পশুকে ভালোবাসি

আকতার হোসাইন

সোমবার , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৩১ পূর্বাহ্ণ
23

ঈদুল আযহা আসলে একটি কথা আমরা প্রায় সবাই বলি, ” আসুন, আমরা পবিত্র ঈদুল আযহার মহান ত্যাগ থেকে শিক্ষা নিয়ে মনের পশুত্বকে বিসর্জন/ বলি দিই”।
আমার মনে হয়, নিজেদের মহান দেখাতে গিয়ে প্রকারান্তরে আমরা অবোধ পশুকে অবমাননা করি। মানুষের সদগুণগুলোকে আমরা মনুষ্যত্ব বলি, তার বর্বর বা খারাপ আচরণগুলোকে আমরা পশুত্ব বলি। আসলে পশুত্ব কী। পশুর স্বভাব। পশুর কাছে আমরা নিশ্চয়ই মনুষ্যত্ব আশা করতে পারি না। এখন, যদি প্রশ্ন করা হয়, পশুর দোষনীয় স্বভাব কী? পশুরা বর্বর, কাপড় চোপড় পরে না, নিজেরা হানাহানি করে, এসব? ডাইনোসররা এক সময় নিজেদের মধ্যে হানাহানি করে নিজেরা সমূলে ধ্বংস হয়ে গেছে।
পৃথিবীর তাবৎ পশু প্রকৃতিপ্রদত্ত নিয়মবৃত্তে জীবনযাপন করে। তারা খাবারের প্রয়োজনে অন্য পশুকে হত্যা করতে বাধ্য হয়। প্রতিটি পশুজাতের নিজস্ব ধারার জীবনাচরণ আছে। বসবাস, খাদ্য, প্রজনন সবকিছুই তাদের প্রকৃতি নির্ধারিত। এর বাইরে, তারা কারো সাথেও নেই, পাঁচেও নেই। অথচ, আমরা কারণে-অকারণে মানুষকে কুকুর, শুয়োর, বানর, গরু, পাঁঠা,গাধা ইত্যাদি পশুর নামোল্লেখ করি গালাগাল করি। এবার মানুষকে একবার বিশ্লেষণ করি। সৃষ্টির কথিত সেরা জীব মানুষ নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সৃষ্টির আদিকাল থেকে আধুনিক সভ্যতা পর্যন্ত যখন যা কিছু প্রয়োজন, নিজের শক্তি সামর্থ অনুযায়ী সবকিছুই করেছে। প্রভাব প্রতিপত্তি, কর্তৃত্ব ও নিজের নাম প্রতিষ্ঠার জন্য এমন কোনও অপকর্ম ও নিষ্ঠুরতা নেই, যা মানুষ অবলীলায় করতে পারে না।এসবের ফিরিস্তি লিখতে গেলে কলমের কালি, কাগজের পৃষ্ঠা আর ডিজিটাল যুগে মেমোরির জিবি তে তা সংকুলান হবে না। সুতরাং, নিজেদের ভালো দেখানোর জন্য অবোধ পশুকে গালমন্দ না করে আসুন, আমরা নিজেদের ভেতরের অমানুষটাকেই চিহ্নিত করি। পশুকে ভালোবাসি।

x