পরীক্ষা শেষের ভ্রমণ

দীপান্বিতা তিতলি

বুধবার , ৩০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
73

(৩২,২৪১)
দীর্ঘ ৫ বছর সাধনার পর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শেষ হলো। পরীক্ষা শেষ হয় ২৬ ডিসেম্বর। ২৮ তারিখে শুধু বাবা আর আমি দুপুর ১২:৩০ এর ট্রেনে করে ঢাকা পৌঁছালাম। ঢাকায় পৌঁছাতে আমাদের প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা ভ্রমণ করতে হয়েছিল। আমাদের ট্রেনটির নাম ছিল মহানগর প্রভাতী। কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছানোর পর পাশের একটা দোকানে বিকালের নাস্তা করে একটা রিকশায় করে নন্দি পাড়ার হাজী পানির পাম্পের ওখানে গিয়ে রিকশা থেকে নেমে মেজ ফুফির বাসায় গিয়ে ভাত খেলাম। ভাত খেয়ে মেজ ফুফির ছেলে হিমেল ভাইয়ার সাথে গল্প করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লাম। পরদিন সকাল ৮ টায় উঠে নাস্তা করে বের হলাম। সিএনজি করে পল্টনে গেলাম। পল্টনে নেমে আমরা সচিবালয়ে গিয়ে কিছুক্ষণ বসলাম। বাবা তাঁর কাজ সেরে আমাকে নিয়ে দুইতলা বিআরটিসি বাসে করে বসুন্ধরা সিটিতে পৌঁছালো। সেখানে গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়ে সিনেপ্লেক্সে গিয়ে সিনেমার টিকেট কিনে সিনেমা দেখলাম। সিনেমার নাম ছিল নাইট্রেকার। এটি একটি থ্রিডি অ্যানিমেশন সিনেমা। একটা সাধারণ মেয়ের রাজকন্যা হয়ে ওঠার গল্প এই সিনেমায় দেখানো হয়েছে। দেখে বেশ ভালো লাগল। সিনেমা দেখা হলে ঢাকার বাতিঘরে গিয়ে একটা ভূতের বই কিনে মেজ ফুফির বাসায় গেলাম। সেখানে গিয়ে হিমেল ভাইয়ার সাথে অনেকক্ষণ গল্প করে বাবার সাথে ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর দিন আমরা মেজ ফুফির বাসায়ই থাকলাম। সন্ধ্যা ৬ টায় আমরা বরিশালে যাওয়ার জন্য সদরঘাট রওয়ানা দিলাম। আমরা কীর্তনখোলা-১০ নামে একটা লঞ্চে উঠে কেবিন নিলাম। লঞ্চ ছাড়বে সাড়ে ৯ টায়। কিন্তু আমরা অনেকক্ষণ আগে এসেছি। তাই আমরা দুইজন মিলে পুরো লঞ্চটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম। লঞ্চে সেবার আমি প্রথম উঠেছিলাম। আমার কাছে টাইটেনিকের মতো বড় মনে হচ্ছিলো লঞ্চটাকে। লঞ্চ ছাড়ার পর আমরা মেজ ফুফির বাসা থেকে আনা খাবার খেয়ে নিলাম। খেয়ে রাতে ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ ভূতের বইটা পড়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে উঠে তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে লঞ্চ থেকে বের হলাম। তারপর একটা নৌকায় উঠে চর-কাউয়া খেয়া ঘাটে নামলাম। একটা রিক্সা ভাড়া করে তালুকদার হাটে নেমে বড় ফুফির বাসায় গেলাম। আমার বড় ফুফি বরিশালে তাঁর মেয়েকে নিয়ে থাকেন। আপুর নাম নিটোল। পৌঁছেই হাতমুখ ধুয়ে বাবার বন্ধু পারভেজ আঙ্কেল এবং মনি আন্টির সাথে মাধবপাশায় দুর্গা সাগর দেখতে গেলাম। সেখানে একটা খাঁচায় ৭-৮ টা হরিণ। দেখতে খুব সুন্দর সব ধরনের পাতা খায়। আশেপাশের গাছ থেকে পাতা এনে হরিণগুলোকে খাওয়ালাম। বেশ কিছু ছবিও তুললাম। দুপুরে আঙ্কেলের বাসায় খেলাম। খেয়ে বড় ফুফির বাসায় চলে গেলাম। যাওয়ার পথে নিটোল আপুর শ্বশুর বাড়ির জন্য মিষ্টি আর পান কিনে নিলাম। বড় ফুফির বাড়িতে পৌঁছে আমার একটু অসুস্থ লাগতে শুরু করে। তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম বাবার সাথে। ঘুম থেকে উঠে নাস্তা করে কিছুক্ষণ টিভি দেখলাম। দুপুরে ভাত খাওয়ার পর বাবার মামী আসে। আমাদের তখন গজনীর দিঘীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেই কথা শুনে দাদু আর বড় ফুফি মিলে গজনীর দিঘী নিয়ে জ্বিনের গল্প শোনাতে লাগল। যাওয়ার সময় আমি ভয়ে অস্থির। বড় ফুফি দোয়া পড়ে ফু দিয়েদিলো। এক ঘন্টার রাস্তায় গজনীর দিঘী পৌঁছানো গেল। যাওয়ার পথে বাবাকে আমার ভূত মনে হতে লাগল। কিন্তু দিঘীতে পৌঁছে ভয় কমে গেল। বড় ফুফির বাসায় গিয়ে কিছুক্ষণ গল্প করে ভাত খেয়ে নিলাম। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গিয়ে কিছুক্ষণ বই পড়লাম সকাল সাড়ে ৫ টায় ঘুম থেকে উঠে বরিশাল শহরে গিয়ে সঞ্চিতা নামে একটা ছোট লঞ্চে উঠে লক্ষ্মীপুরে নেমে পুলিশ অফিসার রানা আঙ্কেলের সাথে দেখা করে একটা হোটেলে খেয়ে বাসে উঠলাম। বাস সহজে পেতাম না। রানা আঙ্কেল সব ব্যবস্থা করে দেওয়ায় সহজ হয়ে যায়। বাসে ৪ ঘন্টা ভ্রমণের পর সিএনজিতে উঠে বাসায় যাই। এখানেই শেষ হয় আমার ঢাকা-বরিশাল ভ্রমণ। এই ভ্রমণের স্মৃতি আমার বহুদিন মনে থাকবে।

x