পলিথিন : আজাদীর সম্পাদকীয় এবং প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

বৃহস্পতিবার , ২৭ জুন, ২০১৯ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
46

গত ১৮ জুন দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত ‘পলিথিনের উৎপাদনসহ যাবতীয় ব্যবহার বন্ধে উদ্যোগ নিতে হবে’ শীর্ষক সম্পাদকীয়’র জন্য সম্পাদক মহোদয়কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আইনগতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার মোটেও কমেনি বরং আগের চেয়ে বেড়েছে। সারাদেশে ছোট-বড় অন্তত: ১৩০০ কারখানায় পলিথিন ব্যাগ উৎপাদিত হচ্ছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়। পরিত্যক্ত পলিথিন নদী ও জলাধারগুলোতে জমা হয়ে মারাত্মক পানি দূষণের ফলে মৎস্যসহ জলজ প্রাণীর জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে পলিব্যাগ। শহরে জলাবদ্ধতা, নালা-নর্দমার পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা নদী দূষণের জন্য দায়ী এই পলিথিন। নাগরিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে পলিথিন ব্যাগ একটি বিড়ম্বনার নাম। মাঝে মধ্যে পলিথিনবিরোধী অভিযান পরিচালিত হতে দেখা গেলেও নগরের চারপাশে গড়ে ওঠা শত-শত পলিথিন কারখানা বহাল তবিয়তে তাদের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। অবৈধ কারখানায় পলিথিন উৎপাদন ও বিপণনের সুযোগ নির্বিঘ্নে রেখে শুধুমাত্র খুচরা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে পলিথিন ব্যবহার কমানো বা নিয়ন্ত্রণ করা যে সম্ভব নয় তা বলাই বাহুল্য। পলিথিনের নানামুখী প্রতিক্রিয়ায় নগর জীবনের বিড়ম্বনা ক্রমে বেড়েই চলেছে। একটি সাম্প্রতিক গবেষণা রিপোর্টের আলোকে পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে ৭৯ শতাংশ পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পানিতে মিশে জলজ প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পলিথিন থেকে সৃষ্ট নাগরিক বিড়ম্বনা এবং পরিবেশগত সংকট নতুন কোন বিষয় নয়। এ বিড়ম্বনা এড়াতে সরকারি উদ্যোগ কম দেখা যায় নি। কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। পলিথিন ব্যাগ সারাবিশ্বেই ব্যবহৃত হয়। উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সচেতনতা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের কারণে উন্নত দেশগুলোতে পলিথিন এমন ভয়ংকরী হয়ে উঠতে পারেনি। আইনগত নিষেধাজ্ঞা এবং লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন সহনীয় মাত্রায় কমানো যায়নি। নাগরিক জীবনে পলিথিন ব্যাগের বহুমুখী ব্যবহার উপযোগিতা ও সহজলভ্যতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। তাই অবৈধ পলিথিন কারখানাগুলো কঠোরহস্তে বন্ধ করে পাটজাত সোনালী ব্যাগের উৎপাদন বিপণন ও ব্যবহার বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। গত বছর ১৮ জুলাই রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প পাটের তৈরি সোনালী ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
– এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x