পর্যটকে মুখর কক্সবাজার একুশের বন্ধে হবে বাড়তি চাপ

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

সোমবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ
69

দেশের প্রধান অবকাশযাপন কেন্দ্র কক্সবাজারে এখন প্রতিদিন ভিড় করছে অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটক। আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে তা পেরিয়ে যাচ্ছে লাখ। গত শনিবার এবং আগেরদিন শুক্রবারও কক্সবাজারে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করায় হোটেল-মোটেলগুলোর প্রায় শতভাগ কক্ষ ভাড়া হয়েছে। শহরের রাস্তাঘাট, বিপণিকেন্দ্র ও সমুদ্র সৈকতসহ জেলার অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড়। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজেও টিকেট পাওয়া কঠিন। এই অবস্থায় একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের বাড়তি চাপ তৈরি হবে বলে জানান হোটেল মালিকরা।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে মাসাধিককাল ধরে খরায় ভোগা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প গতমাসের মাঝামাঝি সময় থেকে চাঙ্গা হয়ে ওঠতে শুরু করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফর, কর্পোরেট হাউস ও সংগঠনের সম্মেলনসহ নানা অনুষ্ঠান উপলক্ষে কক্সবাজার এখন জমজমাট। শহরের বৈকালিক সমুদ্র সৈকতে বসছে নানা বর্ণের-বয়সের হাজার হাজার মানুষের মিলনমেলা। অনেকেই দুইদিন-তিনদিন বা আরো বেশি সময় নিয়ে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে আসছেন। অনেকেই কক্সবাজারের পাশাপাশি ঘুরছেন পার্শ্ববর্তী বান্দরবানসহ পার্বত্য এলাকাও। আবার কিছু পর্যটক ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ হয়ে সেন্টমার্টিনে চলে যাচ্ছেন। তবে বেশিরভাগ পর্যটকই ঘুরছেন শহরের আশেপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে। বিশেষ করে ইনানী, হিমছড়ি ও টেকনাফসহ সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভে। তবে চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, মেদাকচ্ছপিয়া ন্যাশনাল পার্ক, রামু বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরসহ শহরের বাইরের অন্যান্য পর্যটনগুলোতে এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভীড় করছেন। যা সাপ্তাহিক ছুটির দিনে লাখ পেরিয়ে যায়। এ সপ্তাহের ছুটিতেও গত শুক্র-শনিবার শহরের চার শতাধিক হোটেলের প্রায় সকল কক্ষ ভাড়া হয়েছে। শহরের বাইরে হিমছড়ি, ইনানী, টেকনাফ, সেন্টমার্টিনসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও ছিল পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়। পর্যটকবাহী যানবাহনের চাপে শহর ও সাগরপাড়ের রাস্তাঘাট ও বিপণীকেন্দ্রের সামনে লেগে থাকছে মারাত্মক ট্রাফিক জ্যাম। রাস্তা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। পর্যটকদের চাপে স্থানীয়দের জন্য তৈরি হচ্ছে যানবাহন সংকট। এরপরও কক্সবাজারে হাজার হাজার পর্যটক আসায় শহরের ব্যবসায়ীরা বেশ খুশি।
সী-বীচ হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নুরুল আবছারের মতে, ‘নির্বাচনী খরা’ কেটে ওঠার পর চতুর্থ সপ্তাহের মতো গত শুক্র-শনিবার কক্সবাজারের হোটেলগুলো ছিল হাউসফুল। কক্সবাজারের চার শতাধিক আবাসিক হোটেল ও রেস্ট হাউসে সোয়া লক্ষাধিক মানুষের রাত যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ছুটির দিনে হোটেলে প্রায় কোন কক্ষ খালি থাকছে না।
ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক বাংলাদেশ) এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই এখন পর্যটকদের বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এসময় হোটেলে পছন্দ মতো কক্ষ পাওয়া, ঘোরাঘুরির জন্য ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া ও জাহাজের টিকেট পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের নতুন চাপ তৈরি হবে। টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনগামী ৫টি জাহাজের সকল টিকেট আগামবুকিং হয়ে গেছে। জাহাজে সিট না পেলে অনেকেই স্পীডবোটে অথবা কাঠের বোটে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে যাবে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবি আবুল কাসেম সিকদার বলেন, পর্যটকের ঢলে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে এখন দারুণ প্রাণোচ্ছ্বাস। এরই মাঝে একুশে ফেব্রুয়ারির ছুটিতে হবে নতুন জোয়ার!
তবে কক্ষ সংকট হলেও সমুদ্র সৈকতে চেয়ারে বা আশেপাশে নিজেদের মতো নির্বিঘ্নে ঘুরে রাত কাটানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্ট সমুদ্র সৈকতে চব্বিশ ঘন্টা পুলিশী নজরদারি রয়েছে। এছাড়া মেরিন ড্রাইভসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও পুলিশী টহল রয়েছে।

x