের বিপক্ষে সব ম্যাচ জেতা। সেটা যেমন হোক কন্ডিশন কিংবা আবহাওয়া বা অন্যকিছু। আমরা মাঠেই নজর রাখতে চাই। ভুলে গেলে চলবেনা পাকিস্তান বেশ ভাল দল। তবে তাদের বিপক্ষে সেরা খেলাটা খেলতে হবে আমাদের। আর সে লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে নারীরা।

x