পাঁচ সফল জয়িতার কথা

কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা : বাঁশখালী

সোমবার , ১ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
113

জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ শীর্ষক কার্যক্রমের আওতায় বাঁশখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে বাঁশখালীর পাঁচ সফল জয়িতাকে চি‎হ্িনত করা হয়েছে। যারা আপন কর্মে ও নিজ গুণে স্ব স্ব স্থানে যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তারা হলেন- অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে কালীপুর ইউনিয়নের পূর্ব কোকদণ্ডী গ্রামের মৃত শাহজাহানের স্ত্রী মালেকা বেগম। তিনি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করে ১৯৯৫ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ৩ সন্তানের জননী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও স্বামী মারা যাওয়ার ফলে জীবনটা অনেকটা থমকে যায়। পরে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে জাল বুনে পাখা এবং পাটি বানিয়ে ৩ সন্তানকে লেখাপড়া করান। এমনকি সন্তানদেরকে স্কুল কলেজে লেখাপড়া করিয়ে নিজে অসহায় অবস্থা থেকে দারিদ্রতাকে দূর করে অর্থনৈতিকভাবে সফল হয়েছেন। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে পৌরসভার দক্ষিণ জলদী এলাকার শিক্ষক স্বপনেন্দু দে’র কন্যা ডাঃ সুপর্ণা দে সিম্পু’র নামটি উঠে এসেছে। তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও প্রাথমিক জুনিয়র বৃত্তি, এসএসসিতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ২০০৫ সালে এইচএসসি পাস করে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার পর ২০০৭ সালে বিয়ে হয়। অনেক বাধা পেরিয়ে ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সে ডিগ্রি নিয়ে দুই সন্তানের জননী হয়েও বিয়ের ১০ বছর পর বিসিএস পরীক্ষায় সন্তান প্রসবের দিন অংশগ্রহণ করেও উত্তীর্ণ হয়ে বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ি উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন। সফল নারী হিসেবে কালীপুর ইউনিয়নের পালেগ্রাম গ্রামের মৃত নুরুল আমিনের স্ত্রী রিজিয়া বেগম স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যাওয়ায় লেখাপড়া করতে না পারলেও যৌথ পরিবারে বিয়ে হওয়ার পর বাড়ির বড় হিসেবে সংসারকে সামাল দিয়ে ৬ ছেলে ও ৩ মেয়ে সবাইকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন, সরকারি চাকরিজীবী হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার বড় ছেলে আ.ন.ম. সরোয়ার আলম চট্টগ্রাম ওমর গণি এমইএস কলেজের অধ্যক্ষ এবং মেঝ ছেলে আইন পেশার পাশাপাশি কালীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে শুরু করা নারীর স্বীকৃতি পেয়েছেন দক্ষিণ জলদীর শাহ আলমের স্ত্রী মিনু আক্তার। তিনি অভাব অনটনে বাবার সংসারে লেখাপড়া করার সুযোগ পায়নি। ১৭ বছর বয়সে রিকশা চালক স্বামীকে বিয়ে করেন। গর্ভে সন্তান আসার পর স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেলেও শ্বশুর বাড়িতে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। ছেলে সন্তানের জন্মের পর বাবা মা দুজনই মৃত্যুবরণ করলে পাঁচ ভাইবোনের দায়িত্ব নেন নিজে। বিভিন্ন অফিসে গৃহস্থালীর কাজ করে পাঁচ ভাই বোনকে লেখাপড়া শেখান। বর্তমানে নিজের ছেলেটি রাজমেস্ত্রীর কাজ করে এবং নিজে এখনও বিভিন্ন অফিসে বাবুর্চির কাজ করে জমি কিনাসহ নিজে বাড়ি করে সচ্ছল জীবন ধারণ করছেন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি পেয়েছেন সরস্বতী দেবী। বাঁশখালীর পূর্ব চাম্বল এলাকার সুনীল কান্তি নাথের স্ত্রী সরস্বতী দেবী। ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির আওতায় ১৫ বছর যাবৎ সমাজ উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন। বাল্য বিবাহ, যৌতুক প্রথা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সেবা, শিশু সন্তান ও মায়ের স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতন করা, পুষ্টি শিক্ষা প্রদান, সমাজের সামাজিক ও পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশেষ ভূমিকা রাখায় তিনি এলাকায় সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। যার ফলে বাঁশখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশের আওতায় তাদের সফল নারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাকেরা শরীফ বলেন, বাংলাদেশ সরকার মহিলাদের স্ব স্ব কাজে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর প্রতিটি উপজেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সফল জয়িতা হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাঁশখালীতে উপরোক্ত পাঁচ জনকে জয়িতা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, প্রতিটি কাজের স্বীকৃতি পাওয়া অনেক বেশি আনন্দদায়ক। তারই ধারাবাহিকতায় বাঁশখালীর পাঁচ জয়িতাকে সম্মাননা প্রদান করতে পেরে অনেক বেশি আনন্দ অনুভব করছি। যারা আপন কাজে নিজেদের যোগ্য করে তুলেছে।

x