পাকিস্তানকে হারিয়ে জয়ে ফিরল অস্ট্রেলিয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
25

টপ ফেভারিট ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চমকে দেয়া পাকিস্তান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে বেগ দিতে পারেনি। টনটনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পাকিস্তানকে ৪১ রানে হারিয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টিতে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। অন্যদিকে ভারতের বিপক্ষে হারের হতাশা কাটানোর লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ডেভিড ওয়ার্নারের সেঞ্চুরির পর বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। মোহাম্মদ আমিরের বোলিং তোপে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ৪৯ ওভারে অলআউট হয় ৩০৭ রানে। জবাবে পাকিস্তান ৪৫.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় ২৬৬ রানে। এই জয়ে ৪ খেলায় ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বিপরীতে সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তানকে থাকতে হলো আগের আট নম্বরেই। ৩০৮ রানের লক্ষ্যের শুরুতেই ধাক্কা খায় পাকিস্তান। কোনও রান করার আগেই ফিরে যান ফখর জামান। ওই ধাক্কা অবশ্য আরেক ওপেনার ইমাম-উল-হক কাটিয়ে উঠেছিলেন বাবর আজমকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু নাথান কোল্টার-নাইলের বলে বাজে শট খেলে বাবর (৩০) আউট হলে আবারও ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। যদিও তাদের পথে ফিরিয়েছিলেন ইমাম ও মোহাম্মদ হাফিজ।
তৃতীয় উইকেটে তারা ৮০ রানের জুটি গড়ে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান পাকিস্তানকে। হাফসেঞ্চুরিও পূরণ করে নেন ইমাম। কিন্তু ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূরণের পর আর টিকতে পারেননি। প্যাট কামিন্সের শিকার হয়ে ৫৩ রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। হাফিজ হয়তো আক্ষেপে পুড়ছেন। অ্যারন ফিঞ্চের যে বলে তিনি আউট হয়েছেন, তা যে কোনও ব্যাটসম্যানের জন্য চরম হতাশার। ফুলটস বলটা দেখেশুনে উড়িয়ে মারলেন, কিন্তু জোর ছিল না। তাই মিচেল স্টার্কের হাতে সহজ ক্যাচ হয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ফিরতে হয় ৪৬ রান করে। আরেক অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক (০) আবারও ব্যর্থ। কামিন্সের বলে উইকেটরক্ষক অ্যালেঙ ক্যারির দুর্দান্ত ক্যাচ হয়ে ফেরেন তিনি। ব্যর্থতার মিছিলে হেঁটে আসিফ আলী (৫) প্যাভিলিয়নে ফিরলে অস্ট্রেলিয়ার জয়টা সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। ১৬০ রান তুলতে পাকিস্তান হারায় ৬ উইকেট। খেলার শেষদিকে চরম উত্তেজনা যোগ করেন দুই পেসার হাসান আলী ও ওয়াহাব রিয়াজ। তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দর্শকের ভূমিকায় ছিলেন ক্রিজের অন্য ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদ। হাসান আলী ১৫ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩২ রানের ইনিংস খেলে যাওয়ার পর তান্ডব চালান ওয়াহাব। তার ৩৯ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় খেলা ৪৫ রানের ইনিংসে পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে উঠেনি। ঐ দু’জনের বিদায়ের পর সরফরাজ আহমেদকে (৪০) রান আউট করে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারে ফিঞ্চরা। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল বোলার প্যাট কামিন্স। এই পেসার ৩৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২টি করে উইকেট পেয়েছেন মিচেল স্টার্ক ও কেন রিচার্ডসন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া পায় দুর্দান্ত শুরু। ভারতের বিপক্ষে মন্থর ব্যাটিংয়ে সমালোচনার শিকার ওয়ার্নার স্বরূপে ফিরে পান সেঞ্চুরির দেখা। তার সঙ্গে অ্যারন ফিঞ্চের উদ্বোধনী জুটিতে গড়া ১৪৬ রান বিশাল সংগ্রহের ইঙ্গিত দিলেও হয়নি তা। পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা সুবিধা করতে না পারায় ৪৯ ওভারেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা গুটিয়ে যায় ৩০৭ রানে। টনটনে মোহাম্মদ আমির দেখান তার জাদু। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছেন তিনি, তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দেখালেন আরও ভালো করে। এবারের বিশ্বকাপের তৃতীয় বোলার হিসেবে তিনি পূরণ করেছেন ৫ উইকেট। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ দিয়েছেন মাত্র ৩০ রান। যাতে ৩ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার এখন তিনিই। শুরুতে আমির ছাড়া পাকিস্তানের কোনও বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। ওয়ার্নার-ফিঞ্চের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। যদিও শুরুর দৃশ্যটা শেষে পুরোপুরি উল্টে যায়। পাকিস্তানের বোলারদের দাপটেই অস্ট্রেলিয়াকে থামতে হয়েছে ৩০৭ রানে। ধীরগতির শুরুর পর ফিঞ্চের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে বিশাল সংগ্রহের ভিত পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ওয়ার্নারের সঙ্গে তিনি গড়ে যান ১৪৬ রানের জুটি। ফিঞ্চ ৮৪ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৮২ রান করে ফেরেন আমিরের শিকার হয়ে। তিনি সেঞ্চুরি মিস করলেও ওয়ার্নার ভুল করেননি। তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২১তম সেঞ্চুরি। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ১১১ বলে খেলে যান ১০৭ রানের ইনিংস। শাহীন আফ্রিদির বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসের সমাপ্তির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহের আশাও শেষ হয়ে যায়। কারণ তার আগেই ব্যর্থ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন স্টিভেন স্মিথ (১০) ও গ্লেন ম্যাঙওয়েল (২০)। শন মার্শ (২৩) ও উসমান খাজা (১৮) চেষ্টা করলেও আমিরের দুর্দান্ত বোলিংয়ে বেশিদূর যাওয়া হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার শেষটাও পাকিস্তানি এই পেসার গুটিয়ে দেয় নিজের শেষ ওভারে অ্যালেঙ ক্যারি (২০) ও মিচেল স্টার্ককে (৩) আউট করে। ওয়ার্নার ও ম্যাঙওয়েলের দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েও শাহীন আফ্রিদি ১০ ওভারে খরচ করেছেন ৭০ রান। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হাসান আলী, ওয়াহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ হাফিজ। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচ সেরা হন।

x