পর্যটন কেন্দ্রগুলো আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে

বুধবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ
18

২৭শে সেপ্টেম্বর ছিল বিশ্ব পর্যটন দিবস। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার আহ্বানে বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদার সংগে পালিত হয়। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএন ডব্লিউটিও) উদ্যোগে ১৯৮০ সাল থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘পর্যটন শিল্প বিকাশে তথ্য প্রযুক্তি’। এবারের প্রতিপাদ্যে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প উন্নয়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি আমাদের বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প বিকাশের সমূহ সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৪৭ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা খুব একটা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারেনি। এই খাতটি থেকে সরকারের বিপুল অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনা থাকলেও বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে।
বিশ্বে এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা পর্যটন আয়ের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ সে সব দেশের প্রধান আয়ের উৎসব হচ্ছে পর্যটন। সে সব দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে প্রতি নিয়তই ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে করে আরো বেশি সংখ্যক পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়। কেন না যত বেশী পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে তত বেশি আয় বাড়বে। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর পর্যটন ব্যবস্থার কাছাকাছিও আমাদের দেশের পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। যদিও বাংলাদেশে অসংখ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে। যার সৌন্দর্য বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু ঢেলে সাজানোর অভাবে বা উন্নয়ন না হবার কারণেই বেশি সংখ্যক পর্যটকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত কঙবাজার, পতেঙ্গা সী বীচ, রাঙা মাটি, পারকিরচর, সিলেটের জাফলং, জৈন্তাপাহাড়, টাংগাইলের মধুপুর, পটুয়াখালী, সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটা এলাকার মতো দেশের পর্যটন এলাকাগুলোকে উন্নত বিশ্বের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মতো আধুনিক করা হলে নিঃসন্দেহে পর্যটন থেকে আয় বর্তমান আয়ের চেয়ে দু’তিন গুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু সংখ্যক পর্যটন স্পট তৈরি করা যেতে পারে। আমরা মনে করি সীমিত সম্পদের আমাদের এই দেশের পর্যটন ব্যবস্থাকে উন্নত বিশ্বের ন্যায় গড়ে তোলা দরকার। তাই আমাদের জাতীয় আয় বৃদ্ধির জন্য পর্যটনকে সবিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। আমরা আশা করবো আমাদের পর্যটন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তরিকভাবেই এগিয়ে আসবেন।
এম.এ. গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবাণীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x